সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা গণহত্যা চালাচ্ছে

১১ এপ্রিল, নিউজ নাও, ইয়ন, দ্য গার্ডিয়ান, নিউ ইন্ডিয়া লাইফ : মিয়ানমার সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছে। এমন অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

মিয়ানমার ভিত্তিক গণমাধ্যমকে এক আন্দোলনকারী বলেছেন, এটি গণহত্যার সামিল। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ছায়া দেখলেও গুলী করছে। এর আগে শনিবার মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় শহর বাগোতে সামরিক বাহিনীর গুলীতে ৮০ জনের বেশি নাগরিক নিহত হয়।

অভিযোগ উঠে, হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর মরদেহগুলী সরিয়ে ফেলে সেনাবাহিনী। হত্যাযজ্ঞের পর বাগো এবং ইয়াঙ্গুন শহর থেকে জনগন পালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্টেন্স অ্যাসোসিয়েশন অব পলিটিক্যাল প্রিজনার্স দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ছয় শতাধিক জনগনকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। 

সেনাবাহিনীর নৃশংসতার লক্ষ্যবস্তু এবার স্বাস্থ্যকর্মীরা: জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন মিয়ানমারের চিকিৎসকরা। সেনাবাহিনীর আক্রমণে আহতদের সেবায়ও এগিয়ে আসছেন তারা, এতেই হয়েছে কাল। জান্তা বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য এখন চিকিৎসকদের থামানো। তাই স্থানীয়দের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, তাদের ওপর আকস্মিক আক্রমণ করছে সেনাবাহিনী। রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলী ছোঁড়া হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতেও অভিযান চালানো হচ্ছে। সেখানে ঢুকে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মারধর করছে সেনারা, এতে অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।

এদিকে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানানোয় দেশটির সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাও এই নৃশংসতার শিকার হচ্ছেন। রাতে চিকিৎসকদের হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সকালে তাদের বাড়িতে রেখে যাওয়া হচ্ছে। তবে অনেক চিকিৎসক এরপর নিখোঁজ হয়েছেন বলেও দাবি অনেকের।

এনিয়ে ইয়াঙ্গুনের এক চিকিৎসক বলেন, আপনাকে যদি আজকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে পরদিন নির্যাতনের চিহ্নসহ আপনার মরদেহ পাওয়া যাবে। এখন আমাদেরই নিরাপত্তার অভাব। 

অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় আহত নাগরিকদের চিকিৎসা দেয়ায় ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে মিয়ানমার জান্তা সরকার। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, সেনাবাহিনী তাদের ফাঁদে ফেলার ছক কষেছে।

সম্প্রতি এক বিক্ষোভে এক নারী ও তার স্বামীকে নিরাপত্তা বাহিনী গুলী করলে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এই সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের জানান, কিছু সেনা সদস্য ওৎ পেঁতে রয়েছে। ওই ডাক্তাররা পরে প্রায় ১ ঘণ্টা লুকিয়ে সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন। এক উদ্ধারকর্মী দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘যদি আমরা তাকে উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দিতে পারতাম তবে ওই নারী বেঁচে যেতেন।’ মিয়ানমারের কয়েকজন ডাক্তার বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের নিয়মিত হয়রানি করছে। সংঘর্ষের সময় আহতদের যাতে চিকিৎসা দিতে না পারি সেজন্য সরাসরি আমাদের বাধা দিচ্ছে। সেনাবাহিনী অ্যাম্বুলেন্সেও গুলী জানিয়েছে। হাসপাতাল ও মেডিক্যাল সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন।

সরকারি ডাক্তারদের তালিকা করে তাদের ওপর নজরদারী করা হচ্ছে। যারা অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হচ্ছে। রাতের শিফটে কাজ করার সময় কয়েকজন ডাক্তারকে মেডিক্যাল সেন্টার থেকে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুনের এক ডাক্তার বলেন, ‘যদি আপনাকে আজ আটক করা হয় তবে কাল আপনার নির্যাতিত দেহ ফিরে আসবে। এটাই এখন স্বাভাবিক।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৪৩জন শিশুসহ ৭০২জন প্রাণ হারিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ