ঢাকা, ‍শনিবার 18 September 2021, ৩ আশ্বিন ১৪২৮, ১০ সফর ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: গণ-পরিবহণে নেই কোন স্বাস্থ্য সচেতনতা। মার্কেট-বাজারে মানুষের ভিড়ে পা ফেলা দায়। বেশিরভাগ নাগরিকের মুখেই থাকে না মাস্ক, সামাজিক দূরত্বও মানা হচ্ছে না। করোনা মহামারির এক বছর পার হলেও এমন চিত্র রাজধানীসহ সারাদেশের।

ফেব্রুয়ারিতে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ছিলো ২ দশমিক। মার্চে তা বেড়ে এখন ৬ অতিক্রম করেছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আশরাফ হোসেন নামে একজন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘দেশে প্রতিদিন সংক্রমণের হার লাফিয়ে বাড়ছে। শুক্রবার মৃতের সংখ্যা গত দিনের চেয়ে এক লাফে দ্বিগুণ হয়েছে। এরপরও দিনে দিনে অসচেতন হচ্ছে মানুষ। এ বিষয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে আরও চিন্তা ভাবনা করা উচিত।’

রাজধানীর একাধিক অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয় বাংলাদেশ জার্নালের। অভিভাবকরা বলেন, ‘আবার যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, এমন অবস্থা চললে সন্তানকে স্কুলে পাঠানো দায় হবে। আগে সন্তানের জীবনের সুরক্ষা, এরপর শিক্ষা।’

শান্তা ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে কি হবে জানি না, তবে বিপর্যয় যে হবে না এ কথা উড়িয়ে দেয়া যায় না। এ বিষয়ে আরও গবেষণা করে সরকারকে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মো. আরিফ মাহমুদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করেনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতির সময় তাদের হাইজিন, সামাজিক দূরত্ব, টয়লেট, টিফিনসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখনই টিকা দেয়া শুরু হলো, এরপর থেকেই আমাদের জনসচেতনতা কমতে শুরু করলো। যে কারণে পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘ভারতের পুনে ও মহারাষ্ট্রে আবারো লক-ডাউন দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। এ কারণে আমি মনে করি স্কুল-কলেজ এখন না খোলাই হবে উপযোগী সিদ্ধান্ত।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে সরকারের একটি ঘোষণা দেয়া উচিত, যাতে জনগণ সচেতন হয়।’

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘করোনার নতুন ধরণ (ইউকে ভেরিয়ান্টটি) বাংলাদেশে আসায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সম্পর্কে সরকারের উচিত ব্যাপক কাজ করা। এর জিনোম সিকোয়েন্স করে যে আক্রান্ত তাকে কঠোর আইসোলেশনে রাখা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার নতুন ধরণে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখলে হবে না। অবশ্যই হাসপাতালে রাখতে হবে। তার সহচরে যারা এসেছেন তাদেরকে ট্রেস করে করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যাতে এ ভাইরাস আর না ছড়ায়।’

বেনজির আহমেদ উল্লেখ করেন, সরকারের উচিত ছিলো শিক্ষকদের টিকা সবার আগে দেয়া। কারণ আমাদের দেশে শুধুমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম এক বছরের অধিক বন্ধ রয়েছে। বাকি সব কিছু অনেক আগে থেকেই খুলেছে। যদি শিক্ষকদের টিকা আগে দেয়া হত তবে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হত।

উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন আগামী ৩০ মার্চ স্কুল ও কলেজ খোলা হবে। তবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে শনিবার আবার বৈঠকের ডাক দেয়া হয়েছে।

আজ (শুক্রবার) শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের চলমান ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। সরকার বিবেচনা করবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩০ মার্চ খুলবে নাকি পেছাবে। যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে জানানো হবে।’

বাংলাদেশে করোনাভাইসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে গত বছরের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে কওমি মাদ্রাসা খুললেও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও ‘ছুটি’ চলছে।- বিডি জার্নাল

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ