শনিবার ১৯ জুন ২০২১
Online Edition

মিয়ানমারে প্রতিবাদকারীদের ওপর জান্তাপন্থিদের হামলা

২৫ ফেব্রুয়ারি, রয়টাস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, আল-জাজিরা : মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে অভ্যুত্থান বিরোধী প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে সামরিক বাহিনীর সমর্থকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সামরিক জান্তার সমর্থকরা ছুরি, মুগুর ও গুলতি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে বার্তা সংস্থা  জানিয়েছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবারও ইয়াঙ্গুনে একটি প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু অভ্যুত্থান বিরোধীদের সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই সামরিক বাহিনীর প্রায় এক হাজার সমর্থক ইয়াঙ্গনের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়। তাদের অনেকে ফটোগ্রাফারদের, গণমাধ্যম কর্মীদের হুমকি দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কিছুক্ষণের মধ্যে নগরীর কেন্দ্রস্থলের বিভিন্ন অংশে ধাক্কাধাক্কি থেকে আরও গুরুতর সহিংসতা শুরু হয়।   ছবিতে সামরিক বাহিনীর কিছু সমর্থকের হাতে ছুরি ও মুগুর দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই হামলাকারীদের মধ্যে কিছু লোক পাথর ও গুলতি ছুড়েছেন আর একদল লোক বেশ কয়েকজনকে মারধর করেছেন।

ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে, সামরিক বহিনীর বেশ কিছু সমর্থক, তাদের একজনের হাতে ছুরি, নগরের কেন্দ্রস্থলে একটি হোটেলের সামনে এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করছেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর ফুটপাতে পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগের কর্মীরা সাহায্য করেন, তার পরবর্তী অবস্থা জানা যায়নি।  আন্দোলনকারী থিন জার শুন লেই য়ি রয়টার্সক বলেন, “আজকের ঘটনা দেখিয়েছে কারা সন্ত্রাসী। গণতন্ত্রের জন্য জনগণের নেওয়া পদক্ষেপে ভীত তারা। একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাব আমরা।”

সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আইন অমান্য আন্দোলনের ধর্মঘটের কারণে প্রায় স্থবির হয়ে আছে মিয়ানমার, এখন এ সহিংসতা দেশটিতে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

এর আগে ইয়াঙ্গুনের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গেটগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। এর মাধ্যমে ভেতরে থাকা কয়েকশত শিক্ষার্থীকে বাইরে এসে বিক্ষোভ দেখানো বন্ধ করে তারা। 

এর আগে মিয়ানমার প্রায় অর্ধ শতাব্দি ধরে সরাসরি সামরিক শাসনাধীনে ছিল। ওই সময় গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনকারীদের নির্মমভাবে দমন করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলো অনেক সংযতভাবে প্রতিবাদ মোকাবেলা করছে। প্রতিবাদ মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করছে এবং পুলিশ রবার বুলেট ব্যবহারের মতো ন্যূনতম শক্তি ব্যবহার করছে, চলতি সপ্তাহে দেশটির সামরিক বাহিনী প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং এমনটি বলেছেন বলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তারপরও প্রতিবাদ সমাবেশগুলোকে ঘিরে সহিংসতায় এ পর্যন্ত তিন বিক্ষোভকারী ও একজন পুলিশ নিহত হয়েছেন। এদিকে কাজে যোগদানের জন্য জান্তার তীব্র চাপ থাকলেও তা উপেক্ষা করে অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মিয়ানমারের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এদিন শিক্ষাথীদের ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেয়নি পুলিশ। ক্যাম্পাসের গেট আটকে রেখেছিল তারা। ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর সবার আগে সেনা প্রশাসনের সঙ্গে অসহযোগিতা এবং ধর্মঘটের ঘোষণা দেন ডাক্তাররা। 

সেনাবাহিনী তাদের কাজে ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভয়ভীতি প্রদর্শনে কাজ না হওয়ায় এখনও সামরিক বাহিনী নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। বিভিন্ন সময় ডাক্তারদের আবাসিক এলাকা ও কোয়ার্টারের কাছে গিয়ে হানা দিয়েছে।   ইয়াঙ্গুনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ২৫ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী কং সাত ওয়াই বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পর থেকে আমাদের জীবন আশা হারিয়েছে, স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে। স্বৈরতন্ত্রকে সমর্থন করা শিক্ষাব্যবস্থাকে আমরা গ্রহণ করব না।’ অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে নাগরিক অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন দেশটির বহু পেশাজীবী ও সরকারি কর্মকর্তা। গতকাল  বৃহস্পতিবার এই অসহযোগের সমর্থনে মিছিল করার কথা চিকিৎসকদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ