বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

সীমাহীন দুর্ভোগে চর ও দু’পাড়ের ১০ লক্ষাধিক মানুষ

মহামারি করোনার মধ্যে গাদাগাদি করে এভাবেই মার্কেটে কেনাকাটা করছে লোকজন। ছবিটি রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেট থেকে গতকাল রোববার তোলা -সংগ্রাম

গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী : জল ও স্থলপথ কোনটিই আর সচল নেই গাইবান্ধাসহ উত্তরজনপদের তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যুমনার অঞ্চলের নৌপথে। জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে ক্রমাগত নাব্য সংকটে প্রতিবছরেই নদীগুলো হারিয়ে ফেলতে তার স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগের সাথে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষজন।
গাইবান্ধা জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তার নদীর দু’পাড়ে ছোট-বড় ৯০টি নৌঘাট থাকলেও বর্তমানে কোমনতে ধুঁকে ধুঁকে সচল আছে মাত্র ১২টি। এতে করে, গাইবান্ধার জেলার সাথে পুর্বপাড়ের বাহাদুরাবাদ, রাজিবপুর, রৌমারী, চিলমারী, এরেন্ডাবাড়ি, মোল্লারচর, গুঠাইল ঘাটের নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা বলা চলে দৃশ্যত চলছে থেমে থেমে।
গাইবান্ধার ফজলুপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল উদ্দিন জালাল জানান, এবছর দুর্ভোগের শেষ নেই। ফজলুপুরের মানুষজন কিভাবে কোথায় দিয়ে প্রয়োজনে হাট বাজার, কোট-কাচারীতে আসছেন তার ঠিকানা নেই। বর্তমান চেয়ারম্যান আবু হানিফ প্রামানিক জানান, বালাসীঘাট ও ফুলছড়ি ঘাটের সাথে নৌপথ সচল না থাকায় মানুষজনের কষ্টের অন্ত নেই। হাট-বাজার, পড়ালেখা, চিকিৎসা, বেচা-কেনায় প্রচন্ড দুর্ভোগ পড়েতে হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন এবছর নদীতে পানি না থাকায় এই অবস্থা।
সাঘাটার দিঘলকান্দি গ্রামের শামসুল হক সরকার জানান, সাঘাটা বাজার কিংবা পুর্বপাশে ঘুঠাইল বাজারে যেতে হলে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটার হাত হচ্ছে।
এদিকে, চলতি মৌসুমে নদীগুলোর মেইনল্যান্ড থেকে কমপক্ষে ৫ কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ায় চরম ভোগান্তি পড়েছে জেলার চরাঞ্চলের প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে মানুষজন বিকল্প হিসাবে পায়ে হেটে, ঘোড়ার গাড়ি আবার কখনও অটো বাইকে, কাকড়া (ট্রাক্টর) চরে ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার অতিক্রম করে প্রয়োজনের তাগিদে নৌঘাটে পৌঁছাঁতে হচ্ছে। এতে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও। মোল্লার চরের হামিদা বেগম জানান, নদীতে পানি না থাকায় দরিদ্র মানুষের আরো বেশি সমস্যা হয়েছে। নৌকা ও ঘোড়ার গাড়িতে আরো বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, তবে, পরিবর্তনজনিত জলবায়ুর সাথে তাল মিলিয়ে জীবন গড়তে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। কেননা এমন পরিস্থিতিই এখন জীবন বলে তিনি জানান।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন জানান, উত্তরাঞ্চলের মানুষের সাথে জামালপুর, ময়মিনসিংহসহ ঢাকার সাথে নৌ যোগাযোগ সবসময় সচল রাখতে নদীগুলো খনন করার জন্য ইতোমধ্যে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। কিভাবে মানুষের এই দুর্ভোগ হ্রাস করা যায় এনিয়েও সরকার ভাবছে বলে তিনি জানান।
নদী ড্রেজিং এর মাধ্যমে নৌপথগুলো সচল থাকলে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের ৪ লক্ষাধিক মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি পূর্বপাড়ের জেলা জেলা জামালপুর, শেরপুর, ময়মিনসিংহ ও ঢাকার সাথে রংপুর বিভাগে মানুষজন যোগাযোগ সুবিধা পাবে এমনটাই দাবি সকলের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ