বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

শান্তিভঙ্গের কারিগর

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এই পর্যায়ের সফর নিশ্চয়ই কোন বিনোদন সফর নয়, বরং সফরের থাকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তা হতে পারে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামরিক। তবে এসব সফরের সাথে আর একটি বিষয় জড়িয়ে দেয়া হয় এবং তাহলো ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’। শান্তি প্রতিষ্ঠার এমন এক সফরে পাকিস্তান গেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ৭ এপ্রিল ইসলামাবাদে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানায় রয়টার্স।
উল্লেখ্য যে, ৯ বছরের মধ্যে এটা রাশিয়ার কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম পাকিস্তান সফর। তাই পর্যবেক্ষকরা এই সফরকে নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে বেঁধে দেয়া সময়সীমার কিছুদিন আগে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এই সফর কূটনৈতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমরা জানি, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশটির বিরুদ্ধে আফগান তালেবান নেতাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টুইট করে বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করেছে। আলোচনার মধ্যে আফগানিস্তানে শান্তি ও অস্থিতিশীলতার বিষয়টি ছিল। এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহায়তা এবং গ্যাস-পাইপলাইন প্রজেক্টের অগ্রগতি নিয়ে কথা হয়েছে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে।
দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অর্থনৈতিক সম্পর্ক, জ্বালানিসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করতেই পারেন। এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন কোন পরাশক্তি কোন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আলোচনা করেন তখন নানা প্রশ্ন জাগে। আমরা জানি, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া আলাদা আলাদাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু কেন? লক্ষ্য যদি হয় আসলেই শান্তি প্রতিষ্ঠা তাহলে আলাদা আলাদাভাবে কেন, একসাথে নয় কেন? আসলে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার রয়েছে আলাদা আলাদা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং এ কারণেই আলাদা আলাদা উদ্যোগ। পরাশক্তিদের স্বার্থের এমন দ্বন্দ্বে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে কী?
আমরা জানি, ১৯৮০’র দশকে আফগানিস্তান দখল করে নিয়েছিল সোভিয়েত বাহিনী। তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদদের সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান। আর এখন ইসলামপন্থী তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই যুদ্ধ থেকে এখন নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার চেষ্টা করছে ক্লান্ত পেন্টাগন। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া অবশ্যই নিজেদের স্বার্থের নিরিখে নতুন কৌশল নির্ধারণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রও অবশ্যই পরিস্থিতির মূল্যায়ন করবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির কোন খেলোয়াড় কি সাইড লাইনে বসে থাকতে পারে? আসলে এদের কারণেই আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়েছে। আফগনিস্তানে তো শান্তি ছিল। এরাই শান্তি ভঙ্গের কারিগর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ