রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

চুপ! কথা বলো না

মুহাম্মদ জাবেদ আলী:  বড়ো এক মাঠ । যতদূর চোখ যায় ক্ষেত আর ক্ষেত ! মাঠের মাঝে একটা জলাধার । সেই জলাধারে বাস করে এক কাছিম । খুব সুখে আছে সে । এখানে অনেক অনেক মাছ । যখন খুশি খাও । হাপুস-হুপুস । গাপুস-গুপুস । যখন খুশি গান গাও ।

“আজ আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা”

সেখানে একজোড়া বকও আসে । তারা সকালে আসে বেলা ডোবার আগে চলে যায় । বক আর বকবউ; মাছ ধরে, মাছ খায় । গপ্পো করে, গান করে । কাছিমও তাদের গপ্পো আর গান শুনে । বকেরা বানিয়ে বানিয়ে দেশ-বিদেশের গপ্পো করে । কাছিম মন দিয়ে সে গপ্পো শুনে । মাঝে মাঝে মাছ ধরে পানিতে ভেসে ওঠে । পাখিদের খেতে দেয় । তাদের সাথে কাছিমের ভাব হয়ে যায় । তিনজনে কথা বলে । দিন যায়, মাস আসে, মাস যায় নতুন ঋতু আসে । গরমকাল। মাঠ-ঘাট শুকিয়ে কাঠ ! ফেটে-ফুটে চৌচির । জলাধারের পানিও শুকিয়ে যায় যায় । কাছিম ভয়ে হায় ! হায় ! করে। কোথায় যাবে, কিভাবে যাবে, খাবে কী । কোথায় আছে পুকুর, কোথায় আছে ডোবা, খাল-বিল-নদী । সেদিন নিজ ঘরে ফেরার আগে বক আর বকবউ কথা বলে ।

বক- জলাধারের পানি তো শেষ । এখন কী হবে গো ?

বকবউ- তাই তো, বিপদ ! বিপদ ! আমার এক সখী আছে । তার সাথে মোবাইলে কথা হয়েছে ।

বক- কী বলেছে, তোমার সখী ?

বকবউ- সেখানে পুকুর আছে, আর আছে পুকুর ভরা মাছ ।

বক- তাহলে তো ভাবনা নেই । আগামীকাল থেকে সেখানে যাবো। কাছিম কাছেই ছিলো, সে তাদের কথা শুনে; ভয়ে কেঁদে ওঠল ।

- হায় ! হায় ! মিতে, আমার কী হবে ?

কাছিমের কাঁদাকাটি দেখে বকের মায়া হয় । বউয়ের সাথে কথা বলে, কী করা যায় । মাছ খেয়ে খেয়ে কাছিমের যে অবস্থা । মটকু বাবু হয়ে গেছে । ফটাস করে ফুটে যাবে বুঝি ! নাকের জল চোখের জল এক করে কাছিম কাঁদতে থাকে । অবশেষে ঠিক হয় । তারা কাছিমকেও নিয়ে যাবে । 

বক বললো,  কেঁদো না, মিতে । আমাদের সাথে তোমাকেও নিয়ে যাবো । অনেক ভাবনা ভাবা হলো; শেষে ঠিক হলো, একটা শুকনো লাঠিতে করে নিয়ে যাবে । লাঠির দু’দিক বক আর বকবউ পা দিয়ে আঁকড়ে ধরবে । মাঝে মাঝে মাঠে নেমে মুখ দিয়ে কামড়ে ধরবে । আর কাছিম ভাইয়া লাঠির মাঝখানে ঠোঁট দিয়ে কামড়ে ধরবে । ব্যাস উড়ে যাবে তিনজনে । পরদিন বক আর বকবউ এলো । কাছিম তার পোটলা-পুটলি-গোটলা-গুটলি গুছিয়ে রেখেছিলো । বকের কথামত সব কিছু কাছিমের পায়ে বেঁধে নিলো । যেই ভাবা সেই কাজ । লাঠি কামড়ে ধরলো কাছিম ।

Ñ এক-দুই-তিন বলে উড়াল দিলো তারা । ঝকঝকে আকাশ । উড়ছে তো উড়ছেই । কত মাঠ ! কত বিল ! কত শহর ! কত নগর, নদী, সাগর পাড়ি দিল তারা । শেষে এক পাঠশালার কাছাকাছি এলো তারা । পাঠশালার খোলা মাঠে ছেলে-মেয়েরা খেলা করছিল । তারা ছিল হিঁদুর ছেলে-মেয়ে । কাছিমকে উড়ে যেতে দেখে তারা অবাক হয়ে গেলো ! সবাই চেঁচিয়ে বলতে লাগলো,

- দেখ, দেখ একটা কাছিম উড়ছে !

আর একজন দুঃখ করে চেঁচিয়ে বলল,

- আহারে ! আমার দাদু কাছিমের তরকারি খুব ভালবাসে । সবাই চেঁচিয়ে বললো,

-  ঢিল ছোঁড়ো জোরে জোরে,

কাছিম যেন মাটিতে পড়ে ।

ছড়া শুনে কাছিম গেলো রেগে । তারপর, কাছিমও তেলেবেগুনে চটে গিয়ে বলল,

- ওই ব্যাটারা, ফাইজলামি করো, দেখস না আমি কত উপরে আছি ।

আর যায় কোথায় ! ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেলো । ছেলে-মেয়েরা হৈ-হৈ করে কাছিমকে ধরে ফেললো । বক আর বকবউ ভয়ে উড়ে 

চলে গেলো ।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ