শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

দুশ্চিন্তা কাটিয়ে অনুশীলনে টাইগাররা নিউজিল্যান্ডে ভূমিকম্প ॥ নিরাপদে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

স্পোর্টস রিপোর্টার : নিউজিল্যান্ড সফরে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছেনা বাংলাদেশ ত্রিকেট দলের। বাংলাদেশের সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরও সুখকর ছিল না। ২০১৯ সালের শুরুতে ক্রাইস্টচার্চে এক মসজিদে বন্দুকধারী গুলী করে ৫০ জন মুসল্লিকে খুন করে। বাংলাদেশ দলও ওই মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাচ্ছিল। ভাগ্যের সহায়তায় ক্রিকেটাররা সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন। ভয়ানক এই অভিজ্ঞতা নিয়েই সিরিজ শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয়েছিল বাংলাদেশ দলকে। এবারের সফরে হঠাৎ করেই নিউজিল্যান্ডে রিখটার স্কেলে ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পের পর দেশটিতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে ভালো খবর ভূমিকম্পে ক্রিকেটারদের কোনও ক্ষতি হয়নি। এমনটাই জানিয়েছেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান ও বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। আকরাম খান বলেন, ‘সবাই সুস্থ আছে। লজিস্টিকস ম্যানেজার সাব্বির খানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিই জানিয়েছেন কারও কোনও সমস্যা হয়নি। গভীর রাতে ভূমিকম্প হয়েছে। দলের সবাই তখন ঘুমিয়ে ছিল। কেউই আসলে টের পায়নি।’ বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ক্রিকেটারদের নিরাপদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,‘তাদের কোনও সমস্যা হয়নি। ক্রাইস্টচার্চে ভূমিকম্পের কোনও আঁচ পড়েনি। কেননা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ক্রাইস্টচার্চ অনেক দূরে। ওখানে কোনও প্রকার সতর্কবার্তাও জারি করা হয়নি।’ শুক্রবার (৫ মার্চ) স্থানীয় সময় রাত ২টা ২৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২৭ মিনিটে) এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। নিউজিল্যান্ডের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে যে সুনামির স্রোত সৃষ্টি হয়েছে, তা তাদের দেশে আছড়ে পড়বে কীনা, তা এখনও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১১ সালে একটি ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প সরাসরি আঘাত হেনেছিল নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে। শহরটির অর্ধেক প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ১৮৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল ওই ঘটনায়। ধ্বংসের মুখে পড়েছিল অধিকাংশ শহরতলিও। সেই শহরেই ক্রিকেটাররা অবস্থান করছেন। তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ দল বর্তমানে ক্রাইস্টচার্চে অবস্থান করছে। তবে ভূমিকম্পের কোনও প্রভাব সেখানে পড়েনি। তবে দেশটির জননিরাপত্তা বিভাগ সর্ব সাধারণকে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ ভূমিকম্পের পর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে উঁচু ও অস্বাভাবিক ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলটি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ এলাকা জুড়ে সুনামি তরঙ্গ দেখা দিতে পারে।  তবে সেখানে সুনামির সতর্কতা তুলে নেওয়ায় নিশ্চিন্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অনুশীলন করছেন বলে জানিয়েছেন এই সফরে বাংলাদেশ দলের লিডার ও বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। জালাল ইউনুস জানান,ভূমিকম্পের খুব বেশি প্রভাব ক্রাইস্টচার্চে অবস্থান করা ক্রিকেটারদের ওপর পড়েনি। অনুশীলনও করেছেন স্বাভাবিকভাবে। রুটিনমাফিক যে অনুশীলন ছিল তা করছেন তামিমরা। জালাল ইউনুস বললেন,‘যেভাবে আমাদের নিয়মমাফিক অনুশীলন ছিল, সেভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। চারটি গ্রুপে খেলোয়াড়রা অনুশীলন করেছে, জিম করেছে। সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ আছে, তারা আমাদের চিন্তা করতে মানা করেছে। সবকিছু ঠিক আছে, যেসব অঞ্চলে সুনামি সতর্ক রয়েছে তাও তুলে নেওয়া হচ্ছে। আমরা সূচি মোতাবেক কাজ চালিয়ে যাবো।’ দেশটির সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং নিশ্চিন্তে অনুশীলনের সবুজ সংকেত দিয়েছে। এক ভিডিও বার্তায় বিসিবির এই কর্মকর্তা বলেছেন,‘নিউ জিল্যান্ডে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ২৭ মিনিটে নর্থ আইসল্যান্ডের ইস্ট কোস্টের দিকে একটি ভূমিকম্প হয়, যা ক্রাইস্টচার্চ থেকে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের গভীরে হয়েছিল। সেখান থেকে সুনামি হওয়ার আশঙ্কা ছিল উত্তরাঞ্চলের সৈকত সংলগ্ন এলাকায়। তবে তার প্রভাব পড়েনি ক্রাইস্টচার্চে। বাংলাদেশ দল ভালো আছে, আমরা সবাই সুস্থ আছি, নিরাপদে আছি।’ নিউজিল্যান্ডে লম্বা সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিন টি-টুয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ। ২০, ২৩ ও ২৬ মার্চ হবে তিনটি ওয়ানডে; ভেন্যু যথাক্রমে ডানেডিন, ক্রাইস্টচার্চ ও ওয়েলিংটন। ক্রাইস্টচার্চের ম্যাচটি দিবা-রাত্রির হবে। ওয়ানডের পর টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। ম্যাচ তিনটি ২৮, ৩০ মার্চ ও ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। নেপিয়ার, অকল্যান্ড ও হ্যামিল্টনে হবে কুড়ি ওভারের সিরিজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ