বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

লকডাউনের আগাম ঘোষণায় রাজধানীর মার্কেটগুলোতে ঈদের কেনাকাটা

মহামারি করোনার মধ্যে গাদাগাদি করে এভাবেই মার্কেটে কেনাকাটা করছে লোকজন। ছবিটি রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেট থেকে গতকাল রোববার তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: গতকাল ছিল করোনার সংক্রমণ রোধে এক সপ্তাহের লকডাউনের শেষ দিন। একই সাথে দোকানপাট ও মার্কেট খোলার ছিল তৃতীয় দিন। শুক্রবার শনিবারের মত গতকাল রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মার্কেটগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়, যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতারা যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঈদের আমেজে কেনাবেচায় লিপ্ত হয়েছেন।
 গতকাল রোববার সকাল থেকে মিরপুর, ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ড রোড, নিউমার্কেট এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা আসতে পারে ভেবে মানুষ হুমড়ি খেয়ে মার্কেটে নেমেছেন। তাই তারা স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে কেনাকাটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আবার বিক্রেতারাও অধিক লাভের আশায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানার মার্কেট কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। আর ক্রেতারা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা মার্কেট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।
গতকালও স্যায়েন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, গাউছিয়া ও নিউমার্কেট এলাকায় ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতা-বিক্রেতারা কেনাবেচায় এতটাই মশগুল যে কারোই স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা মনে থাকেনি। কেউ মাস্ক পরলেও সেগুলো মুখের নিচে থুতনিতে অথবা কানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছেন। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ সময় মাস্ক পরে থাকলে গরম লাগে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। যার কারণে নাক-মুখ থেকে মাস্ক কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে রাখেন। এই মার্কেটগুলোর দোকানে প্রবেশের সময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করারও কোনো ব্যবস্থা চোখে পাড়েনি। কিছু দোকানে স্যাভলন মিশ্রিত পানি দেয়া হলেও বেশির ভাগ দোকানে সেটাও করা হচ্ছে না।
গাউছিয়া মার্কেটে দুই মেয়েকে নিয়ে এসেছেন নিলুফার রহমান। তিনি বলেন, আসলে করোনার মধ্যে বের হওয়া ঠিক হয়নি। কিন্তু কী করব, শোনা যাচ্ছে ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোরভাবে লকডাউন দেয়া হবে। সে সময় তো আর মার্কেট খোলা থাকবে না। তাই মেয়েদের কিছু কাপড় ও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বের হতে হয়েছে। তিনি বলেন, মার্কেটগুলোতে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করার তেমন কেনো ব্যবস্থা নেই। তাই নিজেরাই স্যানিটাইজার সাথে করে নিয়ে এসেছি।
অপর ক্রেতা আলম জানান, তিনিও একজন ব্যবসায়ী। ১৪ তারিখ লকডাউন ঘোষণা হলে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা চলে যাবেন। ঈদের আগে আর ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা নেই। কারণ লকডাউন দিলেও ফিরে লাভ হবে না। দোকান খুলতে পারব না। তাই মার্কেট বন্ধ হওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে বের হয়েছি। নিউমার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছর থেকেই তাদের কেনাবেচা প্রায় বন্ধ রয়েছে। সাধারণত ঈদুল ফিতরের সময়ই তাদের বেচাবিক্রি ভালো হয়। এ বছরও করোনার যে পরিস্থিতি তাতে ঈদে বিক্রি করতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। তাই সরকারের কাছে আবেদন করে দোকান খোলার অনুমোদন নিয়েছি। এক দিন যদি ঠিকমতো বিক্রি করতে পারি, তাহলে কিছুটা হলেও এগোতে পারব।
স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তিনি বলেন, যতদূর সম্ভব চেষ্টা করছি স্বাস্থ্যবিধি মানার। তবে এক সাথে যখন অনেক ক্রেতা ঢুকে পড়ে তখন কিছুটা বিঘ্নিত হয়। মার্কেটের সামনে হাত ধোয়া স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা নিয়ে অপর এক বিক্রেতা বলেন, গত বছর হাত ধোয়ার জন্য দোকানগুলোর সামনে সাবান-পানি রাখা হয়েছিল। কিন্তু ক্রেতারা সেগুলো ব্যবহার করতেন না। যার কারণে অযত্নে সেই ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে যায়। এ বছর এখনো হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আলাদাভাবে করা হয়নি। তবে স্যানিটাইজার দেয়া হয়।
এদিকে মিরপুরের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে রাখা হয়েছে সাবান ও পানি। কিন্তু বেশির ভাগ ক্রেতাই হাত না ধুয়ে মার্কেটে প্রবেশ করছেন। মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ড আব্দুল বাতেন বলেন, মার্কেট খোলার পর থেকেই হাত ধোয়ার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা হাত ধুতে চান না। তাদের হাত ধুতে অনুরোধ করলে তারা উলটো আমাকে হাত ধুতে বলে। তবে কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, তারা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাটা দেখতে পাননি।
মিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, হাত ধোয়া কিংবা স্যানিটাইজারের কোনো ব্যবস্থা নেই। আর মার্কেটের ভেতরেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মার্কেট কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতাও চোখে পড়েনি। এই মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ড পান্না বলেন, শুক্রবার মার্কেট খুললেও স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা কিংবা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা মার্কেট থেকে করা হয়নি।
মিরপুর নিউমার্কেটের প্রবেশমুখে নেই কোনো জীবাণুনাশক যন্ত্র কিংবা হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। নেই শরীরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র কিংবা স্যানিটাইজার। মার্কেটের সিকিউরিটি ইনচার্জ মহিবুল আলম বলেন, মার্কেট খোলার পর থেকে হাত ধোয়া স্যানিটাইজার কিংবা জীবাণুনাশক কোনো যন্ত্র এখানে বসানো হয়নি। ব্যতিক্রম দেখা গেছে, মিরপুর শপিং সেন্টারে। সেখানে প্রবেশের সময় ক্রেতাদের জীবাণুনাশক যন্ত্র ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। এছাড়া স্যাভলন মিশ্রিত পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে থাকা শোরুমগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ