বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
Online Edition

বাংলাদেশ কোনো খুনির দেশ নয় -প্রধান বিচারপতি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো খুনির দেশ নয়। এটা বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ। এটা আমরা অবশ্যই রক্ষা করব। বিচার বিভাগ এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে, এটা আমি আপনাদের কথা দিতে পারি।
গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সংবিধান, আদালত এবং মুক্তিযুদ্ধের নারী ও শিশুদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের লেখা ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ একজন যুদ্ধ শিশুর গল্প ও অন্যান্য’ এবং হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের লেখা ‘বঙ্গবন্ধু সংবিধান আইন আদালত ও অন্যান্য’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ছাড়াও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে দুই বিচারপতির লেখা বই দুটি নিয়ে বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, লেখক-প্রকাশক ও গবেষক মফিদুল হক, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, সাহিত্যিক আনিসুল হক ও বই দুটির প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আহমেদ মাহমুদুল হক। এছাড়া অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে কথা বলেন লেখক দুই বিচারপতি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রোকসানা পারভীন কবিতা। ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিকরা যুক্ত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানটির আয়োজন খুব সুন্দর হয়েছিল। সেখানে বিদেশি অনেক অতিথি এসেছিলেন। অনুষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব মেনে একটি ব্যাংকুয়েটের আয়োজন ছিল। আমার টেবিলের পাশে মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি এবং আমাদের দেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতির স্ত্রী, পাশাপাশি টেবিলে বসেছিলাম। সেখানে মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি আমার কাছে বললেন, তিনি বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেছেন। তিনি আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, সেই হত্যার বিচার হয়েছে কি না।
প্রধান বিচারপতি ওই দিনের বর্ণনা দিয়ে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বলেন, আমি তাকে বলেছি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সাধারণ আদালতে হয়েছে। রায়ে সকল আসামীর ফাঁসির রায় হয়েছে। এরপর সেটি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিয়ে আপিল বিভাগে সেই ফাঁসির রায় বহাল রয়েছে। তিনি বলেন, আমি উনাকে জানিয়েছি, খুনিদের ফাঁসি হয়েছে, দুই-তিনজন আসামী এখনো বিদেশে পলাতক রয়েছে। সরকার ওই আসামিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা আমরা বিদেশিদের ওইভাবে জানাতে পারিনি। এই দুই বিচারপতির লেখা বই, দেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা জাগ্রত করতে হলে সকলের সামনে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদে বলা আছে দেশের নির্বাহী বিভাগসহ সবাই সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, যেখানে নির্দেশ পালনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। সেখানে কেন আমাদের আবার তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল ইস্যু করতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের সবার দায়িত্ব হলো সুপ্রিমকোর্টের রায় কার্যকর করা। আমরা কন্টেম্পট করে করে হয়রান। কন্টেম্পট করেও প্রপারলি রায় কার্যকর যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না। এটা এখন দুঃখের বিষয়।
প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকারি সম্পত্তি তো আসলে সরকারি না। সম্পত্তির মালিক হলো জনগণ। সরকার হলো সংরক্ষণকারী। জনগণের পক্ষে সরকার সম্পত্তি সংরক্ষণ করে। এই সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ করা কিন্তু সকলের দায়িত্ব। আমি বলতে চাই, আমাদের যেসব রায় হচ্ছে আশা করি নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রত্যেকটা রায় বাস্তবায়িত হবে।
বই দুটি বইমেলায় মাওলা ব্রাদার্সের স্টলে এবং অনলাইনে পাওয়া যাবে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের বুক কর্নারেও বই দুটি পাওয়া যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ