রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

এ পথ বড় দুর্গম ও দুস্তর

 

ড. সাইয়েদ মুজতবা আহমাদ খান: শুধু বাংলাদেশেরই নয় বরং বিশ্বের প্রায় সকল দেশেরই আজ  সংবাদপত্র জগতের অবস্থাটা ভালো যাচ্ছে না। তেমন একটা সুবিধের নয় ভেতরের পরিস্থিতিটা। এর কারণ, বহুবিধ তো বটেই- বহু ধরনের স্বার্থ, আদর্শ ও অনাদর্শের টানা পোড়েন জড়িত। একদম নির্ভেজাল এবং খাঁটি আদর্শ চেতনার অভাব তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ পরিগ্রহ করছে বলতে গেলে সর্বত্রই। শুধুমাত্র আদর্শের কারণে আদর্শ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে সংবাদপত্র যারা পরিচালনা করেন তাদের তো সমস্যা ও সংকটের বিশাল পর্বতই সম্মুখে খাড়া ও দ-ায়মান। আর যারা শুধু বাণিজ্যিক কারণে বা অর্থবিত্তের ধান্দায় সংবাদপত্র পরিচালনা করেন-তাদের মনে হয় তেমন ভোগান্তি পোহাতে হয় না। বিজ্ঞাপনের ব্যাপক বিপুল সমাগম তাদেরকে অন্তত আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয় না বলে প্রতীয়মান। কিন্তু এক্ষেত্রে যারা আদর্শের কারণে বিশেষ করে যারা আবার সংবাদপত্র পরিচালনা করেন ইসলামী আদর্শের প্রচার প্রসারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সামনে রেখে তাদের সমস্যা ও সংকটের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। তারা বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত এবং বিপন্নতায় হরহামেশায়ই ক্ষতবিক্ষত। 

অথচ যারা মানব রচিত ও প্রদর্শিত আদর্শ প্রচারের কারণে সংবাদপত্র জগতে আবির্ভূত হয়েছেন-তাদের সংকট ও সমস্যা তেমন নেই বললেই চলে। বরং তারা বর্তমানে প্রায় জামাই আদরে সমাদৃত। বিশেষভাবে সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার সয়লাবে ধন্য। কোনো কিছুর অভাব তাদের নেই বললেই চলে। ঘি চিনি খেয়েই দিব্বি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ফুরফুরে মেজাজে জীবন অতিবাহিত করছেন। তাদের মত ভাগ্য আর কতজনের হয়! কিন্তু ইসলামকে যারা মানব জীবনের সর্বত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় চেষ্টারত, জান প্রাণ দিয়ে যারা বাতিল আদর্শের পরিবর্তে খোদায়ী আদর্শের বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ-তারা কোনো সুযোগ সুবিধা থাক বহু দূরে-টিকে থাকাটাই এখন মহামুশকিল হয়ে পড়েছে। অভাব অনটন নিত্যসঙ্গী, মাসের পর মাস বেতন বকেয়া- সাংবাদিক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ মানবেতর জীবন যাপন করছেন দীর্ঘদিন কিন্তু কারো এদিকে ভ্রক্ষেপ মাত্র নেই বললেই চলে। তদুপরি চোখ রাঙানী, হুমকি ধামকীর ¯্রােততো অহরহ, অবিরাম অবিরত।  

অথচ যারা এ পথের পথিক তাদের এ পথে চলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যদি খবর নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়, নিরপেক্ষভাবে বিচার বিশ্লেষণ করা হয়-একেবারে ভেতরের তথ্য নেয়া হয়-তবে এ সত্য একদম বির্মূত হয়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য তারা কোনো বৈষয়িক স্বার্থ কিংবা পার্থিব কোনো সুযোগ সুবিধা লাভের দূরতম আশায়ও সংবাদপত্র জগতের সঙ্গে জড়িত হননি। নামকামের জন্য তো নয়ই-হামবড়া কেউকেটা হওয়ার জন্য তাদের মাথা ব্যথা নেই সামান্যতমও। কোনো পোষ্ট পজিশন, কোনো দপ্তরের দপ্তরী হওয়ার আশাও এদের নেই। স্রেফ আল্লাহকে ভালোবেসে-আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই চরম পরম লক্ষ্য এদের ।

অথচ এদের সম্পর্কে এদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কেই একদম কল্পিত অমূলক ভিত্তিহীন ও নিছক মিথ্যা ধারনা ও সন্দেহ পোষন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। দিনের পর দিন তুমুল প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে শুধুমাত্র বাতিল পথের পথিকদেরে ছাড় দেয়া  হয়। তারা নির্বিঘ্নে নির্বিচারে অন্য দেশের তন্ত্রমন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন-তার খবর নেয়ার গরজ অনুভব করা হয় না। তারা যে বিদেশী মতাদর্শ, মানব রচিত মতবাদের সোল এজেন্সী নিয়ে সার্বক্ষণিক তৎপর-দেশের আপামর-আবাল বৃদ্ধ বণিতার যাপিত জীবনাদর্শের গোড়া কাটতে চেষ্টিত-তা কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহলের দৃষ্টিতেই পড়েনা। তারা ভাবে তথাকথিত মৌলবাদীদের ঠেকাও আগে। অথচ মৌলবাদ সম্পর্কে, ইসলামের মৌলবাদী ধ্যান ধারণা এবং দর্শন সম্পর্কে যে ভুল ও ভ্রান্ত তথ্য প্রদান করা হয়। তার অবসানের জন্য কেউ এগিয়ে আসেন না। কেউ  এগিয়ে আসলে সেও ভ্রান্ত বলে সাব্যস্ত হওয়ার পাল্লায় পড়ে যেতে সমূহ আশংকার শিকারে পরিণত হন।

 অপপ্রচার, ব্যাপক বিভ্রান্তির খিস্তি খেউড় এবং মিথ্যাচারের আতিশয্যে সংবাদপত্র জগতকে কোনঠাসা করে রাখা হয় বললে অত্যুক্তি হয়না। বিশেষ করে যারা দেশ ও জনগনের প্রকৃত কল্যাণ কামনা করে-ঐশী আদর্শের দ্বারা জনজীবনকে সাজাতে চেষ্টা করে, পরকালীন জীবনে মুক্তির জন্যে পরামর্শ প্রদান করে-তারা কি মানুষের প্রকৃত বন্ধু নয়? তারা কি জনগনের প্রকৃত কল্যান চায়- না যারা শুধু মানব রচিত জীবন বিধান দ্বারা

পার্থিব জীবনকে পরিবর্তন করতে প্রচেষ্টা করে-তারা মানুষের কল্যাণ কামী? আসলে এ স্থলে এসেই যারা এ বিশ্বের জীবনকেই শেষ ভাবেন-পরকালীন জীবনের প্রতি যারা উদাসীন, সংশয়বাদী বা দোদল্যমান মানুষ অথবা একদম অবিশ্বাসী-তারা ঐশী আদর্শের পাতকা বাহীদেরকে ভুল বুঝেন তাদের সম্পর্কে বিভ্রান্তি মূলক মন্তব্য ছুড়েদেন এবং তাদেরকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করেন, কটাক্ষপাত করেন। ব্যঙ্গ বিদ্রুপও করেন। যেমন -মৌলবাদী, সেকেলে, অনাধুনিক, প্রগতিবিরোধী এবং ধর্মান্ধ বলে কটু কাটুব্য করেন। তবে এরা যেসব মন্তব্য ছুড়েদেন-অনেকেই না বুঝে অথবা নাস্তিক, ধর্ম বিরোধী লোকের দ্বারা বশীভুত হয়ে-প্রভাবিত হয়ে ওসব করেন। এজন্যে আমরা দায়ী করিনে ষোল আনা বরং এদের জন্যে করুণাই প্রকাশ করবো সর্বান্ত করণে।

আর যারা বুঝে শুনেই ধর্মের বিরুদ্ধে ঐশী আদর্শের বিপক্ষে লড়াই করেন-তাদের কথা আলাদা। কারণ এরা সীলমারা মানুষ। এরা ইসলামের শত্রুদের কাছ থেকে মাসোহারা পান। এরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নাস্তিক বা ধর্মবিরোধী মানুষ। এদের সম্পর্কে আল্লাহই বলে দিয়েছেন যে, এদেরকে আমার হাতেই ছেড়ে দাও আমিই এদেরকে সামলাবো।

যুগে যুগে কালে কালে এদের দেখা পাওয়া যায়-এরা থাকবে চিরদিনই  যতো দিন থাকবে চন্দ্র সূর্য তারকারাজী। টিকে থাকবে এ বিশ্ব-ততোদিনই ওদের সঙ্গে দেখা হবে সত্য পথের পথিকদের । সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ¦ তো শেষ হবার নয়-কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত রইবে আলো ও অন্ধকারের লড়াই। এর ব্যত্যয় ঘটবে না। সত্য পথের লোকজন-সত্যের পথে ডাকবে মানুষকে-এটাই তাদের চিরকালের নির্ধারিত মিশন। আবার অসত্যের ধ্বজাধারীরাও সামনে এসে দাঁড়াবে। সত্যের বিরোধীতা করবে সর্বদা সদর্পে। এর ব্যতিক্রম হবার নয়। কারণ সত্যের চির মহা শত্রু যে ওদের পেছনে ইন্ধন জোগাচ্ছে। সুতরাং সত্য পথের পথিকরাঃ ভীত বিহবল হবার কোনো কারণ নেই- আপনাদের পেছনেও রয়েছেন সকল সৃষ্টির একমাত্র ¯্রষ্টা স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ