সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সাগরে ভাসা রোহিঙ্গা বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলো বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার: আন্দামান সাগরে ভাসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিবিসির একটি প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সমুদ্রে ভাসমান রোহিঙ্গাদের নিয়ে সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনের তথ্যগত ভুল দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বাংলাদেশের। বিবিসির প্রতিবেদনে ভুল করে বলা হয়েছে একদল রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভাসমান অবস্থায় রয়েছে এবং তাদেরকে উদ্ধারের জন্য জাতিসংঘ আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই তথ্য সঠিক নয়, ভুল। ভাসমান রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দেয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গা সঙ্কট: জাতিসংঘ থেকে সাগরে ভাসা রোহিঙ্গাদের উদ্ধারের আহ্বান- শিরোনামে বিবিসির প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। এতে জাতিসংঘের কথা উল্লেখ করে ভুলভাবে দাবি করা হয়েছে যে, এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ছিলেন। তবে ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নৌকাটি আন্দামান সাগরে অবস্থান করছিল। জাতিসংঘের বিজ্ঞপ্তিতে আন্দামান সাগরের অবস্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতিসংঘের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার করে বলা ছিল যে, জাহাজে রোহিঙ্গারা আছে সেটি আন্দামান সমুদ্রে। ওই সমুদ্র বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বে, মিয়ানমারের দক্ষিণে, থাইল্যান্ডের পশ্চিমে এবং ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পূর্বে অবস্থিত। আন্দামান সাগরে ভাসা নৌকাটি বাংলাদেশ থেকে ১৭শ কিমি, মিয়ানমার থেকে প্রায় ৪৯২ কিমি, থাইল্যান্ড থেকে ৩৬৩ কিমি, ইন্দোনেশিয়া থেকে ২৮১ কিমি এবং ভারত থেকে ১৪১ কিমি দূরে ছিল। নৌকাটির অবস্থান বাংলাদেশের সাগরসীমা থেকে অনেক দূরে। আর অন্য দেশগুলোর সাগরসীমা থেকে কাছে। বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অতীতে যখন এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলো সাগরে ভাসা রোহিঙ্গাদের নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তখন বাংলাদেশ সরকার তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এসেছে। এখন অন্য দেশগুলোর সাগরসীমার কাছে নৌকাটির অবস্থান হওয়ায় সে দেশগুলোর এই দায়িত্ব বহন করা উচিত। একই সঙ্গে এই দেশগুলোর আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও রোহিঙ্গাদের বোঝা ভাগাভাগি করে নেয়া উচিত বলে মনে করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক দায়দ্ধতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। এখানে উল্লেখ্য যে,এর আগে অন্য দেশের সুমদ্রসীমায় যখন রোহিঙ্গারা অসহায় অবস্থায় ভাসছিল, তখন বাংলাদেশ সরকার অন্য দেশের সুমদ্রসীমানা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করেছিল।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ