সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

ভয়কে জয় করার সপ্তাহে মূলধন বাড়লো সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : গত সপ্তাহের শুরুতে লকডাউন আতঙ্কে বাজার বন্ধের গুজব ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক পতন ঘটে শেয়ারবাজারে। পরের দিন বাজারে লেনদেন বন্ধ হবে না বিএসইসির এমন নিশ্চয়তায় আবারও বড় উত্থান ঘটে। কিন্তু সপ্তাহের শেষে এসে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেওয়ায় আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বিনিয়োগকারীরা। এতেই পতন দিয়ে সপ্তাহ শেষ হয়। বাজার আতঙ্কে কমছে আর সুখবরে বাড়ছে, এমন উত্থান-পতনে কেটেছে গত সপ্তাহ। তবে অস্বাভাবিক লেনদেনের এই সপ্তাহে উত্থানের জয়ে মূলধন বেড়েছে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা। তবে মূল্যসূচক টানা পতনের মধ্যেই রয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কিন্তু ‘লকডাউন’ আতঙ্কে সপ্তাহের শুরুর দিনে রোববার বড় পতন হয়। আর ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ায় বৃহস্পতিবারও বড় দরপতন হয়। এতেই সপ্তাহ শেষে পতনের খাতায় নাম লেখাতে বাধ্য হয়েছে শেয়ারবাজার। আর দুই কার্যদিবস ছিল উর্ধ্বমুখী। এতেই বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৫৫৯ কোটি টাকা। আগের তিন সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমে ২৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। বাজার মূলধন বাড়া বা কমার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে বা কমেছে।
এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৫ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৩০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৫৬ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। তার আগের ১০৭ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ১৩৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ চার সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ৩১৪ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট।
প্রধান মূল্যসূচকের পতন হলেও গত সপ্তাহে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক কিছুটা বেড়েছে। তবে আগের তিন সপ্তাহে সূচকটির টানা পতন হয়। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি বেড়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৩৭ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ৫২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং তার আগের সপ্তাহে কমে ৮০ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অপরদিকে ইসলামী শরিয়াহ্ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকের টানা চার সপ্তাহ পতন হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৪১ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৫ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৪ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ২৯ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং তার আগের সপ্তাহে কমে ১৮ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
প্রধান মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০৮টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ২০৫টির। আর ৫৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৬৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৩২৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ২৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ২৯৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। মোট লেনদেন বাড়ার কারণ গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে এক কার্যদিবস কম লেনদেন হয়।
গত সপ্তাহে ডিএসইর মূল বাজারে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বেক্সিমকো, রবি, এশিয়া প্যাসেফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, লাফার্জহোলসিম, সামিট পাওয়ার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এবং দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।
এদিকে সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইসের বাধ্যবাধকতা শেষে ৬৬ কোম্পানির লেনদেনে আসার দিনে গত বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারের সূচকগুলো বড় ধাক্কা খেয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৮২ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২৫৪ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে নেমেছে। পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন থেকে আটকে থাকা শেয়ারের লেনদেন বাড়াতে ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বৃহস্পতিবার থেকে তুলে দেয় বিএসইসি। দীর্ঘদিন পর লেনেদেনে আসা এসব শেয়ারের অনেকগুলোর দামই বৃহস্পতিবার কমে। এর প্রভাব ছিল সার্বিক লেনেদেনে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুর দিনে লকডাউন আতঙ্কে বাজারে ব্যাপক পতন ঘটে। ওই দিন বিগত সাড়ে ১২ মাসের সর্বোচ্চ দরপতনের ঘটনা ঘটে। ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৮১ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৮৮ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে নামে। তবে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার সূচক যে পরিমাণ বাড়লেও তাতে আগের দিনের পতনের অর্ধেকটাও পুনরুদ্ধার হয়নি। যদিও লকডাউনের কারণে আগের চেয়ে ২ ঘণ্টা কম লেনদেন হয়। পরের দুই দিনও ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকায় লকডাউন শুরুর আগের দিন যতটুকু কমেছিল, তিন দিনে এর চেয়ে ৬৭ পয়েন্ট সূচক বাড়ে ডিএসইতে। তবে সপ্তাহের শেষের দিনে ফ্লোরপ্রাইস উঠিয়ে দেওয়া আতঙ্কে বড় দরপতন দিয়ে সপ্তাহ শেষ হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ