রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

কঠোর লকডাউনের আতঙ্কে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

গাবতলী এলাকায় যাত্রীসাধারণের ভিড়। বিভিন্ন উপায়ে ঢাকার বাইরে নিজ গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা। ছবিটি গতকাল শনিবার তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস ব্যাপকহারে সংক্রমণের কারণে রাজধানী ছাড়ছেন অনেকে। ভোরের আলো সবেমাত্র ফুটতে শুরু করেছে। চারপাশের মসজিদ থেকে ভেসে আসছে ফজরের আজানের ধ্বনি। আলো আঁধারির মাঝেই যাত্রী খুঁজতে তৎপর হয়ে ওঠে রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, কাজলা এলাকায় কিছু মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রাইভেটকার। সময় তখন ঠিক ৫ টা। যাত্রীও বেশ মিলছে। যাত্রী বোঝাই করেই কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী অঞ্চলের দিকে ছুটছে এসব যানবাহন। রাজধানীর ভিতরে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা থাকার কারণে যানবাহনগুলো সরকারি আদেশ মেনে চললেও রাজধানীর বাইরে চলছে ভিন্ন চিত্র।
গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ভাড়ায় প্রাইভেটকার মাইক্রোবাসগুলো বিভিন্ন জেলায় অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাড়ি যাওয়ার গাড়ি পেয়ে অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করলেও তাদের গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া। সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ যাত্রী পরিবহন করছে ওইসব গাড়িগুলো। যেখানে আন্তঃজেলা বাসগুলোর ভাড়া ছিলো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেখানে এসব গাড়ি ৮০০-৯০০ টাকায় জনপ্রতি ভাড়া আদায় করছে। এদিকে দ্বিতীয় দফায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলো সরকার। কিন্তু সেটি মানছে না সাধারণ মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারগুলোতে দেখা যায় শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাজার করছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার চায়ের দোকানে বসে আড্ডায় মশগুল হয়ে আছেন। করোনায় একদিনে শনাক্তের হার ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে কঠোরভাবে লকডাউন পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
সিলেটগামী সুমন মিয়া বলেন, আমি ঢাকায় একটি ছোট দোকানে কাজ করি। লকডাউনের কথা শুনে আগেই বাড়ি যাচ্ছি। কারণ ঐ সময় বেচা বিক্রি হবে না। দোকান রাখতে হবে বন্ধ। আবার ঢাকায় থেকে খরচও চালাতে পারবো না। কিন্তু যেখানে ৫০০ টাকায় বাসে যেতাম, সেখানে মাইক্রোবাসে ভাড়া নিচ্ছে ৯০০ টাকা। আমার জন্য এই ভাড়া অতিরিক্ত তবুও ঢাকা ছাড়তে হচ্ছে। এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড এলাকায় দেখা যায়, মানুষ নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাস ও লেগুনাগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ধাক্কাধাক্কি করে উঠছেন।
দেখা যায়, যাত্রীর সংখ্যা খুব বেশি নেই। দূরপাল্লার বড় বাসগুলোও চলছে না। এ সুযোগটাই নিচ্ছে মাইক্রো, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা। এই আলো আঁধারি ভোরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কম। সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছেন এসব চালক ও যাত্রীরা। এসব গাড়িতে আসনসংখ্যা পূরণ করেই যাত্রী নেয়া হচ্ছে। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি।
কাজলা থেকে গাড়ির অপেক্ষায় থাকা সুজন মিয়া নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। সুজন জানান, তার মায়ের অবস্থা ভালো না। বাড়ি যেতেই হবে। সেই মধ্যরাত থেকে গাড়ির অপেক্ষায় আছেন। সামনে যে গাড়ি পান সেটাতে করেই যেতে হবে তাকে। কুমিল্লার পাদুয়া বাজারে সুজনের বাড়ি। ৫০০ টাকা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে যাচ্ছেন তিনি।
আরেক যাত্রী কামাল হোসেন জানান, স্ত্রী-সন্তানদের কথা খুব মনে পড়ছে। তাই বাড়ি যাচ্ছি। সামনে আবার কঠোর লকডাউন, তখন তো যেতেই পারবো না। ২০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা দিয়েই যেতে হবে। অ্যাম্বুলেন্সের কর্মচারী মো. ইমরান বলেন, আগের দিন বিকেলে কুমিল্লা থেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাল নিতে এসেছি। কিন্তু মাল পাইনি। খালি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। পথে দেখছি অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে আছে। যারা যেতে চাচ্ছে, তাদের নিয়ে যাচ্ছি। ভাড়া নিচ্ছি ৫০০ টাকা। স্বাস্থবিধি মানা হচ্ছে কি? জানতে চাইলে বলেন, কেউ কি মানছে স্বাস্থ্যবিধি!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ