বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বোরো ধান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: চালের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে চাষিরা। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত তারা বোরো ধান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে। ১৫ থেকে ২০ লাখ টন চালের ঘাটতি মেটাতে  চলতি মৌসুমে দেশে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।  বোরো মৌসুমে চালের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে না পারলে বড় ধরনের চালের ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘাটতি এড়াতে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি শুরু হলেও বোরো মৌসুমের ফলন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর পরও দেশে চালের দাম অসহনীয় পর্যায়ে। 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে জানা গেছে যে, কয়েক দফা বন্যায় ৩৫ জেলার আমনের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে। সচিবালয়ের এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী জানান যে, প্রলম্বিত বন্যায় এক লাখ হেক্টরেরও বেশি জমির ধান নষ্ট হয়। সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন ধানের উৎপাদন কম হয়েছে। - যার প্রভাব পড়েছে চালের দামে। এছাড়া সঠিক পরিসংখ্যানের অভাবে দেশে চালের তথ্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। 

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, চালের দাম গত বছরের এই সময়ের চাইতে ১০-৩৫% পর্যন্ত বেড়ে গেছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গত এক বছর ধরে আর্থিক অনটনের মধ্যে আছে নি¤œ আয়ের মানুষ। এরমধ্যে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। ফলে চলতি বোরো মৌসুমে দেশের কয়েক কোটি চাষি বোরোর উৎপাদন বাড়াতে নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চাষিরা বীজতলায় পানি দেয়া, সার প্রয়োগ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করাসহ বোরো পরিচর্যায়ে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। 

এদিকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় জেলা সমূহে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি  হওয়ায় বোরোর উৎপাদন নিয়ে সংশয়ে রয়েছে চাষিরা। জলাবদ্ধার কারণে শুধু সাতক্ষীরা জেলার ৩৬ হাজার ৮০৪ হেক্টর নিচু জমিতে বোরোর আবাদ করা সম্ভব হয়নি। একই অবস্থা অন্য জেলা গুলোতেও। শুধু সাতক্ষীরা  জেলাতে মোট এক লক্ষ ৭৭ হাজার ৮১৪ হেক্টর জমির মধ্যে স্থায়ী পতিত জমি রয়েছে ৪৫ হাজার ১১০ হেক্টর। এসব জমির বেশির ভাগ অংশ এখনো পানির তলে। ফলে বড় ধরণের জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে জেলার নিন্ম অঞ্চল। কৃষকরা জানান, খাল, বিল ও নদীতে  বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ,ঘেরের কারণে পানি সরানোর ব্যবস্থা না থাকায়  বিলের পানি যাচ্ছে না। এ কারণে জেলার সব জমিতে বোরো চাষ করতে পারিনি তারা। 

সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৪ হাজার ৫০০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১৪ হাজার হেক্টর, তালায় ২০ হাজার হেক্টর, দেবহাটায় ৬ হাজার  হেক্টর, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর, আশাশুনিতে ৮ হাজার  হেক্টর ও শ্যামনগরে ২ হাজার  হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যে খানে গত বছর আবাদ হয়ে ছিল ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে। জেলাতে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৫১ হাজার ২শ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে জেলাতে ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫৫০টি পরিবার কৃষি কাজ করে থাকে।  সব মিলিয়ে কৃষির সাথে জড়িত রয়েছে  ১৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ২শ  কৃষক। এসব কৃষকের মধ্যে বর্তমান বোরো চাষের সাথে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ জড়িত। 

কৃষি বিশেজ্ঞরা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তবে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর কৌশল অবলম্বন করা হবে। যেমন- বৈরী জলবায়ুর (লবণাক্ততা, বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতা ও অধিক তাপ সহিষ্ণু) সাথে খাপখাওয়ানোর মতো উচ্চফলনশীল ফসলের নতুন নতুন জাতের উদ্ভাবন ও ব্যবহার এবং এগুলোর চাষাবাদ বাড়াতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। 

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন জেলাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরোর আবাদ হতে চলেছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও জেলার চাষিরা ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করে রের্কড সৃষ্টি করবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলায় জলবায়ুর ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি করে কৃষি, খাদ্য ও অবকাঠামোসহ সবগুলো বিষয় নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। গবেষণার মাধ্যমে বৈরী জলবায়ুর সাথে অভিযোজন ক্ষমতাসম্পন্ন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তার স্বতঃস্ফূর্ত বাস্তবায়নে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ