সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

রমযানে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমীন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, চাল, ডাল, তেল, মাছ, গোশতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য-দ্রব্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের বাস্তবসম্মত কঠোর পদক্ষেপ না থাকা ও উপরন্তু নতুন করে শুরু হওয়া লকডাউনে গৃহবন্দী মানুষ দুঃশ্চিন্তা ও হতাশায় ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখছে।
গতকাল শুক্রবার দেয়া বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মহামারিতে যখন দেশের মানুষ কর্মহীন তখন অতি সাধারণভাবেই দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলেও প্রাক প্রস্তুতি ছাড়াই নতুন করে লকডাউন দেয়ায় মানুষ তা ভেঙে রাস্তায় নেমে পড়ার মতো হতাশাজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, করোনা মহামারির এ সময়ে রমযান মাস ঘনিয়ে এলেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। কর্মহীন মানুষের হাহাকার ও বোবাকান্না পরিবেশকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। দেশে খাদ্য সংকট নেই, ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে যাবে, সবাই সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সুফল পাবে - সরকারের ক্রমাগত এসব আশ্বাসে জনগণ আর আশ্বস্ত হতে পারছে না।
এমন অবস্থায় আমাদের দাবিসমূহ : ক) ভোগ্যপণ্য সরবরাহ সবার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। সে জন্য সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল, ডাল ও তেলের মূল্য জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে রাখতে হবে। খ) সকল আমদানিকারকদের প্রণোদনার আওতায় এনে রমজান মাসসহ আপদকালীন এ সময়ে আমদানী শুল্ক কমিয়ে মূল্য স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে ছোট ছোট আমদানিকারকদের রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা। গ) স্থানীয় উৎপাদিত কৃষি ও কারখানা পণ্য সরবরাহে মধ্যস্বত্বভোগীদের দমন করে বাজার নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষক ও উৎপাদকের ন্যায্যমূল্য আগে নিশ্চিত করা। ঘ) ভোগ্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে পরিবহন ভাড়া যাতে বৃদ্ধি না পায় সে জন্য তাদেরকেও প্রণোদনার মধ্যে এনে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য কমিয়ে যানবাহনে বেশী মালামাল পরিবহনের অনুমতি দিতে হবে। পথে পথে ও ফেরীঘাটে চাঁদা আদায় বন্ধ করতে হবে। ঙ) ভোগ্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রশাসন দিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। চ) টিসিবির মাধ্যমে ব্যাপকহারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রির ব্যবস্থা নিতে হবে।
ছ) লকডাউন চলাকালীন সময় বস্তিবাসীদের পরিবার প্রতি-
চাল ২০ কেজি, ডাল ২ কেজি, তেল ২ কেজি, চিনি ২ কেজি, লবণ ১ কেজিসহ, নগদ ১০০০ টাকা ও রেশনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।
জ) কৃষিপণ্য সহজ প্রাপ্যের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। ঝ) শ্রমিকরা যেন কাজের পরিবেশ ও ন্যায্য পাওনা সহ ঈদের ১০০% বোনাসের আওতায় আসে তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঞ) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে আরো ৫টি আইসোলেশন সেন্টারের ব্যবস্থা করা
ট) চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে করোনার বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে পুনরায় চালু করা। ঠ) আসন্ন পবিত্র মাহে রমযানের পবিত্রতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যাবতীয় অশ্লীল সাইট বন্ধ রাখা ও টিভি চ্যানেলগুলোতে অশ্লীল সিনেমা ও বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বন্ধ রাখা।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জাতীয় এ সংকট মোকাবিলায় সকল প্রকার সংকীর্ণতা পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সর্বোপরি বেশি বেশি ইবাদাতের মাধ্যমে করোনা মহামারি নামক বৈশ্বিক সংকট উত্তরণের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ব্যাপক ধরনা দেয়ার জন্য নেতৃবৃন্দ সকলের প্রতি আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ