সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে কাশিমবাজার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে 

গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী : সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত হরিপুর ইউনিয়ন যেন পরিত্যক্ত এক জনপদ। ইউনিয়নের কাশিমবাজার যেন এক নতুন ছিটমহল। গত দুই মাসে তিস্তা নদীর ভাঙনে এই বাজারের চার শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করলেও সরকারি কোনো কর্মকর্তা কিংবা জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজ নিতে আসেননি। ভাঙন কবলিতদের পাশে দাঁড়াতে জনপ্রতিনিধিদের নেই কোনো উদ্যোগ। নেই ভাঙন প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা। গাইবান্ধার মানচিত্রে হরিপুরের কাশিমবাজার থাকলেও ওই এলাকা দেখাশোনার দায়িত্ব কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের বলে দাবি করেছে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১১ নং হরিপুর ইউনিয়নের কাশিমবাজারের বাসিন্দা রওশন আরা বেগম। জন্মের পর বাবাকে দেখেননি। অনেক কষ্টে বড় করা মেয়েও এক দুর্ঘটনায় তাকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমায়। মেয়ের লাশ বাড়ির উঠানে কবর দেয়া হয়। কষ্টের মাঝে মেয়ের কবর দেখে মনে সান্ত¡না পেতেন রওশন আরা। মনে করতেন আদরের মেয়ে তার পাশেই আছে। কিন্তু চলতি সপ্তাহে তিস্তা নদীর কড়াল গ্রাসে মেয়ের কবরসহ তার ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারা রওশন আরা বেগম কাঁদতে কাঁদতে জাগো নিউজকে বলেন, মনে অনেক কষ্ট। কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। আমরা কোন দেশে আছি। আমাদের জন্য কেউ দয়া করে না। এখন আর বাঁচার ইচ্ছা নেই। আল্লাহ আমাদের মরণ দাও। নদীভাঙনের শিকার আলেয়া বেগম বলেন, আমাদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। সরকারি কোনো কর্মকর্তা তো দূরের কথা আমরা যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি; তারাও খোঁজ নিতে আসেনি। ভাঙনের শিকার আবু তালেব বলেন, ভিটেমাটি সব নদীতে গেল, ভিডিও করে কী লাভ। ঘরবাড়ি কি আর ফিরে আসবে। সবাইকে চেনা হয়েছে, বিপদে কেউ আসে না। সরেজমিনে দেখা যায়, হরিপুর ইউনিয়নের রওশন আরা, আলেয়া আর আর আবু তালেবের মতো গত দুই মাসে ভিটেমাটি হাড়িয়ে নিঃস্ব হয়েছে চার শতাধিক পরিবার। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘরবাড়ি সরাতে ব্যস্ত সবাই। কারও সঙ্গে কথা বলার যেন সময় নেই তাদের। এমন পরিস্থিতিতে এখনও কোনো জনপ্রতিনিধি ভাঙনকবলিতদের পাশে দাঁড়ায়নি বলে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরাও অভিযোগ করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ