ঢাকা, বৃহম্পতিবার 22 April 2021, ৯ বৈশাখ ১৪২৮, ৯ রমযান ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

ফরিদপুরে সহিংসতার মামলায় আসামি ৪ হাজার

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গত সোমবার রাতে লকডাউন চলাকালে তাণ্ডবের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং তিন থেকে চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করে বাদী হয়ে মামলাটি করেন সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান। এসআই মিজানুর ঘটনার রাতে ফুকরা বাজার এলাকায় জনতার হামলায় আহত হন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলার এজাহারভুক্ত ১৩ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

এদিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম মোল্লাকে প্রধান করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে লকডাউনের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে জনতার সঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তাঁর সহকারীদের ভুল বোঝাবুঝি হয়। তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে গুজব রটিয়ে উপজেলা পরিষদ, থানা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে শট গানের ফাঁকা গুলি, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং রাইফেলের ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় রামকান্তপুর এলাকার জুবায়ের হোসেন (১৮) নামের এক যুবক নিহত হয়। নিহত জুবায়ের উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামের আশরাফ আলী মোল্যার ছেলে। রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. লিটু পুলিশের গুলিতে ওই যুবকের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয় আরও তিন থেকে চারজন। তাদের ঢাকা ও ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন আমির, মিরান ও মামুন।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যাক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ