শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

  মিয়ানমারে নো ফ্লাই জোন ॥ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা ॥ ব্যাংক একাউন্ট জব্দের আহ্বান জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূতের

 

১০ এপ্রিল, আল-জাজিরা : জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কাইওয়া মোয়ে তুন তার নিজের দেশের বিরুদ্ধে নো ফ্লাই জোন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক জান্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন। 

দেশটিতে অব্যাহতভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন। 

অনলাইন বলছে, অনেক মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে মিয়ানমারে। গত শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক বৈঠকে বসে। সেখানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান দেশগুলো। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান সামিটে মিয়ানমার সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা চলছে। কিন্তু মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এখনও নিজের ভাষায় কথা বলছে। তার দেশে জাতিসংঘের একজন বিশেষ দূতের প্রবেশে অনুমোদন দিচ্ছে না।

১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানে সামরিক জান্তা ক্ষমতাচ্যুত করে অং সান সুচিকে। কিন্তু সামরিক জান্তার পক্ষ অবলম্বন করতে অস্বীকৃতি জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কাইওয়া মোয়ে তুন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, মিয়ানমারে শিশুসহ শত শত মানুষ মারা যাওয়া সত্ত্বেও সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ও শক্তিশালী পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ভার্চুয়াল মাধ্যমে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের কাউন্সিলে যোগ দেন। এ সময় বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মিয়ানমারে এই নৃশংসতা চলতে দিতে পারে না জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সব রকম সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ স্থগিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে আরো ভয়াবহ দমন পীড়নের তথ্য সামনে আসার পর তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার রাত এবং শনিবার সকালে মিয়ানমারে কমপক্ষে ৬০ জন বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে সামরিক জান্তা। এ অবস্থায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে গেলে তাতে ভেটে দেবে চীন এবং রাশিয়া। এই দুটি দেশ মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেছেন, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার এসব ভয়াবহ কর্মকা-ের মূল্য সম্পর্কে বোঝা উচিত।

প্রাণ বাঁচাতে ভারতে পালাচ্ছে মিয়ানমারের মানুষ : সেনা অভ্যুত্থানের পর চলমান সহিংসতা থেকে বাঁচতে মিয়ানমারে নাগরিকেরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। সীমান্তবর্তী থাকা অনেক মানুষ ভারতে আশ্রয় খুঁজছেন। ময়লার ট্রাকে চড়ে, নালা ও খাল দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে মানুষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।    

মিয়ানমারজুড়ে বিক্ষোভ ও ব্যাপক সহিংসতার ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে পালাচ্ছেন। তাদের মধ্য একজন মাখাই। তিনি তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় ভারতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন। একটি ময়লার ট্রাকে চড়ে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেন তিনি। এর আগে দুইবার ভারতের সীমান্ত বাহিনী তাঁকে আটকে দিলেও এবার কোনো বাধার সম্মুখীন হননি মিয়ানমারের এ নাগরিক।

এ মাসের শুরুতে সীমান্তবর্তী জেলা তামু থেকে বোন ও মেয়ে নিয়ে ভারতে পালান ৪২ বছর বয়সী মাখাই। তাঁরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতীয় রাজ্য মণিপুরে প্রবেশ করেন। প্রাণ বাঁচাতে এটিই একমাত্র উপায় ছিল বলে মনে করেন মাখাই। তিনি বলেন, সেনাসদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে নারীদের ধর্ষণ করছে এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে।

আরও দুই নারী একইভাবে দেশ ছাড়েন। তাঁরা বিবিসিকে বলেন, পরিস্থিতি ভালো হলে ঘরে ফিরে যেতে পারবেন বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁদের স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্য পুরুষেরা এখনো মিয়ানমারেই আছেন।

উইনি নামে এক নারী বলেন, ‘পুরুষেরা প্রয়োজনে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। কিন্তু ঘরে আচমকা সেনাবাহিনী চলে আসলে প্রাণ বাঁচাতে মেয়েদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।’ ফলে মেয়ে নিয়ে ভারতে পালিয়েছেন তামু জেলার এ বাসিন্দাও।

অনেক বছর ধরে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে উভয় দেশের নাগরিকদের জন্য চলাচল সুবিধা চালু আছে। এক দেশের মানুষ চাইলে আরেক দেশের ১৬ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারে এবং সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারেন।

তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত বছর মার্চে এ সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। এ বছর আবার সীমান্ত খুলে যাবে বলে উভয় দেশের মানুষ আশাবাদী ছিল। তবে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের ফলে সীমান্ত চলাচল আবার চালু হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন মিয়ানমারের মানুষ।

দেশজুড়ে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ দমনের জন্য সীমান্ত সুরক্ষাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না মিয়ানমারের জান্তা সরকার। বিপুল পরিমাণ সেনা বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ভারতও তার সীমান্তে খুব বেশি সেনা মোতায়েন করেনি। যার কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে পারছে মিয়ানমারের মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ