বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১
Online Edition

সিলেটে চোরাচালানে ‘নিরাপদ’  দক্ষিণ সুরমায় হঠাৎ আতংক

সিলেট ব্যুরো : সাম্প্রতিক সময়ে চোরাকারবারীদের জন্য নিরাপদ অভয়াশ্রম হয়ে উঠেছিলো সিলেটের দক্ষিণ সুরমা অংশ। কখনো কখনো গুদাম করে রাখা হচ্ছিলো ভারতীয় অবৈধ পণ্য আবার কখনো শহর থেকে বের হতে এ উপজেলার বিভিন্ন ফাঁড়ি পথ ব্যবহার ছিলো চোরাকারবারীরা। দীর্ঘদিন থেকে নানা কারণে চোরাচালানের জন্য দক্ষিণ সুরমা অংশটা অনেকটা ‘নীরাপদ’ থাকলেও এবার হঠাৎ এ্যাকশনে নেমেছে পুলিশ। তাতেই মিলছে লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ পণ্যের চালান। এসব অবৈধ পণ্যের তালিকায় নাসির বিড়ি থেকে শুরু করে নারী-শিশুদের ব্যবহারের জিনিসপত্রও রয়েছে। তবে এতদিন চোরাচালানিদের জন্য নিরাপদ থাকলেও এখন প্রশাসনিক আতংক তৈরি হয়েছে। হচ্ছে অভিযান, ধরা পড়ছে অবৈধ পণ্য। সবশেষ গত ৭ এপ্রিল বুধবার দিবাগত রাত থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্তই ২টি অভিযানে কয়েক লক্ষ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে পুলিশ। আর এসব ঘটনায় আটক করা হয়েছে ১ জনকে। একই সাথে অবৈধ পণ্য বহনের সময় আটক করা হয়েছে ২টি প্রাইভেট কার। এ সময়ের ভিতর প্রথমে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন বলদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিড়িসহ জুয়েল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। সে বিশ্বনাথের কারিজুরি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। গত বুধবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।

এ অভিযানে পুলিশ দুটি প্রাইভেট কার থেকে ১ লাখ ১ হাজার শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি উদ্ধার করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত জুয়েল ভারতীয় তৈরি নাসির বিড়ি অবৈধভাবে দেশে নিয়ে আসে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে। বুধবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বলদী গ্রামস্থ ব্রীজের পাশে চেকপোস্ট বসিয়ে দুটি প্রাইভেটকার থেকে ভারতীয় বিড়ি উদ্ধার করে। এর পরই মিলে ভারতীয় পণ্যের একটি গুদামের সন্ধান। গুদামে কয়েক লক্ষ টাকার ভারতীয় কসমেটিক্স, শাড়ি ও থ্রিপিস, তেলসহ গুদামভর্তি নারীদের ব্যবহারের ভারতীয় বিভিন্ন জিনিস পায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানা অভিযানে গেলে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কলেজের কাছাকাছি দক্ষিণ সুরমার ৩নং তেতলি ঢালিপাড়া এলাকায় মো. আব্দুল মান্নানের ভাড়াটিয়ার গডাউনে এসব জিনিসপত্র পাওয়া পায়। তবে তাৎক্ষনিক উদ্ধারকৃত এসব মালামালের মূল্য জানাতে পারেনি পুলিশ। এদিকে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উদ্ধারকৃত মালামাল অন্তত ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪ টা ১০ মিনিটের দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। প্রথমে উপস্থিত হয়ে পুলিশ অবৈধ এসব জিনিসের মূল মালিককে উপস্থিত করতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরে গডাউনের মালিকের মাধ্যমে তা খোলানো হয়। এসময় ভেতরে প্রবেশ করে এসব অবৈধ জিনিসপত্র পায় পুলিশ। পরে দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হলে দীর্ঘ সময় লাগিয়ে মালামাল নিজেদের জিম্মায় নেয় পুলিশ। উদ্ধার ও অভিযানের বিষয়টি জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম। উদ্ধারকৃত এসব পণ্যই না, স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে সম্প্রতি সময়ে ভারতীয় পণ্যে সয়লাব হয়েগেছে এ উপজেলা। স্থানীয় চোরাচালানিদের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ফাঁড়ি পথ ব্যবহার করে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসা এসব অবৈধ পণ্য যায় অন্যান্য উপজেলায়। এমনকি কেউ কেউ উপজেলার অভ্যন্তরে সংরক্ষণ করেই চালান ব্যবসা। তবে নিরাপদ আশ্রয় মানতে নারাজ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের। তিনি বলেন, শহর থেকে বের হতে হলে দক্ষিণ সুরমাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে চোরাচালানকারীরা। কিন্তু কোন ভাবেই তারা ছাড় পাচ্ছে না। যখনই এ উপজেলা পার হতে চাচ্ছে তখন ধরা খাচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ