শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করুন

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে কাঁচা পাটের দাম আকাশ ছুঁলেও সাধারণ চাষিরা এ থেকে উপকৃত হতে পারছে না। কারণ, পাটের ভরা মওসুমে তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য খুব কম দামে ফরিয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে তুলে  দিয়েছে। বর্তমানে বাজারে পাটের অগ্নিমূল্য। সে ধারাবাহিকতায় গত মাসে প্রতিমণ কাঁচা পাটের দাম সাত হাজার টাকা ছুঁয়েছিল। বর্তমানে কিছুটা কমলেও বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৮০০ থেকে ৬ হাজার টাকায়। পাটের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পাটকলমালিক তিন শিফটের পরিবর্তে এক শিফটে উৎপাদন চালাচ্ছেন।
বেসরকারি পাটকলমালিকরা বলছেন, কাঁচা পাটের দাম দ্বিগুণের বেশি। পাটপণ্যের দামও আনুপাতিক হারে বেড়েছে। ফলে ক্রয়াদেশ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। তাই কাঁচা পাটের দাম নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় বেসরকারি পাট খাতের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
মূূূূূূূূলত, দেশে কী পরিমাণ পাট উৎপাদিত হয়, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। বছরে সাধারণত গড়ে ৭৫ লাখ বেল কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়। তবে খরা ও অতিবন্যার কারণে চলতি বছর উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ বেল। দেশের বেসরকারি পাটকলের জন্যই প্রয়োজন ৬০ লাখ বেল কাঁচাপাট। গৃহস্থালী ব্যবহারের জন্য ৫ লাখ বেল। এমন ব্যাখ্যা দিয়ে গত সেপ্টেম্বরে পাটকলমালিকদের দুই সংগঠন কাঁচা পাট রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানায়। তবে সরকারের উচ্চমহল কাঁচাপাট রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সবুজসংকেত দেয়নি। অবশ্য দামের লাগাম টানতে পাট অধিদপ্তর অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। এতেও দামের লাগাম টানা যায়নি।
কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলোর পাশাপাশি বহুমুখী পাটপণ্যের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বিপদে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে দামে ক্রয়াদেশ নেয়া হয়েছে, সে দামে কাঁচাপাটই কেনা যাচ্ছে না। তাদের বক্তব্য, পাটপণ্য নিত্যপ্রয়োজনীয় না হওয়ায় একটি পর্যায়ের পর বেশি দাম দেন না ক্রেতারা। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির ৭০ শতাংশই হচ্ছে পাটের সুতা। সেই সুতা কার্পেট  তৈরিতে বেশি ব্যবহৃত হয়। কাঁচাপাটের দাম অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা ঝুট কাপড়, তুলা ও পিপি সুতার দিকে ঝুঁকছেন। দ্রুত কাঁচাপাটের দাম নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে পাটের সুতার বিকল্প পণ্যগুলো স্থায়ীভাবে জায়গা দখল করবে বলে মনে করছেন পাটকলমালিকেরা।
মূলত, উৎপাদন কম হলেও বেশি দাম দিলেই কাঁচাপাট পাওয়া যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে কাঁচাপাটের ব্যবসাটি বর্তমানে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে চলে গেছে। অন্য খাতের ব্যবসায়ীরাও চলে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাট উৎপাদনের সঠিক তথ্য-উপাত্ত না থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা করা যায় না। এমতাবস্থায় সরকারকে মাঠপর্যায় থেকে উৎপাদনের যথাযথ পরিসংখ্যান জানতে হবে। নজরদারি বাড়াতে হবে বাজারে। মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে বাজার পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে না পারে এবং প্রান্তিকচাষিরা যাতে পাটের নায্যমূল্য পায় সেদিকেও যথাযথ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় পাটের ভবিষ্যৎ একেবারে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ