শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

অহংকারী বাঘ

নূর মোহাম্মদ দীন:

‘আমি হলাম বনের রাজা। এই বনে আমার চেয়ে শক্তিশালী আর কে আছে ? কে আছিস সাহস থাকলে সামনে আয়। এক্কেবারে ঘাড় মটকে দেব।’ সবসময় নিজেকে অনেক বড় আর সাহসী ভাবত এক বাঘ। সবসময় শক্তি ও ক্ষমতার বড়াই দেখাত। বাঘের শক্তি ও ক্ষমতার দাপটে বনের সকল পশুপাখি ভয়ে থরথর করে কাঁপত। ভয়ে কেউ কিছু বলেতে পারত না। কেউ তার সামনে আসতে সাহস পেত না ভয়ে। বাঘ নিজেকে বনের রাজা বলে অহংকার করত। কারো কোনো সমস্যা বুঝতে চাইত না। তাই বাঘের কোনো বন্ধুও ছিল না। বনের সব পশুপাখি বাঘকে ঘৃণা করত। খিদে পেলে বাঘ অস্থির হয়ে পড়ত। সামনে যাকে পেত তাকেই খেয়ে ফেলত। একে একে বনের সব পশু ধরে ধরে খেতে লাগল। হরিণ, বানর, খরগোস, বনগরু, বনমহিষ, বনবিড়াল, খাটাস, শেয়াল, জেব্রা, জিরাফ কেউ-ই রেহাই পেল না। একসময় বন প্রায় পশুশূন্য হয়ে পড়ল। 

একদিন শেয়াল পন্ডিত বনের সব পশুপাখিদের ডাকল। একটি ছোট্ট খালের পাড়ে ঝোপের নিচে মিটিং বসল। শেয়াল পন্ডিত সবার মতামত জানতে চাইল। কি করে অহংকারী আর অত্যাচারী বাঘকে বন থেকে তাড়ানো যায় সেই বুদ্ধি বের করতে বলল সবাইকে। 

মিটিং শুরু হলো। 

মিটিংয়ে সবচেয়ে মুরব্বি শেয়ালটি বলল, ‘আমরা আজ সবাই একসাথে বাঘের আস্তানায় যাব বাঘকে বোঝাতে।’ তখন এক হরিণ বলল, ‘ না না। যদি বাঘ আমাদের কথা না শোনে ? আর আমাদের ধরে খায় তাহলে কি হবে ? তার চেয়ে বরং কিছুদিনের জন্য আমরা সবাই এই বন ছেড়ে অন্য বনে চলে যাই। তারপর দেখব বাঘ কি খেয়ে বাঁচে।’

এবার শেয়াল পন্ডিত বলল, ‘কী বলছো এসব! আমরা কাপুরুষের মতো আমাদের বাপ-দাদার এই বন ছেড়ে এভাবে চলে যেতে পারি না। চলো আমরা সবাই বাঘকে গিয়ে বুঝাইÑ এভাবে পশু হত্যা, জুলুম-অত্যাচার করা ঠিক নয়। এটা অন্যায়। শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা চলতে থাকলে বন এক সময় পশুশূন্য হয়ে পড়বে। পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়বে। এটা বন্ধ করতে হবে।’

জিরাফ বলল, ‘চলো আমরা সবাই প্রতিবাদ করি।’ ‘ঠিক আছে সবাই চলো...চলো...।’

পরদিন বনের সকল পশুপাখি একসাথে বাঘের আস্তানায় গেল। বাঘ তো রেগেমেগে আগুন! 

‘হু...কী বলছিস তোরা ! এত্ত বড় সাহস! আমি হলাম এই বনের রাজা। তোরা আমার নামে নালিশ করতে এসেছিস? আমাকে জ্ঞান দিতে এসেছিস ? এত বড় স্পর্ধা তোদের!’

বাঘ কোনো কথা না শুনে হুংকার দিয়ে পশুপাখিদের ওপর হামলে পড়ল। 

সবাই ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল ওইদিন। পরদিন আবারও মিটিং ডাকা হলো। সবাই সিদ্ধান্ত নিল Ñ‘বাঘকে মারতে হলে না খাইয়েই মারতে হবে। তাই বনের সকল পশুপাখি কিছু দিনের জন্য এ বন ছেড়ে খালের ওপাড়ের বনে চলে যাবে। তারপর দেখবে, বাঘ কি খেয়ে বাঁচে।’ এরপর সব পশুপাখি বন ছেড়ে পাশের বনে চলে গেল। 

এরপর বাঘ কোনো শিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঘাস, লতাপাতা খেতে লাগল। একদিন বাঘ না খেয়ে খেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ল। গায়ের শক্তি কমে গেল। হাঁটা-চলা বন্ধ হয়ে গেল। বুকের হাড় বেরিয়ে গেল। কিন্তু কেউ তার খাবার সাহায্যে এগিয়ে এল না। একদিন অহংকারী ও অত্যাচারী বাঘ না খেয়ে মারা গেল। এরপর সকল পশুপাখি বনে ফিরে এল এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল। 

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ