শনিবার ০৮ মে ২০২১
Online Edition

আন্দোলন হেফাজতের মামলা বিএনপির ঘাড়ে

* তদন্তে হেফাজত নেতাদের নাম আসলে ব্যবস্থা -আইজিপি
নাছির উদ্দিন শোয়েব : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও হরতালের ডাক দিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিল বামদলসহ হেফাজতে ইসলাম এবং কওমী মাদরাসাকেন্দ্রিক কয়েকটি ইসলামী সংগঠন। নরেন্দ্র  মোদির আগমনের আগের দিন থেকে চার দিন রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়। বিশেষ করে ঢাকার মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের হাটহাজারি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং নারায়ণগঞ্জে রণক্ষেত্র হয়। সারাদেশে ২৪ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচি পালন করে হেফাজতে ইসলাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩ জন নিহত হয়। হেফাজতে ইসলামের দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলীতে তারা নিহত হয়েছে। নিহতরা সবাই তাদের সংগঠনের কর্মী।
এসব ঘটনায় চারদিনে ছয় জেলায় এখন পর্যন্ত নাশকতা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, হামলা-ভাংচুর-এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় ২৫টি মামলা করা হয়েছে। এতে আসামী করা হয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার ব্যক্তিকে। অধিকাংশ মামলার বাদি পুলিশ ও র‌্যাব। কয়েকটি মামলার বাদি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী। তবে মামলাগুলোতে হেফাজতের কোনো বড় নেতার নাম উল্লেখ নেই। মামলায় ঘটনার বর্ণনা থাকলেও আসামী অধিকাংশই অজ্ঞাত। এসব মামলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানী করা হচ্ছে বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। হেফাজতের আন্দোলনের পর রাজধানীতে বাসে আগুন লাগিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনকে গত সোমবার হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বিএনপির এই নেতার নামে একটি মামলা রয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে- এমনিতেই বিএনপির প্রায় ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর নামে লক্ষাধিক মামলা রয়েছে। এরপরও নতুন করে অজ্ঞাত মামলায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানী করা হচ্ছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশ শাসনে নজীরবিহীন ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে কারাগারে আটকে রাখতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের দমন-নিপীড়ণের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাত থেকে চট্টগ্রাম, নওগাঁ, খুলনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হামলা চালিয়ে আহত করা, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং পটুয়াখালী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।
এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, হেফাজত ইসলামের নেতাদের নামে মামলা দেওয়া হয়নি বিষয়টি এমন নয়। গতকাল বুধবার তিনি বলেছেন, তদন্তে হেফাজতের নেতাদের নাম আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদি বিরোধী সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকায় তিন মামলায় প্রায় ৬ হাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭ মামলায় সাড়ে ৮ হাজার, চট্টগ্রামে ৬ মামলায় দেড় হাজার, নারায়ণগঞ্জে ৭ মামলায় আড়াইহাজার, মুন্সিগঞ্জে এক মামলায় ৬০০ এবং সিলেটে এক মামলায় ২০০ জন আসামী। মামলার এজাহারে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলেও অধিকাংশই অজ্ঞাত আসামী।
ঢাকায় তিন মামলা: ঢাকায় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকাল পর্যন্ত তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৫ মার্চ মতিঝিল থানায় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের আসামী করে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় হেফাজতের কাউকেও আসামী করা হয়নি। গত শুক্রবার বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন থানায় করা মামলায় ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামী করা হয়েছে বলে থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২৬ মার্চ রাতে মামলা হয়। মামলায় ৫০০ থেকে ৬০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ী থানায় গত শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলাতে তিন থেকে চার হাজার অজ্ঞাত আসামী করা হলেও সেখানেও হেফাজতের কারও নাম নেই। তবে এই থানায় চার জন হেফাজত কর্মী গ্রেফতার আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, শুক্রবারের ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত শুক্র ও রোববার হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত থানায় ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৫টি ও আশুগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার লোককে আসামী করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে। সংশ্ল্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামলাগুলোর মধ্যে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দুটিতে অজ্ঞাতনামা চার থেকে ৫ হাজার জনকে আসামী করা হয়েছে। আনসার-ভিডিপির কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আনসারের সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪শ’-৫শ’ লোককে আসামী করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার খন্দকার এহসান হাবিব বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাতনামা ২শ’-৩শ’ লোককে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডা পীরবাড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে হেফাজতকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের এসআই মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা এক থেকে দেড়হাজার লোককে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া আশুগঞ্জ টোলপ্লাজায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আশুগঞ্জ হাই ওয়ে সার্জেন্ট জহিরুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪শ’-৫শ’ লোকের বিরুদ্ধে একটি এবং আশুগঞ্জ টোলপ্লাজার দায়িত্বপ্রাপ্ত জয়নাল আবেদীন অজ্ঞাতনামা ৪শ’-৫শ’ লোকের বিরুদ্ধে অপর মামলাটি দায়ের করেন। গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে ১২ বিক্ষোভকারী নিহত এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) রইছ উদ্দিনসহ পুলিশের ৮০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাটহাজারি: চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের মোদিবিরোধী মিছিলে পুলিশের সঙ্গে হেফাজতের নেতাকর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা ছয়টি মামলায় অজ্ঞাতপরিচয়ের অন্তত দেড় হাজার জনকে আসামী করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম পুলিশের এসপি এস এম রাশিদুল হক। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও থানা ভাঙচুরসহ সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে চারটি মামলা দায়ের করেছে। যেহেতু প্রত্যেকটি মামলায় অভিযোগের ভিত্তিতে আসামীর সংখ্যা ভিন্ন, তাই মোট আসামী কতজন তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ‘হাটহাজারী উপজেলা এসিল্যান্ড অফিস ভাঙচুর ও এসিল্যান্ডের জিপে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সেই অফিসের কর্মকর্তারাও দুইটি মামলা দায়ের করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ: হেফাজতে ইসলামের হরতালে নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা ছয় মামলায় বিএনপির সাবেক সংসদসদস্য গিয়াস উদ্দিন ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ বিএনপি-জামায়াতের ১৩৬ জনের নাম উলেস্নখ করে আসামী করা হয়েছে। সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ছয়টি ও রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি মামলার বাদী পুলিশ এবং অন্য মামলাটির বাদী র‌্যাব-১১। পুলিশের মামলাগুলোতে ১৫৫ জনের নাম উলেস্নখ ও অজ্ঞাত আরও ২ হাজার ৩২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। র‌্যাবের করা মামলায় কারো নাম উলেস্নখ না করে অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। পুলিশ ও বিএনপির সূত্রগুলো জানায়, মামলায় পুলিশ উল্লেখ করেছে যে, হরতালে হেফাজতের ব্যানারে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। তারাই মূলত সড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়। আসামীদের তালিকাতে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হাই রাজু, মনিরুজ্জামান রবি, মহানগর যুবদল নেতা মন্তাজউদ্দিন মন্তু, টিএইচ তোফা, অকিলউদ্দিন ভূইয়া, জুয়েল প্রধান, লিয়াকত হোসেন লেকু, কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, সাদরিল হোসেন, বিএনপি নেতা আলী হোসেন প্রধান, ইমাম হোসেন বাদল, আইয়ুব আলী মুন্সী, মোশারফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম দেওয়ান, মুফতী রুবেল, শাহআলম মানিক, রিপন, সালাউদ্দিন, আকরাম, মালেক ওরফে গাট্টা মালেক, মান্নান ডাক্তার, গোলাম কিবরিয়া, তৈয়্যব হোসেন, কামাল হোসেন, মনির হোসেন, মো. সোহেল, মো. জুয়েল, ফয়সাল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রওশন আলী, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু, ছাত্রদল নেতা সাগর প্রমুখ। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বলেছেন, ‘হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি পুলিশ বাদী হয়ে করেছে আর একটি র‌্যাব বাদী হয়ে করেছে। এর মধ্যে ছয়টি মামলা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ও একটি রূপগঞ্জ থানায় হয়েছে। এই সাত মামলায় ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আছে আরও প্রায় চার হাজার।
মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় হেফাজতে ইসলাম, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় ৬১৫ জনকে আসামী করে মামলা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজদিখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন হোসাইন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিরাজদিখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান বলেছেন, পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে ১৫ জনের নাম উল্লেখ অজ্ঞাত ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে।
সিলেট: হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল চলাকালে সিলেটে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার মধ্যরাতে কোতোয়ালির বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতার আসামীরাসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহারে অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামী করা হয়। সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফরহাদ খান জানান, মামলায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, জখম ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করার অপরাধ আনা হয়।
তদন্তে হেফাজতের নেতাদের নাম আসলে ব্যবস্থা-আইজিপি: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, হেফাজতে ইসলামের নেতাদের নামে মামলা দেওয়া হয়নি বিষয়টি এমন নয়। তিনি বলেছেন, যারা উপস্থিত ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমাদের দেশে কোনও কাজ হলে দশ রকম কন্ট্রোভার্সি (বিতর্ক) হয়। আমরা এক্ষেত্রে চাইনি এরকম কিছু হোক। তদন্ত চলছে। তদন্তে হেফাজতের নেতাদের বা নির্দেশদাতাদের নাম আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা কাউকে বাদ দেইনি। গতকাল বুধবার ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন। আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, গত ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দিন হেফাজত সারা দেশে তাণ্ডব চালায়। প্রথমে বায়তুল মোকাররম, পরবর্তীতে চট্টগ্রামের হাটহাজারি থেকে। আমাদের কোমলমতি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে। হাটহাজারি থানায় মাদরাসা শিক্ষার্থীরা আক্রমণ করেছে। এর আগেও এই থানায় তারা আক্রমণ চালিয়েছে। ভূমি অফিসে আক্রমণ করেছে। ডাকবাংলোতে আক্রমণ করেছে। ভূমি অফিসের সব কাগজপত্র একত্র করে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট পাবে। বেনজীর আহমেদ বলেন, হাটহাজারিতে আমাদের একজন শিক্ষনবিশ এএসপিকে অপহরণ করে তারা নিয়ে যায়। তাকে বেধম মারধর করা হয়। একজন ডিএসবি সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের হত্যার জন্য মারধর করা হয়। তিনি বলেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান পণ্ড করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ