শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া): ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। কুষ্টিয়া জেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশর অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। জেলার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামে অবস্থিত বলে গ্রামের নাম অনুসারে এই মসজিদটির নাম রাখা হয়েছে ‘ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ’। প্র্াচীন মসজিদটি নির্মাণে ইট, পাথর, বালি ও চিনামাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

ঝাউদিয়া মসজিদ সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে অনেক কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। এর সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। জনশ্রুতি অনুসারে বলা যায়, ইরাকের শাহ সুফি আদারি মিয়া ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আস্তানা তৈরি করেন। তিনিই এ সময় এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে  প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এটাও মনে করা হয় যে, মসজিদটি অলৌকিকভাবে তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা এটাও মনে করেন মসজিদের পাশেই উক্ত সুফি সাধকের কবর রয়েছে।

বর্তমান মসজিদটির দ্বারপ্রান্তে এটি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময় তৈরি করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি সম্পর্কেও প্রত্নতাত্ত্বিক কোন নথি পাওয়া যায়নি। ১৯৬৯ সালে এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাতে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চুক্তি অনুযায়ী ঝাউদিয়া গ্রামের জনৈক হাসান আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যগণ তত্ত্বাবধান করে আসছেন। তবে বর্তমানে মসজিদটি সরাসরি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পরিচালনা করে থাকে। প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মান্নত সদগা সিন্নি দেয়ার জন্য শতশত মানুষের সমাগম পরিলক্ষিত হয়। জুম্মাবারে লোকে সরগরম হয়ে উঠে অত্র এলাকা। অনেক সময় ধর্মীয় কুসংস্কারের ঘটনাও ঘটে বলে পরিদর্শনে যাওয়া অনেকেই জানিয়েছেন।

ঝাউদিয়া শাহী মসজিদটিতে রয়েছে পাঁচটি গম্বুজ। চার কোণেও চারটি ছোট গম্বুজ আকর্ষন বাড়িয়েছে। সামনে ভেতরে প্রবেশের জন্য তিনটি দরজা বিদ্যমান।  প্রবেশ পথের কাছে দুটি মিনার নিয়ে গঠিত গেট বেশ চমৎকার। ভেতরে  শতাধিক মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারে। মুসল্লী সমাগম বৃদ্ধির জন্য মসজিদের বাইরে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ