বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
Online Edition

রংপুরের নর্দার্ন মেডিকেল কলেজের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি পেশ

রংপুর : গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দাবি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সামনে নর্দান মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ করে -সংগ্রাম

রংপুর অফিস : রংপুর নর্দান (প্রাঃ) মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের অন্যান্য বে-সরকারি মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশন দ্রুত বাস্তবায়নের নানাবিধ অসঙ্গতি অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবহিত করে শিক্ষার্থীরা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের  মেয়র, মেট্রোপলিটন কমিশনারের নিকট স্মারকলিপি পেশ করেছে। 

 নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনা ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক প্রণয়নকৃত নীতিমালা কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নির্দেশনা না মেনেই বিগত কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের নিকট থেকে ১৫-২৫ লাখেরও বেশি টাকা গ্রহণ করে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করেছে। বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ২৫০ জনেরও বেশি দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থী জানতে পারে যে, কলেজটি ২০১৪-১৫ সেশন থেকে বিএমডিসি অনুমোদন এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন হারায় কিন্তু তার পরও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করে, সেই রিট এর উপর ভিত্তি করে এবং বিএমডিসির ভুয়া অনুমোদন দেখিয়ে সহজ সরল শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তি করে আসছে। 

উল্লেখ্য যে, এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি প্রায় ১বছর যাবত বন্ধ ঘষোণা করা হয়েছে। এই মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে ভাড়া করা শিক্ষক ও ভাড়া করা হাতেগোনা কয়েকটি রোগী দিয়ে। এই রোগীদের সম্মানীটুকুও কলেজ কর্তৃপক্ষ বহন করে না। শিক্ষার্থী অনুপাতে বর্তমানে হাসপাতালে শিক্ষক সংখ্যা, রোগী, বেড সংখ্যা, প্যাথলজি ল্যাব, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি কোনটাই ক্লিনিক্যাল শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত নয়। শুধুমাত্র একাডেমিক দুর্বলতাই নয়, সাথে প্রশাসনিক ও আইনি যে বিষয়গুলো মানা আবশ্যক সেগুলোও মানতে কলেজ কর্তৃপক্ষ চরমভাবে উদাসীন। কলেজের নানাবিধ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিষয়ে অধ্যক্ষ ও মালিকপক্ষের দ্বারস্থ হলেও তারা কোন কথায় কর্ণপাত করেন নাই, বরং মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আসছেন। বর্তমানে তারা শির্ক্ষাথী এবং অভিভাবকদের নানাবিধ অকথ্য ভাষায় গালমন্দ এবং হুমকি প্রদান করছে। শুধু দেশী শিক্ষার্থীই নয়, বিদেশী শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়তে এসে বিপাকে পড়েছেন। ভিন্ন দেশে পড়াশুনা করতে এসে তারা বিভিন্ন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। তাদেরকে গভীর রাতে হোস্টেল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, সবাই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, তাদের পিতা-মাতা দিশেহারা ও আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত। ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় উদ্বিগ্ন। এমতাবস্থায় এই কলেজের বেহাল অবস্থা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার জন্য পুনরায় পরিদর্শনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কলেজে শিক্ষারত প্রায় ২৫০ জন অসহায় ছাত্র-ছাত্রীকে অন্যান্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করার আবেদন জানিয়েছে তারা।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ