শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

কাঁদবারও কেউ থাকলো না!

একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো সবার প্রাণ! বিনামেঘে বজ্রপাত। কান্না করবারও কেউ থাকলো না পরিবারটির। ছোট্ট মাটির ঘরটি ঠিকই আছে। চাল-চুলো, ঘরের দেয়াল, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবই আছে। কেবল নেই ঘরের মানুষগুলো। গত ২১ মার্চ রোববার এক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের পাঁচজনের সবাই নিহত। ভোরে ঘরটির দরজা-জানালা বন্ধ করে সবাই মিলে মাইক্রোবাসে ঢাকার নবীনগর আসছিলেন। ফরিদপুরের মধুখালির মাঝকান্দিতে এক ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষে ওই পরিবারের সবাই নিহত হয়েছেন। ওই দিন ফরিদপুরেই সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৭ জনসহ দেশের অনেক জায়গায় এ রকম দুর্ঘটনা ঘটেছে। মারা গেছেন অনেক মানুষ। আহত হয়েছেন অসংখ্য। অগণিত। অনেকে এমনভাবে আহত হয়েছেন সম্পূর্ণ সেরে ওঠবার কোনও উপায় নেই তাঁদের। হয়তো পঙ্গু হয়েই থাকতে হবে অনেককে। কিন্তু ফরিদপুরের হতভাগ্য পরিবারটির সবার প্রাণ কেড়ে নিলো একটি দুর্ঘটনা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে একশ্রেণির চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানো। তাছাড়া অনেকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। লাইসেন্সও নেই। ছিলেন হেলপার হয়ে গেছেন ড্রাইভার। স্টিয়ারিং ধরতে শেখেছেন মাত্র। অপ্রাপ্ত বয়স্করাও অনেকে গাড়ি চালাচ্ছেন। অন্যদিকে রাস্তাঘাটও যান চলাচলের উপযোগী নয়। তবু চলছে গাড়ি বেপরোয়া গতিতে। এতেও ঘটছে দুর্ঘটনা প্রতিদিন। ঝরছে অসংখ্য মানুষের জীবন। নেমে আসছে অনেকের জীবনে কালো অন্ধকার। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যাদের তাঁরাও সামলাতে পারছেন না। এ ছাড়া শহরে ট্রাফিক থাকলেও গ্রামের রাস্তায় নেই। ফুলস্পিডে ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা ঘটবে এমনটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া ড্রাইভারদের অনেকেই মাদকাসক্ত থাকেন। অথচ মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। বে-আইনি। কিন্তু কে শোনে কার কথা! অবস্থা এখন এমনই।
সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান শিশু-কিশোর, যুবক, বুড়ো, নারী, পুরুষ, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী অনেকেই। এদের কেউ যানবাহনের যাত্রী, পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী প্রমুখ। দুর্ঘটনাকবলিতদের কেউ কেউ যানবাহনের ড্রাইভার, হেলপার এবং কন্ডাকটরও। সড়ক দুর্ঘটনায় সারাদেশে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন মারা যাচ্ছেন। আহত হচ্ছেন তারও বেশি। তাও সব দুর্ঘটনার খবর মিডিয়ায় আসে না। সব দুর্ঘটনার মামলাও হয় না থানায়। তাই নিহত ও আহতদের সবাই ক্ষতিপূরণও পান না। অবশ্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে কোনও নিহতের মূল্যায়ন হয় না। হতে পারে না। আত্মীয়স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়া ও সহায়তা করা হয় মাত্র। যাই হোক, সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে অনেক পরিবার জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে পড়ে। আপনজনেরা অসহায় হন এবং কেউ কেউ পথে বসে পড়েন। তাই একটি সড়ক দুর্ঘটনা মানে অনেকের স্বপ্নভঙ্গ। জীবন তছনছ হয়ে যাবার শামিল। কখনও কখনও কোনও কোনও পরিবারের সবকিছু ধুলোয় মিশে যাওয়া। যেমন সেদিন ফরিদপুরের মধুখালির মাঝকান্দিতে একটি পরিবারের সবাই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তাঁদের কেউ আর কাঁদবারও নেই। কী বেদনার্ত এবং মর্মান্তিক ঘটনা! আমরা চাই না এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটুক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ