বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
Online Edition

আ’লীগ সরকারের উদাসীনতার কারণেই করোনা পরিস্থিতি এখন ‘এলার্মিং’ অবস্থায়

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের তৈরি করা ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যারা দীর্ঘকাল ধরে স্বাধিকার -স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছেন তাদের কারো নাম আওয়ামী লীগের মুখে উচ্চারণ হয় না। এমনকি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমদ, জিয়াউর রহমানের নামও উচ্চারিত হয় না। তারা তাদের তৈরী করা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল শীনবার  জেএসডি আয়োজিত'ঐতিহাসিক প্রবাসী সরকারের’ ভূমিকা ও প্রস্তাবিত ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইতিহাসে সত্য না বলা অপরাধ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সনের যুদ্ধ কোন একক ব্যক্তি বা দলের নয়। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল সমগ্র জাতির আত্মবিকাশের আকাক্সক্ষাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষাকে তিরোহিত করে। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আজকে আমাদের প্রজন্মকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, প্রকৃত ইতিহাস জানাতে হবে।
সরকারের উদাসীনতার কারণেই করোনার পরিস্থিতি এখন ‘এলার্মিং অবস্থায়’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, কয়েকদিন আগে দেখুন, করোনা পলিসি নির্ধারণে, নীতি নির্ধারণে সরকারের কি রকম দ্বিচারিতা। একদিকে তারা বলছে আমরা লকডাউন দিচ্ছি, অন্যদিকে সমস্ত গণপরিবহন খুলে দিচ্ছে, একদিকে বলছে লকডাউন দিচ্ছি, অন্যদিকে শপিংমল-দোকানপাট সব খুলে দিচ্ছে। অর্থা’ তাদের যে উদাসীনতা, ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা-এই কারণে আজকে করোনা এই অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে। আমরা প্রতিদিন আমাদের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে যেসমস্ত কথা শুনতে পাই-এগুলো নীতিমত এলার্মিং যে, একটা জাতি আজকে বিপদের সম্মুখীন হয়ে গেছে এবং বলা হচ্ছে যে, মে মাসের মধ্যে প্রতিদিন নয়‘শ থেকে এক হাজার লোক মারা যাবে।
দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যখাতের চরম দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেখুন আজকে টেস্টের কোনো ব্যবস্থা নেই, হাসপাতালগুলোতে বেড নেই্ এমনকি সাধারণ বেড পর্যন্ত নেই্। আইসিইউ বেড নেই, কোনো রকম সুব্যবস্থা নেই। দুর্ভাগ্য আমাদের আজকে যখন করোনা ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে, গতবছর থেকে যথন আগ্রাসন শুরু হয় তখন থেকেই সরকার কোনো কার্য্কর ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। যার ফলে এবার দ্বিতীয় টেউ এই যে করোনা এসছে তা আজকে জনগনের জীবনকে সম্পূর্ণ বিপন্ন করে ফেলেছে, তাদের জীবিকাকে বিপন্ন করে ফেলেছে।
ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে, সেই ভ্যাকসিনের যে সাপ্লাইটা যে আসবে সে সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা তারা জনগনের সামনে, দেশের সামনে, জাতির সামনে তুলে ধরতে পারছে না। এই মুহুর্তে তারা বলছে যে, আমরা চীন ও রাশিয়ার থেকে ভ্যাকসিন আনার চেষ্টা করছে। এটা কোন দেশে আমরাৃ। এটা অনেক দেরী হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এই সরকার দেশের মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, তাদের অধিকারগুলো হরণ করেছে। সেজন্য আজকে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। সকল রাজনৈতিক ও মতকে এক হয়ে এই জনবিচ্ছিন্ন, গণবিচ্ছিন্ন, গণতন্ত্রবিনাসী মানুষের অধিকারগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে একটা ভয়াবহ রকমের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করেছে, তাদেরকে সরিয়ে জনগনের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার জন্য যেটা দরকার জনগনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই।
অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে আ স ম আবদুর রব বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় রাজনীতির আমূল সংস্কার করে অংশীদারিত্ব ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। এ লক্ষ্যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুনির্দিষ্ট দার্শনিক ভিত্তি। ২৫শে মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার এবং গণহত্যা শুরুর মধ্য দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কবর রচিত হয়। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়। স্বাধীনতা অর্জনের সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে সুযোগ্য নেতৃত্ব না থাকলে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন চরম ঝুঁকিতে পড়তো। এসব গভীর সত্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হলে জাতির ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে না। স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা কোন আদর্শিক সংগ্রাম কারো একক কৃতিত্বে সম্পন্ন হতে পারেনা। স্বাধীনতা ও  জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে যাদের অসামান্য অবদান রয়েছে তাদেরকে সরকার সামান্য মর্যাদা দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে। বর্তমান সরকার অতিরিক্ত পরশ্রীকাতরতা সম্পন্ন।
আলোচনা সভায় আ স ম রব পাঁচ দফা উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের উজ্জ্বল কীর্তির স্মারক হিসেবে ১০ এপ্রিল বা ১৭ এপ্রিলকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা করতে হবে, ঢাকায় প্রজাতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে ‘প্রজাতন্ত্র স্তম্ভ’ স্থাপন করতে হবে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার- এ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘অংশীদারিত্ব ভিত্তিক ‘শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, সকল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এবং পাঠ্যপুস্তকে প্রবাসী সরকার, মুজিব বাহিনী সহ অন্যান্যদের ভূমিকা  অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং  মুক্তিযুদ্ধে যার যা অবদান তার স্বীকৃতি দিতে হবে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গত ৫০ বছরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মহান ভাবাদর্শকে ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সকল স্বপ্নকে গুড়িয়ে দিয়েছে। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে হবে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, দেশ চরম সংকটে। সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তিদের উপেক্ষা করে তথাকথিত সুবর্ণ জয়ন্তী আয়োজন করেছে। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
জেএসডি আয়োজিত ঐতিহাসিক প্রবাসী সরকারের ভূমিকা ও প্রস্তাবিত প্রজাতন্ত্র দিবস শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, এডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, সা কা ম আনিছুর রহমান খান, সিরাজ মিয়া, তানিয়া রব।  আলোচনা সভায়  শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন জেএসডি পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। বিদেশে থাকায় অংশ গ্রহন করতে না পারায় প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের ছেলে সোহেল তাজের পাঠানো লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যারিস্টার ফারা খান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ