বৃহস্পতিবার ২২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

বিশ্বনেতাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে প্রবল বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় দুর্ভিক্ষের মুখে আছে ৩ কোটির বেশি মানুষ। করোনা মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট এবং সংঘাত সমন্বিতভাবে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা পরিস্থিতিকে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক মাসে ২০টির বেশি দেশে তীব্র ক্ষুধা বা খাবারের সংকট বর্তমান সময়ের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিসংস্থার (এফএও) এবং বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি, খাদ্যসংকট ব্যাপক আকার ধারণ করা এলাকাগুলো নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানের অনেক এলাকার মানুষ এরই মধ্যে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছেন। আনুমানিক ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার আশঙ্কাজনক পর্যায়ে অবস্থান করছেন। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যে বিষয়গুলো তীব্র ক্ষুধা পরিস্থিতি তৈরি করেছে, সেগুলো হলো-সংঘাত, জনবায়ুর পরিবর্তন ও করোনা মহামারি।
খাদ্যাভাবজনিত দুর্ভোগের তথা দুর্ভিক্ষের যে বার্তা পাওয়া গেল তার আলোকে তো সভ্যতার শাসনকদের এখনই কাজে নেমে পড়া উচিত। নইলে তো পরিস্থতি আরো খারাপের দিকে চলে যেত পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সভ্যতার শাসকরা এ ব্যাপারে কতটা সচেতন? মানবতার কথা তো শাসকরা সবাই বলে থাকেন, কিন্তু মানুষের দুঃখ-দুর্ভোগ দূর করার কাজে তারা কতটা আন্তরিক? বরং তারা তো একে অন্যকে টপকে যাওয়ার চ্যালেঞ্জে মহাব্যস্ত। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তো স্পষ্ট করেই বললেন, যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে চীনকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ হতে দেবেন না তিনি। রয়টার্স পরিবেশিত খবরে আরও বলা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাথে ‘ঘন্টার পর ঘন্টা’ কথা বলেছিলেন। তিনি তখন বুঝতে পেরেছিলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট গণতন্ত্রকে নয়, স্বৈরতন্ত্রকেই ভবিষ্যতের চাবি হিসেবে ধারণ করবেন। বাইডেন তখন চীনের প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়াতে চায় না? তবে ন্যায্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ন্যায্য বাণিজ্য এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে চীনকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলতে হবে। এছাড়া একনায়কতন্ত্র লালন করায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে একহাত নেন বাইডেন। তিনি বলেন, সি- পুতিনেরই মত একজন, যিনি মনে করেন ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের ঢেউই বইবে এবং জটিল এই বিশ্বে গণতন্ত্র কাজ করবে না। এদিকে বাইডেনের বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রাষ্ট্রদূত কাই তিয়ানকাই। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, চীনের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের নাগরিকদের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করাÑকোনো দেশকে টপকানো নয়।
আমরা জানি যে, বড় বড় দেশের নেতারা, রাষ্ট্রদূতরা সাধারণত কূটনীতির ভাষায় কথা বলে থাকেন, কখনো কখনো তারা আক্রমণাত্মক ভাষাও ব্যবহার করে থাকেন। তবে এর চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑতারা পরস্পরকে ন্যায়, ন্যায্যতা, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলার যে আহ্বান জানিয়ে থাকেনÑ সে সব ক্ষেত্রে তাদের উদাহরণটা কেমন? ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও উইঘুর মুসলিমদের সাথে পরাশক্তিদের আচরণ কেমন? আর এখন দেখার বিষয় হবে, দুর্ভিক্ষে পতিত তিন কোটি মানুষের সাথে বিশ্বনেতাদের আচরণ কেমন হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ