শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে গুলীর ঘটনায় অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি মমতার  সহিংসতায় নিহত ৫

১০ এপ্রিল, আনন্দবাজার পত্রিকা, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ভোটকেন্দ্রে পুলিশের গুলীতে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  নিজেদের ভোটবাক্স ভর্তি করতে বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

গতকাল শনিবার সকালে কোচবিহারের শীতলকুচির জোড়পাটকির ১২৬ নম্বর বুথের সামনে তৃণমূল এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সিএপিএফ (সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স) গুলী চালালে ঘটনাস্থলেই চারজন প্রাণ হারান।

এদিন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ও বাদুড়িয়ার সভা থেকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। 

তিনি বলেন, আমি বরাবর বলে আসছি, কেন্দ্রীয় বাহিনী আমার শত্রু নয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় যে চক্রান্ত চলছে, তা আজ প্রমাণ হয়ে গেল। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের গুলী করে মেরে দেয়া হয়েছে।

আত্মরক্ষার জন্যই শীতলকুচিতে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (সিআইএসএফ) গুলি চালাতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপি নেতৃত্ব যদিও এরজন্য মমতাকেই দায়ী করেছেন। 

কোচবিহারের সভায় তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ধরার পরামর্শ না দিলে, মানুষ উত্তেজিত হতেন না আর গুলীও চলত না বলে দাবি করেছেন তারা। 

কিন্তু মমতার বক্তব্য, বিজেপি জানে হেরে গিয়েছে। তাই ভোটারদের গুলী করে মারছে। তবু মানুষকে বলব, আপনারা শান্ত থাকুন। নির্বিঘেœ ভোট দিন। কোনো অশান্তির মধ্যে যাবেন না। যারা অশান্তি করে, তারা রাক্ষসের দল। যারা শান্তি রক্ষা করে, তারা মানুষ। মানুষকে মানবিকতা দিয়েই জয় করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর উসকানিকে দায়ী করলেন মোদি : পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলীতে পাঁচজন নিহত হওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উসকানিকে দায়ী করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যটিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি। সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই ঘটনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘কুচবিহারে যা ঘটেছে তা দুঃখজনক... স্বজন হারানো পরিবারের প্রতি সমবেদনা। বিজেপি’র ওপর মানুষের সমর্থন দেখে ঘাবড়ে গিয়ে মমতা দিদি ও তার গু-াবাহিনী এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিদি ও তাঁর গু-াবাহিনী ঘাবড়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে আক্রমণ করছে। নির্বাচন কমিশনকে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করছি।’

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘মমতা দিদি এখন নির্বাচনী সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। ছাপ্পা ভোট দেয়ার নির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি। এসব করে কিছু হবে না। নিজের লোকেরা ছাপ্পা ভোট দিতে পারছে না বলে দিদি রেগে যাচ্ছেন। আমাকেও খারাপ কথা বলছেন।’

উল্লেখ্য, সহিংসতার পর শীতলকুচিতে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনা নিয়ে বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেয় কমিশন।

গতকাল শনিবার পশ্চিমবঙ্গে চতুর্থ দফার নির্বাচনে ৪৪টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে আরও চার ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

‘রাতভর মদ-মাংস খেয়ে সকালে নির্বিচারে গুলী চালিয়েছে পুলিশ’ : ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করছে। রাতভর মদ-মাংস খেয়ে সকালে নির্বিচারে গুলী চালিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করানোর ভার যাদের কাঁধে, তাদের নির্বিচারে গুলী চালানোর অধিকার কে দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে গুলীর ঘটনায় অমিত

শাহের পদত্যাগ দাবি মমতার 

সহিংসতায় নিহত ৫

১০ এপ্রিল, আনন্দবাজার পত্রিকা, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ভোটকেন্দ্রে পুলিশের গুলীতে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  নিজেদের ভোটবাক্স ভর্তি করতে বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

গতকাল শনিবার সকালে কোচবিহারের শীতলকুচির জোড়পাটকির ১২৬ নম্বর বুথের সামনে তৃণমূল এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সিএপিএফ (সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স) গুলী চালালে ঘটনাস্থলেই চারজন প্রাণ হারান।

এদিন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ও বাদুড়িয়ার সভা থেকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। 

তিনি বলেন, আমি বরাবর বলে আসছি, কেন্দ্রীয় বাহিনী আমার শত্রু নয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় যে চক্রান্ত চলছে, তা আজ প্রমাণ হয়ে গেল। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের গুলী করে মেরে দেয়া হয়েছে।

আত্মরক্ষার জন্যই শীতলকুচিতে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (সিআইএসএফ) গুলি চালাতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপি নেতৃত্ব যদিও এরজন্য মমতাকেই দায়ী করেছেন। 

কোচবিহারের সভায় তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ধরার পরামর্শ না দিলে, মানুষ উত্তেজিত হতেন না আর গুলীও চলত না বলে দাবি করেছেন তারা। 

কিন্তু মমতার বক্তব্য, বিজেপি জানে হেরে গিয়েছে। তাই ভোটারদের গুলী করে মারছে। তবু মানুষকে বলব, আপনারা শান্ত থাকুন। নির্বিঘেœ ভোট দিন। কোনো অশান্তির মধ্যে যাবেন না। যারা অশান্তি করে, তারা রাক্ষসের দল। যারা শান্তি রক্ষা করে, তারা মানুষ। মানুষকে মানবিকতা দিয়েই জয় করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর উসকানিকে দায়ী করলেন মোদি : পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলীতে পাঁচজন নিহত হওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উসকানিকে দায়ী করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যটিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি। সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই ঘটনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘কুচবিহারে যা ঘটেছে তা দুঃখজনক... স্বজন হারানো পরিবারের প্রতি সমবেদনা। বিজেপি’র ওপর মানুষের সমর্থন দেখে ঘাবড়ে গিয়ে মমতা দিদি ও তার গু-াবাহিনী এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিদি ও তাঁর গু-াবাহিনী ঘাবড়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে আক্রমণ করছে। নির্বাচন কমিশনকে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করছি।’

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘মমতা দিদি এখন নির্বাচনী সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। ছাপ্পা ভোট দেয়ার নির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি। এসব করে কিছু হবে না। নিজের লোকেরা ছাপ্পা ভোট দিতে পারছে না বলে দিদি রেগে যাচ্ছেন। আমাকেও খারাপ কথা বলছেন।’

উল্লেখ্য, সহিংসতার পর শীতলকুচিতে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনা নিয়ে বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেয় কমিশন।

গতকাল শনিবার পশ্চিমবঙ্গে চতুর্থ দফার নির্বাচনে ৪৪টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে আরও চার ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

‘রাতভর মদ-মাংস খেয়ে সকালে নির্বিচারে গুলী চালিয়েছে পুলিশ’ : ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করছে। রাতভর মদ-মাংস খেয়ে সকালে নির্বিচারে গুলী চালিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করানোর ভার যাদের কাঁধে, তাদের নির্বিচারে গুলী চালানোর অধিকার কে দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।

স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী বলেন, ‘দলে দলে মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বিনা প্ররোচনায় গুলী চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী।’ 

বুথের ভেতরে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

স্থানীয়দের যুক্তি, নিহতদের পরিচয় তাদের বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি তাদের সমর্থন নয়। তারা ভোটার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়ে যদি গুলী চালাতে হয়, তাহলে পায়েও তো গুলী চালাতে পারত। তা না করে সোজাসুজি বুকে গুলী করা হলো কেন প্রত্যেককে?

এর আগে সকালে পাঠানটুলি শালবাড়ির ২৮৫ বুথে ভোট দিতে গিয়ে আনন্দ বর্মণ নামের এক ১৮ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়। তার পরিবারের লোকজন নিজেদের বিজেপি সমর্থক বলে দাবি করে। অন্যদিকে, আনন্দ তাদের সমর্থক বলে দাবি করেছে তৃণমূল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ