সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

চরম মানবিক বিপর্যয়ে নারী শিশুসহ গৃহহীন ৪০ হাজার রোহিঙ্গা

 শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার: ভয়ানক অগ্নিকা-ে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে টানা তিন রাত ধরে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে নারী শিশুসহ কমপক্ষে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। তীব্র গরমে খাবার, পানির সংকট ও দুগ্ধপোষ্য শিশুদের খাবারের অভাবে এই বিপর্যয়ের চিত্র আরও বেশি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এদিকে দ্রুত গৃহহারা রোহিঙ্গাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে কাজ করছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা।

কক্সবাজারের বালুখালী রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের ৯ নম্বর ক্যাম্প। আগুনের সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা রোহিঙ্গা পরিবারগুলো। তীব্র গরমে আশ্রয়ের জায়গাটুকু আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন তারা। খাদ্য ও খাবার পানি সংকটে অনাহারে চরম কষ্টে দিন পার করছেন তারা।

ভয়াবহ আগুনে বিরানভূমি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বড় অংশ। চারপাশে কেবলই আগুনে পোড়া ধ্বংসস্তূপ। এর মধ্যেই ঘরহারা মানুষের জন্য দ্রুত চলছে তাবু নির্মাণের কাজ। ইতোমধ্যে খুবই অল্প সংখ্যক রোহিঙ্গা তাঁবু পেয়েছেন। বাকীরা এখনও আশ্রয় কেন্দ্র এবং আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে গাদাগাদি করে অবস্থান নিয়েছেন। টানপোড়েন দেখা দিয়েছে খাদ্য সরবরাহেও। ফলে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে প্রায় সব রোহিঙ্গাই এখন এই অগ্নি দুর্ঘটনার ভুক্তভোগী হচ্ছেন।

অগ্নিকা-ে ঘরবাড়ি হারানোদের দাবি, এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, একটি পরিকল্পিত ঘটনা হতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন জানান, গঠিত তদন্ত কমিটি ৩ দিনের মধ্যে অগ্নিকা-ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে রিপোর্ট দেবে। গত সোমবার ভয়াবহ অগ্নিকা-ে পুড়ে গেছে রোহিঙ্গাদের ১০ হাজারের বেশি বসতি। মারা গেছে ১১ জন।

গত বুধবারও সকালে দেখা গেছে, টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক ও আশপাশের খোলা আকাশের নিচে তারা জড়ো হয়ে বিলাপ ধরে কাঁদছেন অনেকেই। ঘর নেই, বাড়ি নেই, নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই তাদের। দুগ্ধপোষ্য শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা রয়েছেন সবচেয়ে দুরাবস্থায়।

ভয়াবহ অগ্নিকা-ে সর্বস্ব হারিয়ে তারা আবারও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় বালুখালীর আগুনে পুড়া পরিবার গুলোতে দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব। পাশাপাশি নিখোঁজ স্বজনদের এখনও খুঁজে না পেয়ে অনেকেই বারবার মুষড়ে পড়ছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪শ’ মানুষ এখনও নিখোঁজ। এব্যাপারে রোহিঙ্গা এক্টিভিস্ট ডি.এম মরওয়ান জানিয়েছেন- অগ্নিকা-ের ঘটনার পর থেকে অকুস্থলে নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। ফলে কেউ কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট নিস্ক্রিয় থাকায় নিখোঁজ থাকা লোকজন পরস্পরকে খুঁজে নিতে কষ্ট হচ্ছে। অপর এক রোহিঙ্গা এক্টিভিস্ট ম্যাউ খান জানিয়েছেন- অগ্নিকা-ের দিন কোথাও কোথাও লুটপাটের মতো ঘটনাও ঘটেছে। আগুন থেকে পালিয়ে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে চলা অনেক রোহিঙ্গা নারীর সাথে থাকা স্বর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুট হয়েছে। 

জানা গেছে, বুধবার পর্যন্ত উখিয়ায় বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে পুড়ে ১৫ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে ১ জন নারী, ২ জন শিশু ও ৪ জন বৃদ্ধ রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছুদ্দৌজা জানান, দ্রুত গতিতে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। আপাতত অনেকগুলো অস্থায়ী তাবু দেওয়া হয়েছে। বাকীদেরও পর্যায়ক্রমে তাবু করে দেয়া হচ্ছে। তবে একাধারে অনেকেই খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে এমন তথ্য সঠিক নয়। তারা আশ্রয় কেন্দ্র এবং তাদের আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে রয়েছে। এবং সেখানেও সর্বোচ্চ খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ