শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

মানুষ ও ভুলের সম্পর্ক

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন :

পৃথিবীর কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধে নয়। মানুষ মনভোলা বলে সহজে সবাই বলে, ভুলতো মানুষেরই হয়। ভুল করেনি এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। মানুষ নিজের অজান্তেই ভুল করে নাকি ইচ্ছাকৃত ভুল করে সেটাই জানার বিষয়।

সৃষ্টির সময় মহান প্রভূ মানুষকে জ্ঞানের স্বল্পতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এ কথা সবার জানা, তবু তিনি ঘোষণাও করে দিয়েছেন। মানুষ ঐ সামান্য জ্ঞান নিয়েই লাফালাফি করে। মানুষ তার জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেই ভুল করবে এটাও স্পষ্ট। তাই যেখানে মানুষ আছে সেখানে ভুলও থাকবে।

মানুষের স্বভাব দোষ করা, অনিয়ম করা, ভুলে যাওয়া, অস্বীকার করা। ভুলের বিপরীতে ক্ষমা ও শাস্তি পাওয়া। যারা ক্ষমা পাওয়ার উপযুক্ত তারা ক্ষমায় ভুল সংশোধন করেন যারা শাস্তির উপযুক্ত তারা শাস্তিতে নিস্তার পান। ভুল ও অপরাধ যেখানে ক্ষমা ও শাস্তি সেখানে। মানুষ যখন অতি সভ্য হতে চলেছে তখন মানুষ ইচ্ছাকৃত অতি ভুল করে চলেছে। জগতে সমস্যা হলো ইচ্ছাকৃত ভুল নিয়ে। ইচ্ছাকৃত ভুল মানুষ স্বীকার করে না কিন্তু অনিচ্ছাকৃত ভুল স্বীকার করে ও নিজে স্বস্তি লাভ করে।

ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া জরুরি, ভুলই মানুষকে উন্নত করে। ভুলের কারণে মানুষ শেখে, ভুলে সংশোধন হয়। জগতের প্রতিটি মানুষ ভুল করে। তবে এর মধ্যে তারাই উত্তম যারা ভুল স্বীকার করে, ভুলের জন্য ক্ষমা চায় এবং দ্বিতীয়বার ভুল না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। যারা ইচ্ছাকৃত ভুল করেন তাদের ব্যাপারে এ বক্তব্য নয়। ভুল স্বীকার করে প্রভুর নিকট ক্ষমা পাওয়া তথা আল্লাহর নৈকট্য লাভে বাহিরের পবিত্রতার চেয়ে নফসের পবিত্রতা জরুরি। যার অন্তরে পবিত্রতা নেই, হাজারো ওযু গোসল করেও তার ভুল স্বীকার করায় কোন কাজ হবে না। 

আল্লাহ প্রত্যেকটি মানুষের গোপন ও প্রকাশ্য প্রতিটি পদক্ষেপের খবর রাখেন। কোন কিছুই তার অজানা নয়। হযরত আবু জর গিফারি সূত্রে রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, আল্লাহ বলেন- হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই পথভ্রষ্ট, একমাত্র সে ছাড়া, যাকে আমি নিজে পথের সন্ধান দিয়েছি।

এমন কিছু মানুষ আছেন ভুল করাই যাদের কর্ম। যেমন- চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা ইত্যাদি। চোর ইচ্ছা করেই চুরি করে, ধরা না খেলে সে সাধু আর ধরা খেলে ভুল হয়ে গেছে। কারো সাথে চিট করে বললো- স্যরি,, ব্যস, বেঁচে গেলো। এ সব কাজে কিছু লোক আছে বিড়ালের মতো- কর্তা মানুষদের পিছু পিছু মেঁও মেঁও করে লেগে থাকে। এক সময় নিজেকে অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করে ধার নেয়, ঋণ নেয়, তারপর আর তাদেরকে  খুঁজে পাওয়া যায় না। লোকটির ভালোবাসার সুযোগে তার সর্বনাশ করে। এটা ইচ্ছাকৃত ভুল। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা ইচ্ছাকৃত ভুল করেন। 

সড়কে বা আকাশ পথে চালক কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনায় কবলিত হলে তা যেমনি ভাবে জনগণ মেনে নেবে, মিথ্যা মামলার মিথ্যা সাক্ষির ফলে কারো জীবনাবসান হলে তা কি একই রকম ভুল হিসেবে কেউ মেনে নেবে? কোনো লোকের যাবত জীবন হলে পনের বছর পর যদি তদন্তের ফল বের হয় পনের বছর আগের রায়ে ভুল ছিলো, তখন সেটাকে কি বলা চলে?

বড় বড় খাওয়ার হোটেল গুলোতেতো বরাবর ডাকাতি। একটি পানির বোতল বাইরে কিনতে পাওয়া যায় বিশ টাকা, হোটেলে ত্রিশ টাকারও বেশি। হাইওয়ে হোটেলগুলোতে একটি পরটার দাম বিশ টাকা যা সচরাচর পাঁচ টাকায় বিক্রি হয়। একবার এক হাইওয়ের হোটেলে এক কাপ চা রেখেছিলো পঞ্চাশ টাকা। এরা অল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতে চায়। কখনো কখনো হয়েও যায়। এ রকম বহু ব্যবসায়ী আছে মাল জমা করে রাখে। এরা ভুল করার জন্যই কাজ করে, ভুলই কর্ম, প্রতারণা তাদের ধর্ম। এরা বিভিন্ন পেশায় বিভিন্ন পোশাকে বিভিন্ন বেশ ভূষায় সজ্জিত। 

জমি-জমার ভুলতো স্যারেরা করবেনই, না করলে পরবর্তীতে অফিসের লোকজনের কোন কাজই থাকবে না। এ বিষয়ে একবার জানতে চাইলাম মাঠ জরিফে এরা কোন ধরনের অফিসার যারা সবই ভুল করেছে? কাগজ দলীল না দেখেই একজনের জমি আরেক জনের নামে দিয়ে গেলো? পরে জানলাম, তারা নাকি সরকারি কোনো লোকই না ,তারা চুক্তি ভিত্তিক অফিসার। তারা ভলিয়ম কিনে নিয়ে জরিপের কাজ করেছিলেন। ফলে তাদেরকে দু’শো টাকা দিয়েই এক জনের জমি আরেক জনকে মালিক বানিয়ে দেয়া যায়, কেউ মালিক বনে যায়, কেউ করে হায় হায়। এটাকে কোন ধরনের ভুল বলা যায়? তবে এখনকার ইন্টারনেট যুগে এসব সমস্যার সমাধান হবে আশা করি। চিনি আর লবণ দেখতে একই রকম! কিন্তু পার্থক্য শুধু স্বাদে। তেমনি মানুষ আর অমানুষও দেখতে একই রকম! পার্থক্য শুধু কাজে।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর “চাষার দুক্ষু” নামক প্রবন্ধের শুরুতেই লিখেছেন - শুনিতে পাই, দেড়শত বৎসর পূর্বে ভারতবাসী অসভ্য বর্বর ছিল, এই দেড়শত বৎসর হইতে আমরা ক্রমশ সভ্য হইতে সভ্যতর হইতেছি। এটুকু কি কম কথা! আমরা সভ্য থেকে সভ্য হতে চলেছি। দেড়হাজার বছর পর্যন্ত সভ্য হচ্ছি আর হচ্ছি,,। সভ্যতার মাপকাঠি কি?  পদে পদে ভুলপথে চলাটাই কি সভ্যতা? কারো মতে পোশাকের সংস্কৃতি হলো সভ্যতা- পোশাকের স্বল্পতা, টাইট ফিট আর আবেদনময়ী করে তোলা। কারো মতে লম্বা নতজানু আর ঢিলেঢালা এলোমেলোই ভালো। এর মধ্যে আবার কারো মতে নারী পুরুষের পোশাকের কোনো বিভেদ থাকবে না, তাহলেই ঠিক আছে? 

ভাষার ক্ষেত্রে সভ্যতা হচ্ছে খিচুড়ি মিশ্রণ, তৎসম বিদেশী আর তদ্ভব ভাষা মিশ্রণ করে ব্যবহার করাই সভ্যতা। এর সাথে মিথ্যা সাজিয়ে কাউকে খুশি করতে পারাই বড় সভ্যতা। সংসারও সুখি হয় অভিনয়ের মতো সত্য মিথ্যা সাজিয়ে বানিয়ে বলতে পারলে। ভাষার এমন মিশ্রণের ফলে আমাদের জাতিসত্ত্বা ও ভাষার মূল আকর্ষণ এবং মৌলিকত্বই যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

ইতিহাস ও কর্মের ভেতর দিয়ে তৈরী হয় অভিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতাই শুদ্ধ জ্ঞান। কথায় বলে “ঠেকছি যেখানে শিখছি সেখানে”। পৃথিবীর বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি স্বীকার করেছেন তাদের জীবনে বহু ভুল করেছেন। বিলগেটস নিজেই বলেছেন, আমার জীবনে বহু বহু ভুল সিদ্ধান্ত রয়েছে। কেউ বই পড়ে শেখে, কেউ জ্ঞানী বা বড়দের দারস্ত হয়ে শেখে, শেখাটাই অভিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতাই ভুলের সংশোধন। বই পড়ে কেউ দেওলিয়া হয় না, সত্য সমাগত, মিথ্যা বিতাড়িত, আগেকার লেখকদের এসব লেখা ছিলো অমূল্য সম্পদ, অথচ এখন ভুল!

ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন ভেবেছিলেন তিনি শীতকালে রাশিয়া আক্রমণ করে পুরো রাশিয়া দখল করে নিতে পারবেন। পরবর্তিতে তিনি স্বীকার করেছিলেন এটি ছিল তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ভুল। অর্ধেক সৈন্য প্রচন্ড ঠান্ডয় মারা যায় আর বাকি অর্ধেক খাবারে অভাবে অভুক্ত অবস্থায় প্রচন্ড খারাপ অবস্থায় ফ্রান্সে ফিরে আসে।

ডাচরা মানে কিংডম অফ নেদারল্যান্ড ব্রিটিশদের প্রায় ১০০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এটাকে একটা ব্যবহার অযোগ্য মরুভুমি বলে ফেলে গিয়েছিল। অথছ ব্রিটিশরা আজও অস্ট্রেলিয়ার কর্তা হিসাবে চলতেছে। আর আমার ধারণা অর্থনৈতিক দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া দিয়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ব্রিটিশরা।

রাশিয়া তার আলাস্কা নামক অঞ্চলটা আমেরিকার কাছে মাত্র দুই সেন্ট আর এক একর জমির বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছিল কারণ তাদের ধারণা ছিল এত বরফের মধ্যে আসলে কিছুই নেই আর এটা একেবারেই ইউজলেস হবে। পরবর্তীতে এই বরফঢাকা অঞ্চলটিই এখন আমেরিকার বিশাল সম্পদ।

১৯৩৬ সালে জার্মানরা তৎকালীন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এয়ার শীপ নির্মাণ করে যার নাম ছিল ‘হাইডেনবার্গ’ (খত ১২৯ ঐরহফবহনঁৎম)। কোন শালার বুদ্ধিতে তারা সেটার পুরো বেলুনটা হাইড্রোজেন গ্যাস দিয়া ভর্তি করেছিল। ফলে ঠিক তার পরের বছর ১৯৩৭ সালে সামান্য একটা আগুন পুরো একটা ভয়ানক বিস্ফোরনণের সৃস্টি করে। ভুল কারে বলে।

১৪ শতকে চাইনিজ সম্রাজ্য তার সমস্ত নেভি ইউনিটগুলো বন্ধ করে দেয় এবং নিজেদেরকে একেবারে একঘরে করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। অদ্ভুদ এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের পুরো উপকুল সম্পুর্ণরূপে  অরক্ষিত হয়ে পরে এবং পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে তারা অনেক অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সেই ১২ জন বই পাবলিশার বা প্রকাশক যারা জে.কে রাওলিংকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই বলে যে হ্যারি পটার নামক এই ফালতু বই কেউ কিনবে না। পরবর্তীতে ইষড়ড়সংনঁৎু চঁনষরংযরহম কম্পানি প্রথম বইটি প্রকাশ করতে রাজি হয় যাতে লেখিকাকে তারা মাত্র ২৫০০ পাউন্ড পারিশ্রমিক দিয়েছিল। মজার বিষয় হচ্ছে পরবর্তী বইয়ের জন্য তারা তাকে দিয়েছিল ১ লক্ষ পাউন্ড। আর তার পরে তো ইতিহাস।

আলেক্সান্ডার দ্যা গ্রেট পরো পৃথিবী দখল করেছিলেন। তার বিশাল এই সম্রাজ্য শাসন করার জন্য তিনি বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারেন নাই। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন কিন্তু মারা যাওয়ার আগে তিনি তার কোন উত্তরসুরির নাম বলে যাননি।

৪৪ খ্রিস্টপূর্বে রোমান রিপাবলিকের সম্রাট জুলিয়াস সিজার বিখ্যাত চবৎঢ়বঃঁড় ঘোষণা করেন; যেখানে তিনি পুরো রোমান রিপাবলিকের একক অধিপতি বনে যান। কিন্তু বিষয়টা রোমান সিনেট সদস্যাদের মোটেই পছন্দ হয়নি এবং তারা ধারণা করেন সম্রাট সিনেট বন্ধ করে এককভাবে সম্রাজ্য শাষণ করার চেষ্টা করছেন। তাই তারা সম্রাটকে হত্যা করেন আততায়ির মাধ্যমে । কিন্তু বিষয়টা যে একটা মারাত্মক ভুল ছিল তা পরবর্তীতে তারা উপলব্ধি করেন যখন পুরো রোমান সম্রাজ্যে ভয়ানক অন্তর্যুদ্ধ শুরু হয় এবং বিশাল সম্রাজ্য প্রায় ধংসের দারপ্রন্তে উপনীত হয়।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর “আমার পথ” প্রবন্ধে বলেছেন- “ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়েই তবে সত্যকে পাওয়া যায়। কেনো ভুল করছি বুঝতে পারলেই আমি প্রাণ খুলে তা স্বীকার করে নেব। কিন্তু না বুঝেও নয় ভয়েও নয়। ভুল করছি বা করেছি বুঝেও শুধু জেদের খাতিরে বা গোঁ বজায় রাখবার জন্য ভুলটাকে ধরে থাকব না।” অথচ আমাদের পুরো বর্ণমালাকে পরিবর্তন করে আমরা কত বড় ভুল করছি তা বহু বছর পরে বোঝা যাবে।

ড মরিস বুকাইলীর মতো বিজ্ঞানীরা কোরানের ভুল ধরতে গিয়ে নিজেরাই কোরানের ছাত্র হয়ে গেছে। এটা ভুল নয় এটা নিজের পরিবর্তন নিজে করা। ঠিক তেমনি সত্য লুকিয়ে কেউ নিজেকে মহান করতে পারবেনা এটা স্থায়ীভাবে মনে রাখতে হবে। মানুষ ও ভুলের সম্পর্ক একাকার কিন্তু বিবেক দিয়েছেন এই পার্থক্য বুঝে চলার জন্য। পথ চলতে গেলে আশেপাশে কাঁটাযুক্ত গাছের ডালপালা থাকতে পারে, কাঁটা যেন গায়ে না লাগে সেজন্য নিজে সতর্ক হয়ে চলতে হবে এটা হলো মানুষের কাজ। ভুলে চাকচিক্য আছে, তাতে পাপ আছে, চাকচিক্য হাতছানি দিয়ে ডাকে তা থেকে বাঁচতে হবে মানুষকে তাহলে প্রকৃত মানুষ হওয়া যাবে।

বিবেক আর মানবতা যখন জাগ্রত হয় তখন উদারচিত্তে অসহায় আর দরিদ্রকে সহযোগিতা করার ইচ্ছা জাগে কিন্তু যেখানে সেখানে যাকে তাকে সহযোগিতা করা যে এখন ভুল তা ভাবতেও কষ্ট লাগে। কতগুলো অমানুষ মানুষকে বিপদে ফেলার জন্য নিজে মিথ্যে অসহায় আর দরিদ্র সাজে এবং পরে প্রতারণা করে। এতে  একবারও মনে হয় না সবাই মানুষ, সবাই সবার উপকারের জন্য মানবতা প্রতিষ্ঠিত। এরা ইচ্ছা করে ভুলের পথ বেছে নিয়ে মানুষকে বিপদে পেলে আর কেউ সরল মনে বিপদে পড়ে, হায়রে মানবতা! কেউ দু’মুঠো খাওয়া ঠিকমতো পায়না আর কেউ হাজারো খাওয়া অপচয় করে ফেলে দেয়।

এখন সবচে বড় ভুল হলো পৃথিবীর কর্ণধার কতগুলো মানুষ অন্যায় অপরাধকে নীরবে সহ্য করে ও নীরবতার ভিতর দিয়ে সহযোগিতা করে। অন্যায়কে দেখেও না দেখার ভান করে। জেনে শুনে নিজের কর্তত্ব রক্ষার জন্য নিজের অধীনে বা দলে অপরাধীকে আশ্রয় পশ্রয় দেয়া। আরো বড় ভুল হলো- নিজের অধিকার রক্ষার জন্যও নিজেকে দুর্বল ভেবে আড়ালে নীরব থাকে। 

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন জেনারেল শিক্ষিত কিন্তু তিনি এতবেশি কোরান সম্পর্কে জানতেন যে তিনি বলেছেন, কেউ যদি সারা দুনিয়ার সকল জ্ঞান অর্জন করে কিন্তু কোরানের জ্ঞান অর্জন না করে তবে সে মূর্খই রয়ে গেল। তাই বলি জীবন সম্পর্কে জানার জন্য কোরানের সাথে সম্পর্ক না রাখলে এটা হবে জীবনের সবচে বড় ভুল।

এপিজে আবুল কালামের একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়েই এই লেখাটি শেষ করতে চাই। তিনি বলেছিলেন ‘ভুল মানুষ মাত্রই করে। কিন্তু সত্যিকারের মানুষ ভুল থেকে শেখে এবং ভুল শুধরে এগিয়ে যায়। আমরা ইচ্ছাকৃত ভুল করবো না এ নিয়ে প্রতিজ্ঞা করা সকলের উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ