মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২
Online Edition

একদিনে দেশে করোনায় বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু

 

স্টাফ রিপোর্টার : মহামারি করোনা ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৩৪ জন। যা এ বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর করোনায় মারা যান ৩৮ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ৭৯৭ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৫৮৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৫ জনে। এর আগে গত বছরের ২ জুলাই দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ১৯ জনের শরীরে। 

এদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থার অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৯৮৫ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৯৪ জন। এর আগের দিন বুধবার দেশে আরও ৩ হাজার ৫৬৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান আরও ২৫ জন। 

এদিকে বর্তমানে করোনার সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, এভাবে বাড়তে থাকলে করোনায় মৃত্যুও বাড়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ইউকে ভ্যারিয়েন্টটা আমাদের দেশে এসেছে। বাংলাদেশে যেভাবে ফ্লাইট চলাচল করছে, যেকোনো দেশ থেকে যেকেউই আসতে পারছে, তাদের কোয়ারেন্টিনও যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না। যে কারণে অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টগুলোও আমাদের এখানে আসার তীব্র সম্ভাবনা আছে। ইউকে ভ্যারিয়েন্টে তরুণরা বেশি আক্রান্ত হয়, এটার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। 

তিনি বলেন, আমাদের যারা শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের মধ্যে কতজন ইউকে ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছেন সেটা কিন্তু আমরা জানি না। কিন্তু, অবশ্যই কিছুসংখ্যক হলেও তো ইউকে ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছেন, যারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যারা আইসিইউতে আছেন। গত কয়েকদিনের চিত্র দেখলে বোঝা যায়, সংক্রমণ কী পরিমাণে বাড়ছে। তাদের মধ্যেই তো অনেকের অবস্থা গুরুতর। কাজেই প্রতিদিনই যদি এটা বাড়ে, তাহলে সামনের দিনগুলোতে মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন সংক্রমণের হার বাড়ছে। যদি পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে না নেয়া হয়, মানুষকে এখনই সচেতন না করা হয়, তাহলে এই সংক্রমণ বাড়তেই থাকবে। সংক্রমণ বাড়তে থাকলে মৃত্যুও বাড়বে। করোনা এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে না। আমাদেরকে করোনা নিয়েই বাঁচতে শিখতে হবে।’

বর্তমান সময়ে করণীয় নিয়ে এই দুই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, বাংলাদেশে এখন জরুরি ভিত্তিকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এই উদ্যোগগুলো হলোÍ অপ্রয়োজনীয় সব ধরনের জনসমাগম প্রতিরোধ করতে হবে। যেমন: সভা-সমাবেশ, মিটিং, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ওয়াজ-মাহফিল, বইমেলাÍ এগুলো বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সংক্রমণ আরও বাড়বে। এগুলো করতে প্রয়োজনে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে মাঠে নামাতে হবে। একইসঙ্গে কন্টাক্ট ট্রেসিংও করতে হবে। কোভিড কতটা মারাত্মক হতে পারে, সেই সম্পর্কে মানুষকে অবগত করতে হবে। যাতে মানুষ এটাকে গুরুতরভাবে নেয়। অন্যথায় মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানবে না। আর স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এদিকে বিশ্বজুড়ে এরই মধ্যে বিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৭ লাখ ৫৬ হাজার এবং আক্রান্ত ১২ কোটি ৫৪ লাখ। গত ২৪ ঘণ্টায় (একদিন) বিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ হাজার ৪১০ জন এবং করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৭ জন।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১২ কোটি ৫৪ লাখ ২৩ হাজার ৩১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৭ লাখ ৫৬ হাজার ৬৫৫ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৩১৮ জন। করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৭ লাখ ৪ হাজার ২৯২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৪২২ জনের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ