বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
Online Edition

করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির জন্য সরকারের অযোগ্যতাই দায়ী

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন উদাসীনতা, অযোগ্যতা ও সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছে বিএনপি। শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে দায়ী করে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করে, ২০২০ সালের মার্চ মাস হতে যথেষ্ট সময় হাতে পাওয়ার পরেও সরকারী হাসপাতালগুলোতে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বেড, অক্সিজেন, আইসিইউ, ভেন্টিলেটর সংযোজন করতে সরকার ব্যর্থ হয়।
শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায়  ব্যরিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সারা দেশে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রমন আশংকাজনক হারে দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সংক্রমনের হার ও মৃত্যুর হার গত যে, আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তা ইতিমধ্যেই জনগণের মধ্যে ভীতি ও আতংকের সৃষ্টি করেছে। সরকার স্বাস্থ্য সেবায় চরম দূর্নীতি এবং কোভিড-১৯ এবং চিকিৎসা নিয়ে যে ব্যাপক ভয়াবহ দূর্নীতি করেছে তারই ফলশ্রুতিতে আজকে করোনায় চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে। সভা মনে করে, সময়মত লকডাউন ঘোষণা না করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে সাহায্য করেছে। লকডাউন ঘোষণা করার পরেও গণপরিবহণ চালু করা, শপিংমল, দোকানপাট খুলে দেওয়া এবং গার্মেন্ট চালু রাখা প্রমান করেছে যে সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়ের অভাবে জনগণের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে চিকিৎসার জন্য জরুরী ভিত্তিতে মেকশিপট হাসপাতাল তৈরী করা, যথেষ্ট পরিমানে বেড, অক্সিজেন সরবরাহ, আইসিইউ এবং ভেন্টিলেটর এর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সভা মনে করে ১৪ এপ্রিল হতে যে লকডাউনের প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে দিন আনে দিন খায় মানুষ, নিম্ন আয়ের মানুষ ও সব পেশার শ্রমিকদের ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরীর ঢাকা সফর নিয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট  জো বাইডেনের ৪০টি দেশের নেতৃবৃন্দর শীর্ষ বৈঠককে সময়োচিত বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশ জয়বায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ভুক্তভোগী দেশ এবং অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পরিবেশ, জীব বৈচিত্র এবং সমুদ্র উপকূল এলাকা ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে এ বিষয়ে সরকারী উদ্যোগ আরও অনেক বাড়ানো উচিত বলে সভা মনে করে। সভা মনে করে এই সরকার দুর্নীতি গ্রস্থ হওয়ার কারনে ইতি মধ্যে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল হতে প্রাপ্ত অনুদান নিয়ে ব্যাপক দূর্নীতি হয়েছে এবং বেশ কিছু অংশ ফেরত গেছে।  এই বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য ও প্রস্তাব নিয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের নিকট শীতলক্ষ্যা নদীতে বাগেরহাট-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যাওয়ায় প্রায় ৩৫ জনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। এই ঘটনার দায়ী জাহাজের মালিক অথবা চালক কারও বিরুদ্ধেই মামলা না করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। অবিলম্বে মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয়। ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সংঘটিত ঘটনায় প্রায় ১১টি মামলায় ১৭ হাজার মানুষকে আসামী করায় এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে সালথা থানায় চরম নির্যাতন চালানোর তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয় এবং নিরপেক্ষ তদন্ত অনুষ্ঠানের দাবী জানানো হয়। সভায় এই ভয়াবহ করোনার মধ্যেও দেশব্যাপী বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে তাদের বাসা বাড়ীতে, পাড়া-মহল্লায় অভিযান পরিচালনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই গ্রেফতার, হয়রানী বন্ধ এবং গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ