বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
Online Edition

লকডাউনে ভার্চুয়াল বেঞ্চ বাড়ানোর দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: করোনা পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চুয়াল বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো এবং অধস্তন আদালত (জেলা জজ ও দায়রা জজ) খুলে জামিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুনানির অনুমতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ আইনজীবীরা।
গতকাল রোববার দুপুরে সাধারণ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতি বরাবর চিঠি দেয়া হয়। এরপর লকডাউনে হাইকোর্টের ৩৫টি ভার্চুয়াল বেঞ্চ খোলা রাখতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন আইনজীবীরা।
এ সময় দেশের সব ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আত্মসমর্পণের সুযোগ করে দেয়া, আসামিদের জামিন শুনানি, নতুন মামলা ফাইলিং ও শুনানির ব্যবস্থা করাসহ সব জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও ট্রাইব্যুনালসমূহে সব ধরনের শুনানির ব্যবস্থা করার দাবিও জানান তারা।
মানববন্ধনে আইনজীবীরা বলেন, কোনো অবস্থাতেই সাংবিধানিক আদালত বন্ধ থাকতে পারে না- প্রধান বিচারপতি নিজেই বলেছেন। এখন আবার তিনিই আদালত বন্ধ রেখেছেন। বিচার প্রার্থী জনগণের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আদালত চালু রাখতে হবে। করোনায় ৩৫টি ভার্চুয়াল বেঞ্চ চালু রাখার সক্ষমতা আছে সুপ্রিম কোর্টের। এটা অতীতে প্রমাণিত হয়েছে।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি লকডাউনে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের জন্য চারটি ভার্চুয়াল বেঞ্চ গঠন করেছেন। আমরা সুপ্রিম কোর্টের কয়েকশ আইনজীবী অতি দুঃখের সঙ্গে ঘোষণা করতে চাই, ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে সুপ্রিম কোর্ট ৩৫টি ভার্চুয়াল বেঞ্চ পরিচালনায় সক্ষম। কিন্তু এবার লকডাউনে কেন শুধু চারটি বেঞ্চ গঠন করা হলো তা আইনজীবী-বিচারপ্রার্থীরা প্রধান বিচারপতির কাছে জানতে চান। কেন অধস্তন আদালতে একটি মাত্র কোর্ট খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখা হলো তা ৬০ হাজার আইনজীবী জানতে চান।
সাধারণ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ড. মোহাম্মদ মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদীর নেতৃত্বে এই চিঠি দেয়া হয়। এ সময় অ্যাডভোকেট রফিকুল হক তালুকদার রাজা, অ্যাডভোকেট বাদল, ব্যারিস্টার এবিএম গোলাম মাওলা তাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত ৪ এপ্রিল কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের চারটি বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরদিন (৫ এপ্রিল) এ বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লকডাউন চলাকালে হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চুয়ালি চারটি বেঞ্চ এবং সপ্তাহে দুদিন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারিক কার্যক্রম চলবে। পাশাপাশি দেশের অধস্তন আদালতসমূহের মধ্যে জেলা ও মহানগর প্রতি একজন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা জরুরি বিষয়ে বিচারকাজ পরিচালিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ