সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনা মহানগরীতে প্রতি মাসে ১৬ জন যক্ষা রোগী শনাক্ত 

খুলনা অফিস : মিল শ্রমিক এলাকা, ঘন বসতি বস্তি এলাকায় মানুষের বসাবসকারীদের কফ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যক্ষা রোগীদের সন্ধান বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত ২২৪ জন যক্ষা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)’র আওতাধীন ১৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭৫ জন যক্ষা রোগী শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া চলতি বছরের ১৬ মার্চ পর্যন্ত নতুন করে আরো ৪৯ জন যক্ষা রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পুরুষ রয়েছে ২৩ জন ও মহিলা রয়েছে ২৬ জন। খুলনা কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, পিমে সিস্টার্স নামক এনজিও এর মাধ্যমে কেসিসি’র ১৯টি ওয়ার্ডে বিনামুল্য চিকিৎসা ও পরীক্ষার মাধ্যমে ওই সব তথ্য বেরিয়ে আসে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন নিয়মিত চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব।

খুলনা কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, পিমে সিস্টার্স অফিস সূত্র মতে, ২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কেসিসি’র ১৯টি ওয়ার্ডে মানুষের বসাবসকারীদের কফ বিনামূল্য যক্ষা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ১৭৫ জনকে যক্ষা রোগী শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ রয়েছে ৯০ জন ও মহিলা রয়েছে ৫ জন। 

খুলনা কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, পিমে সিস্টার্স এর কো-অর্ডিনেটর মো. আকতার আলী জানান, ঘনবসতি এলাকায় বসাবসকারীদের মধ্যে যক্ষা রোগী বেশি শনাক্ত হচ্ছে। এ সব রোগীরা নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করলে এই রোগ থেকে নিরাময় হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, তাদের এই ক্লিনিকে যক্ষা রোগীর বেড সংখ্যা রয়েছে ৩৩টি। এর মধ্যে পুরুষ বেড সংখ্যা ২০টি বাকীগুলো মহিলাদের। ১৯৮৬ সাল থেকে তাদের এই সেবাদান প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামুল যক্ষা ও কুষ্ঠ রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছেন। তাদের নিয়োজিত লোকদের মাধ্যমে নগরীতে ১২টি ক্লিনিকে আউটডোরে যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, জেলার ৯ উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাক যক্ষা আক্রান্তদের চিকিৎসা সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়া মহানগরী এলাকায় এফএফ, পিকেএস এবং পিমে সিস্টেম নামক এনজিও এই রোগে আক্রান্তদের সেবা ও পরামর্শ দিচ্ছে। ওষুধের কোন ঘাটতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান। তথ্য মতে, অপুষ্টি, ছোঁয়াচে এবং ইথারে ইথারে জীবাণু ভেসে বেড়ানোর কারণে যক্ষা রোগের বিস্তার বাড়ছে। তাছাড়া বয়োবৃদ্ধজনিত কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসায় যক্ষা জীবাণু সহজে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। মহানগরীর ৯টি স্থানে মাইক্রোস্কপি পরীক্ষা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ