শনিবার ০৮ মে ২০২১
Online Edition

ঝিনাইদহের সড়কে ৩ মাসে নিহত ৪০

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের সড়ক মহাসড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। এরই ধারাবাহিকতায় গত তিন মাসে ঝিনাইদহে নিহত হয়েছেন ৩৮ জন। পঙ্গু কিংবা আহত হন শতাধিক মানুষ। মৃত্যুর মিছিল কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।
রাস্তায় বের হওয়া মানেই ঘরে না ফেরার অনিশ্চিত যাত্রা। সড়ক মহাসড়ক এখন বৈধ অবৈধ যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ওভারটেকিং এর ফলে প্রতিদিন দুর্ঘটনা লেগেই আছে। অবৈধ নছিমন, করিমন, আলমসাধু, ভটভটি, লাটাহাম্বার, মাটি টানা ট্রাক্টরের দাপটে বাস, ট্রাক, বাইসাইকেল ও মটরসাইকেল চলাচল খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকাও এখন অনিরাপদ।
হাসপাতাল ও আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ঝিনাইদহে নিহত হয়েছেন ৩৮ জন। এরমধ্যে কালীগঞ্জের বারোবাজারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মাস্টার্সের ৬ ছাত্রসহ নিহত হন ১৯ জন। এছাড়া মহেশপুরে ১ জন, শৈলকুপায় ১১ জন, হরিণাকুন্ডুতে ৩ জন, কোটাচাঁদপুরে ১ জন ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৫ জন নিহত হন।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি বছরের প্রথম দুর্ঘটনায় অবৈধ আলমসাধু গাড়ির চাপায় নিহত হন মহেশপুরের পুরন্দরপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন। ১৩ জানুয়ারি শৈলকুপার মদনডাঙ্গায় সেনা কল্যাণ সংস্থার সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক চাপায় আলমসাধুর সাথে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘষে ৮ জন নির্মাণ শ্রমিক নিহত হন। ১৮ জানুয়ারী হরিণাকুন্ডুর তেলটুপি গ্রামে অবৈধ মাটি টানার গাড়িতে চাপায় নিহত হন রবিউল ইসলাম। একই দিন রাতে ঝিনাইদহ শহরের আনসার অফিসের সামনে ট্রাক চাপায় নিহত হন ফাতেমা খাতুন নামে এক হোটেল শ্রমিক। ১৯ জানুয়ারি হরিণাকুন্ডুর বল্টুর মোড়ে মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন নয়ন লস্কার। ২২ জানুয়ারি হামদহ এলাকার ঘোষপাড়ায় ট্রাক চাপায় নিহত হন রিপ্তি বেগম। ২৯ জানুয়ারি সদর উপজেলার মধুপুরে ট্রাক চাপায় নিহত হন ইমন আহম্মেদ রবিণ। ২ ফেব্রুয়ারি শৈলকুপার বড়দা গ্রামে বাস চাপায় নিহত হন আরিফ শেখ। ৫ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ কৃষি অফিসের সামনে দুই মটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে থানা পাড়ার বাসিন্দা আরফান আহম্মেদ রাকিব নামে এক কলেক ছাত্র নিহত হন। ১০ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জের বারোবাজারে বেপরোয়া দ্রুতগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে মাস্টার্সের ৬ শিক্ষার্থীসহ ১২ জন নিহত হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি হরিণাকুন্ডুর কাপাশহাটিয়া বটতলায় মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাহুল হোসেন রাতুল নিহত হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জের পাতবিলা নামক স্থানে দুই মটরসাইকেল ও বাসের সংঘর্ষে সৌভিক বিশ্বাস, সোহেল হোসেন ও আকরাম হোসেন নিহত হন। একই দিন সদর উপজেলার সুতি গ্রামে শিশু চন্দন দাস ইজিবাইক চাপায় নিহত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি সদরের গোয়ালপাড়া বাজারে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে টুলু শেখ মটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন। পহেলা মার্চ কালীগঞ্জের নরেন্দ্রপুর গ্রামে লাটাহাম্বার চালানো শিখতে গিয়ে জুলহাস নিহত হন। ১৩ মার্চ কালীগঞ্জের মেক্সি সুপার মার্কেটের সামনে ট্রাকের ধাক্কায় হাসিবুর রহমান নামে এক মটরসাইকেল চালক নিহত হন। ২৭ মার্চ শৈলকুপার কাঁচেরকোল গ্রামে মটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্র্যাকের অডিট অফিসার জিল্লুর রহমান নিহত হন। একই দিন শৈলকুপার লাঙ্গলবাঁধ বাজারে ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম লাল মন্ডল, কালীগঞ্জের কেয়াবাগানে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ট্রাকচাপায় শিশু আবু হুরাইরা ও কোটচাঁদপুরের চৌগাছা সড়কে মটরসাইকেলের ধাক্কায় হাফেজ ইকতিয়ার নিহত হন।
ঝিনাইদহের এসব দুর্ঘটনা নিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ঝিনাইদহ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর তালিকায় কর্মক্ষম ব্যক্তি  ও তরুণদের সংখ্যাই বেশি। বাংলাদেশের সড়ক মহাসড়কে যে পরিমাণ জানমালের ক্ষতি হয় তা অন্য কোন উন্নত রাষ্ট্রে কল্পনা করা যায়না।
তিনি বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও অসচেতনার কারণে ঝিনাইদহে প্রতিনিয়ত নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এটা রোধ করতে হলে সচেতনতা ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সড়ক মহাসড়কে নিয়মিত অভিযোন জোরদার করে অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
 ঝিনাইদহ ট্রাফিক পরিদর্শক সালাহউদ্দীন জানান, সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘনার অন্যতম কারণ নছিমন, করিমন ও ইজিবাইকসহ অবৈধ যানবাহন। তিনি বলেন স্পিডগান বা গতি শনাক্তকারী যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা গড়াই ও রূপসা পরিবহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। তারা এখন ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার স্পিডে গাড়ি চালায়। তিনি বলেন, মহাসড়কে অবৈধ যান বন্ধ করতে না পারলে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ