সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

তুরস্ক সফরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট 

১১ এপ্রিল, আল-জাজিরা, পার্স টুডে: রাশিয়ার সঙ্গে তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই তুরস্ক সফরে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। গত শনিবার ইস্তাম্বুলে পৌঁছে তুর্কী প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন তিনি। এর আগে গত শুক্রবার রাতে এরদোগানকে ফোন করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এ সময় এ অঞ্চলের বিদ্যমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। পুতিনের কাছে আঙ্কারার অবস্থান স্পষ্ট করেন তুর্কী প্রেসিডেন্ট।

রুশপন্থি গেরিলাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিয়ে দনবাস এলাকা নিয়ে সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা প্রকট আকার ধারণ করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউক্রেন সীমান্তে সেনা সমাবেশ করেছে মস্কো। রাশিয়ার পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রুশ কর্মকর্তা দিমিত্রি কোজাক-এর ভাষায়, ‘একটা গুলীও পায়ে নয়, মুখে চালানো হবে।’ এমন পরিস্থিতিতে মিত্র দেশ তুরস্কে ছুটে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

ইস্তাম্বুলে দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক শেষে এরদোয়ান জানান, উদ্বেগজনক এই উত্তেজনা নিরসনে তার দেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেন, এ অঞ্চলের বিদ্যমান হুমকি এবং এসব হুমকি মোকাবিলার ব্যাপারে কিয়েভ ও আঙ্কারা একই মনোভাব পোষণ করে। দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান আশাবাদ জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখ-তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কূটনৈতিক রীতিনীতির ভিত্তিতে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে এ সংঘাতের অবসান ঘটবে।

ইস্তাম্বুলে দুই নেতার বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার উসকানি ও সেটি মোকাবিলার উপায়। এর বাইরে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য, পর্যটন ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন এরদোয়ান-জেলেনস্কি।

দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা বসফরাস প্রণালি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ কৃষ্ণ সাগরে প্রবেশ করেছে। তুর্কী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৪ মে পর্যন্ত কৃষ্ণ সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দুটি অবস্থান করবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এরদোয়ানকে ফোন করে ইউক্রেন সংকট এবং কৃষ্ণ সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে কথা বলেন পুতিন। এ সময় এরদোয়ান রুশ প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে সহযোগিতার অর্থ এই নয় যে আঙ্কারা মস্কোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সরাসরি কোনও পক্ষ না নিয়ে তুরস্ক এ অঞ্চলে মধ্যস্থতাকারী বা শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। তবে দেশটির প্রচেষ্টা এ অঞ্চলে উত্তেজনার পারদ কমাতে কতটা কার্যকর হবে সেটি সময়ই বলে দেবে।

এদিকে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল। অন্যদিকে রাশিয়ার উসকানি সত্ত্বেও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ মাসের শেষদিকে ইইউ’র ২৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছেন ইইউ’র বৈদেশিক নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল। সূত্র: আল জাজিরা, পার্স টুডে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ