রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

নির্বিচারী হয়ে উঠেছে মিয়ানমারের পুলিশ

২৭ ফেব্রুয়ারি, রয়টার্স, আল-জাজিরা, ইরাবতি : জাতিসংঘে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের দূত সরব হয়ে ওঠার পর দেশটির সেনা অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে নির্বিচারি হয়ে উঠেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিক্ষোভকারীরা সমবেত হওয়ার আগেই কয়েকটি জায়গার দখল নিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সমবেত হওয়ার চেষ্টা করলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের। লাঠিপেটা, রাবার বুলেট ছুঁড়ে ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীকেও। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে যে কোনও পদক্ষেপ নিতে শুক্রবার জাতিসংঘকে আহ্বান জানান ওই সংস্থায় নিয়োজিত দেশটির রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন। তিনি দেশটির জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদানে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া মিয়ানমার প্রশ্নে জাতিসংঘের এক বিশেষ বৈঠকে সব সদস্য রাষ্ট্রকে অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে প্রকাশ্যে বিবৃতিতে দেয়ার তাগিদ দেন তিনি। 

জাতিসংঘে রাষ্ট্রধূতের ওই ভূমিকার পর বিক্ষোভ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে ওঠে মিয়ানমারের পুলিশ। প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনসহ যেসব স্থানে সাধারণত বিক্ষোভকারীরা সমবেত হয়ে থাকেন শনিবার সকাল থেকেই সেসব স্থানের দখল নিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন সমবেত হওয়ার চেষ্টা করলেই বিক্ষোভকারীদের আটক করা হচ্ছে।

তারপরও রাস্তায় নেমে এসেছে বিক্ষোভকারীরা। ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করে নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের একটি গ্রুপ। দিন গড়াতে থাকলে তাদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। অভ্যুত্থানবিরোধী গান গেয়ে বিভিন্ন পার্শ্বসড়কে মিছিল শুরু করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ফাঁকা গুলীবর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়সহ আরও বেশ কয়েকটি শহরেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। মধ্যাঞ্চলের শহর মনওয়ার এক বিক্ষোভকারী জানান, বিক্ষুব্ধদের ঘিরে রেখে তাদের ওপর জল কামান প্রয়োগ করা হয়েছে। আয় আয় টিন্ট নামের বিক্ষোভকারী বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর জল কামান ব্যবহার করা হয়েছে- মানুষের সঙ্গে এরকম আচরণ তারা করতে পারে না।’ মান্দালয়ে আটক করা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রয়েছেন অং সান সু চির দল এনএলডি থেকে নির্বাচিত দুই মুসলিম আইনপ্রণেতার এক জন উইন মিয়া মিয়া। ক্ষমতা দখলকারী সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সর্বনিম্ন বলপ্রয়োগ করছে কর্তৃপক্ষ। তারপরও এখন পর্যন্ত অন্তত তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। সেনা কর্তৃপক্ষের দাবি এক পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হয়েছে।

রাস্তায় ব্যারিকেড

অং সান সু চি কোথায় আছে তা নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নেতারা বলছেন, তাদের নেত্রীকে নিজ বাড়ি থেকে অজানা স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন পেয়ে আরও শক্তি দেখাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

গতকাল শনিবার ইয়াঙ্গুন ছাড়াও অন্য শহরগুলোতে জড়ো হন হাজারো বিক্ষোভকারী। যা অন্য কয়েকদিনের চেয়ে অনেক বেশি। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, বিক্ষোভকারীরাও ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছেন। ফলে দেশটিতে আবারও রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা সহিংস হতে চান না। তবে সরকার শক্তি প্রয়োগ করলে তারা বসে থাকবেন না।

এদিন বিভিন্ন স্থান থেকে আরও কয়েকশ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে দুজন সাংবাদিকও আছেন। এক গণমাধ্যমকর্মী জানান, তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু তিনি পালাতে সক্ষম হন। তার দাবি, তিনি বিক্ষোভে অংশ নেননি, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। ইয়াঙ্গুনের অনেক স্থানে রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেড দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা ধাবমান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গতি কমিয়ে দিতেই এই কাজ করছেন। একই দৃশ্য দেখা গেছে মান্দালয়তেও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ