শনিবার ০৮ মে ২০২১
Online Edition

শীতলক্ষ্যা যাত্রীবাহী লঞ্চডুবি

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে গেছে এক যাত্রীবাহী লঞ্চ। দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি রাবিতা আল হাসান নামের লঞ্চটি গতকাল সন্ধায় নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিলে শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকায় একটি তেলের ট্যাংকারের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। এসময় সাঁতরিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক যাত্রী তীরে উঠতে সক্ষম হয়। বাকীদের উদ্ধারের কাজ করছে কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস। লঞ্চডুবিতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাতে  এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের খোঁজে নদীর তীরে ভিড় জমাচ্ছেন স্বজনরা। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, লঞ্চ ডুবির ঘটনায় একজন যুবতীর লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এমভি রাবিতা আল হাসান নামের লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ রুটে চলাচল করতো। সন্ধ্যায় এটি নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সামনে কয়লা ঘাট এলাকায়  দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
নদীর তীরে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, একদিকে তেলের ট্যাংকারে ধাক্কা অন্যদিকে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ে লঞ্চটি একপাশে কাত হয়ে ডুবে যায়। ওই সময় কিছু যাত্রী লঞ্চ থেকে বের হয়ে সাঁতরে তীরে উঠার চেষ্টা করেন। তবে ঝড়ের কারণে নদীর তীর থেকে কেউ ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রীদের সহায়তা করতে যেতে পারেননি।
সাঁতরে তীরে উঠা লঞ্চের যাত্রী মোহন বেপারী বলেন, তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের রিকাবী বাজারে। রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে লঞ্চটি নারাযণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর কাছে আসা মাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা একটি  তেলবাহি কার্গো লঞ্চটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
মোহন বেপারীর দাবি, লঞ্চে দুই থেকে আড়াইশ যাত্রী ছিলেন। তিনিসহ ৪০-৫০ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন।
নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বলেন, লঞ্চডুবির খবর তিনি পেয়েছেন। তবে ঝড়ের কারণে উদ্ধার কাজ রাত সাড়ে ৮টাও  শুরু হয়নি। দুর্ঘটনার শিকায় হয় এবং অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়।
নারায়ণগঞ্জ নৌপুলিশের ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, একটি শীতলক্ষা নদীতে চায়না ব্রিজের নীচে সাবিত আল হাসান নামের একটি লঞ্চ  ডুবেছে। ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ