রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

স্টাফ রিপোর্টার : লকডাউনের কারণে টানা চারদিন বন্ধ থাকার পর গতকাল শুক্রবার থেকে খুলেছে রাজধানীর বিভিন্ন দোকানপাট ও শপিংমল। কিন্তু, বেশ কয়েকটি দোকান ও শপিংমলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেককেই তেমন একটা স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। তবে দোকান মালিকরা বলছে সময় অবশ্যই বাড়াতে হবে। তা না হলে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা কঠিন হবে।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন দোকান ও শপিংমলে গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুর রোডের নূর ম্যানশন, গাউছিয়া ও নিউমার্কেট এলাকায় কয়েক শ ক্রেতা-বিক্রেতাকে স্বাস্থ্যবিধি না মানতে দেখা গেছে। তাদের বেশিরভাগ মাস্ক পরলেও কারও মাঝেই শারীরিক দূরত্ব ছিল না।
 তবে শপিং মল ও মার্কেটগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।
নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, লোকজন আসছে। অন্যান্য সময়ের ক্রেতাসমাগমের চেয়ে বেশি। আশা করি, জুমার নামাজের পর ক্রেতা আরও বাড়বে। তিনি আরও বলেন, এখন আমরা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা নিয়ে ব্যস্ত আছি। দোকানদারদের বলছি, স্বাস্থ্যবিধি না মানতে পারলে চলে যান। কারণ, নিউমার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে এর প্রভাব পড়বে পুরো দেশে। কেউ মানবে না।
চাঁদনী চক বিজনেস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন জানান, বিপণিবিতানটির সব দোকানই খুলেছে। তিনি বলেন, আমরা মার্কেটের প্রবেশপথে একটা জীবাণুনাশক টানেল রেখেছি। এ ছাড়া মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। এ ছাড়া প্রতিটি দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে এবং দু-একজনের অধিক ক্রেতা দোকানে প্রবেশ করতে ব্যবসায়ীদের নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মনির।
আগামী বুধবার পয়লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। সে জন্য পয়লা বৈশাখের আগের দিন, অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা রাখার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও এরপর খোলা রাখার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকারের জারি করা সাত দিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার আজ চতুর্থ দিন চলছে। এ সময়ে ১১টি নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। ইতোমধ্যেই দুটি শিথিলও করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবারের (৬ এপ্রিল) ঘোষণায় বুধবার (৭ এপ্রিল) থেকে সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে গণপরিবহন। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সরকার ঘোষণা করে গতকাল (শুক্রবার) থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলবে শপিংমল।
খবরটি ব্যবসায়িক মহলে জানাজানি হওয়ার পরই অনেকেই দোকান খুলতে শুরু করেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যবসায়ীদের পড়তে হয়নি কোনো বাধার মুখে। রাজধানীর গাউছিয়া, চাঁদনীচক ও চিশতিয়া মার্কেটে সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত দোকানিরা।
চিশতিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. মনিমুল্লাহ বলেন, সরকারি নির্দেশনা শুনেই দোকান খুলেছি। তবে ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখলে আমাদের তেমন লাভ হবে না। আমরা রাত ৮টা পর্যন্ত খোলার জন্য চেয়েছিলাম। মার্কেটে মানুষ আসে সন্ধ্যার পর, দুপুর ১২টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত দিলে আমাদের সুবিধা হতো। তবে এখন দোকান খোলার সুযোগ পাওয়াটাই বড় বিষয়।
গাউছিয়া মার্কেটের ঝিনুক ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মামুন বলেন, ৫টা পর্যন্ত সময় দেওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমরা নিজেরাই কারখানায় মালামাল তৈরি করি, যা শবে বরাতের পর থেকেই বিক্রি শুরু হয়। ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকলে আমাদের পক্ষে এই মালামাল বিক্রি সম্ভব নয়। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, মাগুরাসহ সারা দেশ থেকেই খুচরা ব্যবসায়ীরা আমাদের এই মার্কেটে কাপড় নিতে আসেন। ৫টা পর্যন্ত দিলে দূরের কাস্টমার আসতে পারবেন না। গতবারের ধাক্কা এখনও আমরা সামালে উঠতে পারিনি। এখন ব্যবসা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
একই সুরে কথা বলছেন ব্যবসায়িক নেতারাও। চাঁদনি চক ব্যবসায়িক ফোরামের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, সকাল ১০টা থেকে ৬টা পর্যন্ত দিলে ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো হতো। কেননা নারী কাস্টমাররা আসেন সকালে এবং সন্ধ্যার পর। দূরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আসেন বিকেলের দিকে। আগামীকাল থেকে ৯টায় খুললেও কাস্টমার পাব না। সকাল ১১টা থেকেই কাস্টমার আসা শুরু হয়। কারখানার মতো আমাদের সারাদিনই কাজ হয়। আমরা পাইকারি ব্যবসায়ীরা অনলাইনে এক পিস মালও বিক্রি করতে পারিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ