সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক আগামীকাল 

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং তাদের একটি অংশ ভারতে আশ্রয় নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠেয় দুই দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। গত বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, দীর্ঘ চার বছর পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগামী ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ভার্চুয়ালি এই বৈঠক হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহিদুজ্জামান এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন অজয় কুমার ভাল্লা।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, গত  ডিসেম্বরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-বিএসএফ’র মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল। ওই সময় ভারতের মিজোরামে বিচ্ছিন্নতাবাদের ঘাঁটি আছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের এবারের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হতে পারে কিনা জাংনতে চাইলে তিনি বলেন, সম্ভাবনা আছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অবস্থান করছে বলে ভারত সব সময় অভিযোগ করলেও এবারে ঢাকা অভিযোগ করছে, ভারতের রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অবস্থান সম্পর্কে।

দুই দিনের বৈঠকে আলোচ্য বিষয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এই দুটি বড় বিষয় নিয়ে এবারের বৈঠকে আলোচনা হবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমান্তে হত্যাকা-, ফেন্সিং, দুই সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমঝোতা, মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন চোরাচালান, মানবপাচারসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। অপরদিকে আলোচ্য সূচিতে নিরাপত্তা বিষয়ের মধ্যে থাকছে- সন্ত্রাসবাদ, জাল অর্থ, বিছিন্নতাবাদ, ভিসাসহ অন্যান্য বিষয়।

এ প্রসঙ্গে সরকারি সূত্রে জানাযায়, সীমান্তে হত্যাকা- শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়টি আমাদের দিক থেকে জোরালোভাবে তোলা হবে। আগে সীমান্তে হত্যাকা-ের জন্য গরু চোরাচালানকে দায়ী করা হতো, কিন্তু বর্তমানে এর পরিমাণ অনেকটা কমে গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এই দুটি বিষয় প্রাধান্য পাবে। দুই দেশের সীমান্তে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আলোচনা হবে। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধের বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হবে। এছাড়া মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন চোরাচালান, মানব পাচারসহ অন্যান্য বিষয় কীভাবে রোধ করা যায় সেই বিষয়ে প্রতিনিধিরা আলোচনা করবেন। সন্ত্রাসবাদ, জাল অর্থ, বিছিন্নতাবাদ, ভিসাসহ আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচ্য সূচিতে থাকছে। বৈঠকে দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং তাদের একটি অংশ ভারতে আশ্রয় নেয়ার যে অভিযোগ রয়েছে সেই বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হতে পারে। তারা আরও জানিয়েছেন, ভারতের বেশিরভাগ স্থলবন্দর এখনো বন্ধ। এ কারণে অন্য বন্দরগুলোয় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এতে পণ্য প্রবেশে বিঘ্ন হচ্ছে। বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ