শনিবার ০৮ মে ২০২১
Online Edition

বিএনপি নেতাকর্মীদের কারাগারে আটকে রাখতে আ’লীগ সরকার সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান করেছে

স্টাফ রিপোর্টার : দেশ শাসনে নজীরবিহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে কারাগারে আটকে রাখতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের দমন-নিপীড়নের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাত থেকে চট্টগ্রাম, নওগাঁ, খুলনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হামলা চালিয়ে আহত করা, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং পটুয়াখালী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ন্যক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলুমবাজ সরকার কর্তৃক নির্বিচারে মানুষ হত্যা, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে হামলা এবং জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই আন্দোলনকে দমন করতে গণবিরোধী সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় হামলা-মামলা-দমন-নিপীড়ণের সাঁড়াশী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ২৯ ও ৩০ মার্চ মহানগর ও জেলা সদরে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার পর এখন মিথ্যা মামলা দায়ের করে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করতে গ্রেফতারী অভিযান, হয়রানি ও জুলম চালানো হচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, মিথ্যা মামলায় হয়রানি চলছে। বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নাজিমুর রহমান, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, মোঃ শাহ আলম, মহানগর যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, মহানগর মহিলা দল সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ মহানগর ও বিভিন্ন থানা নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। হামলায় ৩ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেফতার না করে উল্টো বিএনপির ৯ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। নওগাঁ জেলায় বিএনপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের গুলি, টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জের নির্মম হামলার পর নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, ও মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট, মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের মহাদেবপুর থানা শাখার সভাপতি আব্দুল হান্নান, মহাদেবপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সোবহান, সদস্য ইখতিয়ার উদ্দিন দুরন্ত, চঞ্চল, নওগাঁ পৌর বিএনপি নেতা মুকুল স্বর্ণকার, এনামুল হক, বাবু, জেলা যুবদল সদস্য আনোয়ার হোসেন, শহীদুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে আহতাবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, খুলনা মহানগর বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনকে গতরাতে তার বাড়ীর গ্রীল ভেঙ্গে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ২৯ ও বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা, হামলার পর ময়মনসিংহে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের চার শতাধিক নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদেরকে গ্রেফতার করতে সাঁড়াশী অভিযান চালায় পুলিশ। বুধবার সকালে ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জনিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। কিশোরগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের গুলীবর্ষণ, লাঠিচার্জের পর মঙ্গলবার রাতে জেলা বিএনপির ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, জেলা ছাত্রদলের সদস্য হাসিবুর রহমান মিশাদ, পৌর ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনার মিয়া, যুবদল নেতা জাবাল মিয়া ও মোঃ বাবুকে গ্রেফতার ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বাড়ীতে বাড়ীতে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়।
সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায়  দেশ চালাচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগের রাতে ভোটের মাধ্যমে নির্লজ্জভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী সরকার এখন আরও বেপরোয়াভাবে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ শাসন করছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে সরিয়ে দিতে তাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ণ যেন বর্তমান আওয়ামী সরকারের দৈনন্দিন কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। দেশকে বিরোধী দলশুন্য করতে বিএনপির যেকোন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, গুলিবর্ষণ ও নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতার বর্তমান গণধিকৃত সরকারের ধারাবাহিক অপকর্মেরই অংশ। সভা-সমাবেশ করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দলের কর্মসূচি পন্ড করতে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, তাদের ওপর হামলা, নির্যাতন-নিপীড়ণ এবং গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজী ও দখলবাজীকে সরকারি নীতিতে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, সরকার দেশ শাসনে নজীরবিহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে কারাগারে আটকে রাখতে সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব মাস্টারপ্ল্যানের উদ্দেশ্যই হচ্ছে অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা। তবে সরকারের সকল অপকর্ম ও অপশাসনের মূলোৎপাটনে জনগণের ক্ষোভ এখন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। জনদাবি মেনে দমন-নিপীড়ন বন্ধ এবং পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে বর্তমান সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে উল্লিখিত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান। তিনি আহত নেতাকর্মীদের সুস্থতা কামনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ