মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

বুড়িগঙ্গার যৌবন ফেরাতে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মাস্টারপ্ল্যান

 

মুহাম্মদ নূরে আলম: বুড়িগঙ্গা নদীর আদি উৎসমুখ (ধলেশ্বরী থেকে বছিলা পর্যন্ত) কোনো না কোনোভাবে দখল ও ভরাট-প্রক্রিয়া চলমান আছে। এতে বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় চ্যানেল মৃত্যুমুখে পড়েছে। নদীটির অস্তিত্ব এখন হুমকির সম্মুখীন। এরই ধারাবাহিকতায় বুড়িগঙ্গা নদীর আদি স্রোতধারা বা চ্যানেলের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ১৯২৬ থেকে ১৯৪০ সালের সিএস (ক্যাটাস্ট্রাল সার্ভে) ম্যাপ অনুসরণ করে যেখানে নদী ছিল, সেই অংশকে আবারও সেই আঙ্গিকে প্রবহমান নদীর রূপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীকে পুরোনো চেহারায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নদীর দু'পাশে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ এবং হাতিরঝিলের চেয়ে আধুনিকভাবে সজ্জিত করে নদীর দু'পাড়ের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাকে দৃষ্টিনন্দন করে তৈরি করা হবে। বুড়িগঙ্গার এই আদি চ্যানেল সংস্কার হলে রাজধানীর বড় অংশের পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হবে। সাড়ে ৭ কিমি. দীর্ঘ চ্যানেলের দু’পাশে থাকবে দৃষ্টিনন্দন সবুজ উন্মুক্ত স্থান ও বিনোদন স্পট থাকবে। কামরাঙ্গীরচরের মুসলিমবাগ থেকে রায়েরবাজার পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল। 

ইতোমধ্যে সংস্থাটি হাতিরঝিলের আদলে মাস্টারপ্ল্যান (খসড়া) তৈরি করেছে। এই মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী আদি চ্যানেল খনন, অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। নদী খনন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্রিজ, ওভারপাস নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়ন কাজের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিকে (এমআইএসটি) দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসসি) এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। ইতোমধ্যে তারা খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। শিগগির তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করবে। এর ওপর ভিত্তি করে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল (ডিপিপি) প্রস্তুত করবে ডিএসসিসি। বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের দু’পাশের এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামবাগ, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ শ্মশানঘাট, শহীদনগর, ঝাউচর, হাজারীবাগ সেকশন, কালুনগর, বউবাজার, সিকদার রিয়েল এস্টেট ও সিকদার মেডিকেল কলেজ। এ এলাকাগুলো খুবই অবহেলিত।

এমআইএসটির খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নদীর দু'পাশে দৃষ্টিনন্দন সবুজবেষ্টনী, উন্মুক্ত স্থান, বিনোদন স্পট তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে চ্যানেলের দু'পাশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেতু বা ওভারপাস তৈরি করা হবে। পুরো চ্যানেলটি উদ্ধার হলে রাজধানীর একটি বড় অংশের জলাবদ্ধতারও নিরসন হবে। অবহেলিত কামরাঙ্গীরচর, ইসলামবাগ, লালবাগ, হাজারীবাগসহ ওই এলাকার নদীর দু'পাশের মানুষের জীবনযাত্রার চেহারাও বদলে যাবে। এলাকার পরিবেশের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। পুরো এলাকা আধুনিক বাসযোগ্য হিসেবে পরিণত হবে। এ জন্য প্রাথমিক ব্যয় চিন্তা করা হচ্ছে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার মুসলিমবাগে আদি চ্যানেল থেকে শুরু করে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ সড়কের পশ্চিম পাশের খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। চ্যানেলের দুই পাশে দৃষ্টিনন্দন সবুজ গাছ-গাছালিসহ উন্মুক্ত স্থান, ব্রিজ, ওভারপাস, বিনোদন স্পট থাকবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বড় একটি অংশের পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হবে। পাশাপাশি লালবাগ, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, ইসলামবাগে আরও আধুনিক বাসযোগ্য পরিবেশ হবে।

ডিএসসিসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কামরাঙ্গীরচরের মুসলিমবাগ থেকে রায়েরবাজার পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল। প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই চ্যানেল পুনরুদ্ধার করলে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই সমাধান হবে। এছাড়া অবহেলিত কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, হাজারীবাগ এলাকার পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে এবং অধিকতর বাসযোগ্য হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা গেছে,  বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলটি আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে পরিবেশও দূষিত হয়েছে। প্রভাবশালীরা বুড়িগঙ্গার জমি দখল করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। অনেকে জাল-দলিলও করেছেন। কোনো কোনো স্থানে মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধারে সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। এই চ্যানেল পুনরুদ্ধারে ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিএসসিসির তৎকালীন মেয়রকে নির্দেশ দেন। বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস নতুন করে এ চ্যানেল পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছেন।

বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধারে অনেক আগ থেকেই সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ দাবি জানিয়েছি। কিন্তু তেমন কোনো সাড়া পাইনি। এখন বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছেন। বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল নিয়ে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বুড়িগঙ্গা তীরের বাসিন্দারা। তাদের দাবি, পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই চ্যানেলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এছাড়া যারা আদি চ্যানেলের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে ভবিষ্যতে কেউ নদীর জায়গা দখলের সুযোগ পাবে না।

সংশোধিত ড্যাপে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানল পুনরুদ্ধারের সুপারিশ করা হয়েছে। এখন ডিএসসিসি যে উদ্যোগ নিয়েছে, সে কাজে রাজউক সব ধরনের সহযোগিতা করবে। লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ এলাকার বিভিন্ন মৌজা ঘিরে বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল। এখন এই চ্যানেলটি ময়লা-আবর্জনায় ভরা। চ্যানেলে পানি প্রবাহ নেই। জমে থাকা কালো পানিতে মশার লার্ভার স্তর বসেছে। এর মধ্যে কামরাঙ্গীরচরের সেকশন থেকে হাজারীবাগের কালুনগর পর্যন্ত আদি চ্যানেল খালে রূপ নিয়েছে। কিন্তু কালুনগর থেকে রায়েরবাজার পর্যন্ত আদি চ্যানেলের তেমন কোনো অস্তিত্ব বা চিহ্ন নেই। শুধু ছোট একটি খাল ঘুরে রায়েরবাজারের দিকে যেতে দেখা গেছে। 

আদি চ্যানেল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং চ্যানেলটি খননের দাবিতে বিভিন্ন সময় সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন করেছে পরিবেশবাদী এবং সামাজিক সংগঠন। সবশেষ ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর কামরাঙ্গীরচর সরকারি হাসপাতাল মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় এই চ্যানেলটি পুনরুদ্ধারে ডিএসসিসির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন তিনি আদি চ্যানেল নিয়ে মহাপরিকল্পনা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। পরে বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস নির্বাচিত হওয়ার পর কয়েক দফায় আদি চ্যানেল পরিদর্শন করেন। নতুন করে নেন ওই উদ্যোগ।

বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের বড় একটি অংশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধারে অনেক আগ থেকেই সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ দাবি জানিয়েছি। কিন্তু তেমন কোনো সাড়া পাইনি। এখন বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছেন। এজন্য কামরাঙ্গীরচরের সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, কামরাঙ্গীরচরে ১৫ লাখের বেশি মানুষ বাস করেন। তাদের অধিকাংশই নিম্ন-মধ্যবিত্ত। এখন এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।

এই প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েক মাস আগে এমআইএসটি এই আদি চ্যানেল নিয়ে খসড়া প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। তারপর ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশদ নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা প্রকল্পের (ড্যাপ) পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সংশোধিত ড্যাপে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানল পুনরুদ্ধারের সুপারিশ করা হয়েছে। এখন ডিএসসিসি যে উদ্যোগ নিয়েছে, সে কাজে রাজউক সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, বুড়িগঙ্গার চুনারচর, ভাড়ালিয়াপাড়া, মুগড়াকান্দা, উত্তর বাহেরচর, টোটালিয়াপাড়া, চরওয়াসপুর এলাকায় বড় আকারে ব্যাপকভাবে দখল হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রমতে, বর্ষাকালে এই নদীর পানি প্রবহমান থাকে। তবে বছিলায় সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ও কিছু হাউজিং কোম্পানির দখলের কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ধলেশ্বরী থেকে আসা আদি বুড়িগঙ্গার মিলনমুখ। শরীফ জামিল বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় উৎসমুখ ও দ্বিতীয় চ্যানেলসহ পুরো নদী ভরাট ও নির্মাণকাজ বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া অবিলম্বে যথাযথভাবে সীমানা চিহ্নিত করে নদীটিকে বাঁচাতে হবে।

কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আরিফ হাসান বলেন, এরশাদের শাসন আমলে (১৯৮৭-১৯৮৮ সালে) বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল থেকে নৌকায় করে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় যেতাম। ১৯৯০ সালে বেড়িবাঁধ হওয়ার পর থেকে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আদি চ্যানেলের জায়গায় স্থায়ী অবকাঠামোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। চ্যানেল রক্ষায় প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার।

ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সাংবাদিকদের বলেন, বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এমআইএসটি বুড়িগঙ্গার এ চ্যানেল পুনরুদ্ধারে কাজ করবে।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বি আইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ডিএসসিসির মেয়রের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এমন উদ্যোগ আরও আগে নেয়া দরকার ছিল। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বড় অংশের পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান ঘটবে। একইসঙ্গে আদি চ্যানেলের দু’পাশের আধুনিকায়ন হবে এবং আশপাশের পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে। এভাবে রাজধানীর অন্যান্য খাল বা পানি নিষ্কাশন চ্যানেলগুলো উদ্ধার করলে রাজধানীর পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান ঘটবে।

বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কাজটা কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়। সরকার চাইলেই সম্ভব। তিনি বলেন, এর আগে আদি বুড়িগঙ্গার কিছু অংশ উদ্ধার করে হাতিরঝিলের মতো একটা প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেটা আমরা বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু সিএস ম্যাপ অনুসরণ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে সাধুবাদ জানাব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ