সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

মুখ থুবড়ে পড়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানির সম্ভাবনাময় খাত চামড়া শিল্প

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান: চামড়াজাত পণ্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি পণ্য হওয়া সত্ত্বেও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বয়হীনতা ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে শিল্পটি বিপন্ন হতে চলেছে। তৃণমূল পর্যায়ে বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার পেছনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সঙ্গে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যও রয়েছে। এ দুইয়ের কারসাজিতে আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানির সম্ভাবনাময় খাত চামড়া শিল্প।  

জানা গেছে, কাঁচামালের সহজলভ্যতার পাশাপাশি মূল্য সংযোজনের হিসেবে কোনো একটি নির্দিষ্ট খাত থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি আয়ের অন্যতম বড় উৎস দেশের চামড়া শিল্প। কিন্তু এ সত্য শুধু কাগজে কলমেই। বাস্তবতা হলো, নানা ধরনের পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন প্রতি মাসে আমদানি করছে প্রায় ৫০ লাখ বর্গফুট চামড়া। অথচ প্রতি বছর দেশে উৎপাদিত ২২ কোটি ঘনফুট চামড়ার প্রায় অর্ধেকই ব্যবহৃত হচ্ছে না রফতানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনে। চামড়ার আন্তর্জাতিক ক্রেতাজোট লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ-এল ডব্লিউ জি’র ছাড়পত্র না থাকাই এর মূল কারণ। ট্যানারি মালিকরা বলছেন, সাভারে নতুন শিল্পনগরীই পারতো সব সংকট সমাধান করতে, যদিও তাদের দাবি বিসিকের গাফিলতিতে আরও সংকট বেড়েছে।

শিল্পের অনগ্রসরতার পেছনে সরকারের অর্থনৈতিক কূটনৈতিক (ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি) ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি মালিকপক্ষের চিন্তাধারায়ও পরিবর্তন আনার আহ্বান তাদের। গত পাঁচ বছরে চামড়ার দাম কমেছে অর্ধেক। বিপরীতে চামড়া এবং চামড়াজাত সব পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। তারপরও কাঁচা চামড়ার দাম কেন কমছে সেই উত্তর কোথাও মিলছে না। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসেবে, গত কয়েক বছরে দুর্বল হয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত হিসেবে বিবেচিত চামড়া শিল্প। 

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে আয় হয় ১১৩ কোটি ডলার। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬ কোটি ডলারে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এই আয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে হয় ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। কিন্তু ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে রফতানি আয় অস্বাভাবিক কমে ১০৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। ওই অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১২ কোটি ডলার। আয় হয়েছে ১০১ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ ক্ষেত্রে আয় কম হয়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় কমেছে ৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে চামড়া খাত থেকে ৮৩ কোটি ৭১ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যদিও এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ এবং এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ আয় কমেছে। এর পরের বছরগুলোতেও আরও কমেছে রফতানি আয়। সর্বশেষ তথ্য অনুয়ায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে বিগত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় কমেছে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ৪৪ কোটি ৬১ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি হয়েছে। অর্থবছরের প্রথমার্ধে ৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের চামড়া, ১১ কোটি ২৭ লাখ ডলারের চামড়াপণ্য ও ২৭ কোটি ডলারের চামড়ার জুতা রফতানি হয়েছে। জুতা রফতানি দুই শতাংশ কমেছে, চামড়া ও চামড়াপণ্য রফতানি কমেছে যথাক্রমে ১৭ ও সাড়ে ১০ শতাংশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) প্রকল্পের আওতায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের জন্য অনুষ্ঠিত ‘লিংকেজ ওয়ার্কশপ অন লেদার সেক্টর’ শীর্ষক ওয়ার্কশপে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন বলেছেন, চামড়া বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত। আমাদের কাঁচামাল ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। বিভিন্ন দেশে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। আমাদের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে বছরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করা সম্ভব। রফতানি বাণিজ্যে দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। রফতানি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। 

সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০১৯ সালের চামড়া এখনো প্রক্রিয়াজাত করা যায়নি। এতে সংগৃহীত কাঁচা চামড়ার গুণগত মান কমে যাচ্ছে। চলতি বছরের নতুন চামড়া সংরক্ষণেও স্থান সঙ্কট রয়েছে। আবার অনেক ট্যানারি এখনো উৎপাদনে যায়নি। এসব কারণে চামড়া প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না। আবার বিগত দুই বছর ধরে কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে ঠকবাজি একটু বেশিই হয়েছে। দাম না পেয়ে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। অনেকে কুরবানির চামড়া মাদরাসা, এতিমখানায় দান করেছেন। আবার সরকারিভাবেই কমিয়ে দেয়া হয় গরু-ছাগলের চামড়ার দর। এ বছর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম গরুর প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। যা আগের বছর ঢাকায় ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর ঢাকার বাইরে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। অন্যদিকে খাসির চামড়া সারা দেশে প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা ও বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আড়তদার সরকারের ধরে দেয়া দামের অর্ধেকে বা পারলে পানির দরে হাতিয়ে নেয়ার মওকা পেয়ে যান। আবার তৃণমূল পর্যায়ে বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পেছনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সাথে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যও রয়েছে। এ দুইয়ের কারসাজিতে চামড়া শিল্প আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। 

চামড়া শিল্পে সঙ্কটের নেপথ্য অনুসন্ধানে রয়েছে ২৯টি কারণ। কারণগুলো হচ্ছে- ১. সঠিক পরিকল্পনার অভাব, ২. সাভারে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণকাজ শেষ না করে কারখানা স্থানান্তর, ৩. সাভারে ট্যানারি পল্লীতে অবকাঠামোগত সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা, ৪. নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও সময়মতো গ্যাস সংযোগ দিতে না পারা, ৫. লোডশেডিং, ৬. জেনারেটর ব্যবস্থা ভালো না হওয়া, ৭. সড়ক যোগাযোগে অব্যবস্থাপনা, ৮. চামড়া কাটার পর বর্জ্য কোথায় ফেলা হবে সেটি নির্ধারণ করতে না পারা, ৯. জমির দলিল হস্তান্তরসহ নানা বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে সরকারের দূরত্ব, ১০. তিন বছরেও চামড়া শিল্প নগরীতে সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারা, ১১. কারখানা স্থানান্তরের পরও অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে না পারায় রফতানি আদেশ বাতিল হয়ে যাওয়া, ১২. হাজারীবাগে ২০৫টি কারখানা থাকলেও সাভারে মাত্র ১৫০টি প্লট বরাদ্দ দেয়া, ১৩. প্লট না পাওয়া ৫৪টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় এসব কারখানার শ্রমিকদের বেকার হয়ে যাওয়া, ১৪. অবৈধ পথে চামড়া পাচার, ১৫. বিশ্ববাজারের দরপতনে দেশের চামড়া শিল্পের অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে দুর্বল হয়ে যাওয়া, ১৬. একটানা কয়েক বছর ধরে চামড়া রফতানি আয় কমে যাওয়া, ১৭. আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে পণ্যের আধুনিকায়ন না করা, ১৮. চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ, ১৯. বিশ্ববাজারে চামড়ার জুতার পরিবর্তে সিনথেটিক বা কাপড়জাতীয় জুতার আগ্রহ বৃদ্ধি, ২০. চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন কমে যাওয়া, ২১. চামড়া শিল্পকে পরিবেশবান্ধব করে গড়ে না তোলা, ২২. ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কারখানার পরিবেশ উন্নত না করা, ২৩. পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, ২৪. পুঁজি সঙ্কট, ২৫. দক্ষ শ্রমিকের সঙ্কট, ২৬. গতবারের চামড়া আজো প্রক্রিয়াজাত করতে না পারা, ২৭. আগের বছরের সংগৃহীত কাঁচা চামড়ার গুণগত মান কমে যাওয়া, ২৮. নতুন চামড়া সংরক্ষণে স্থান সঙ্কট, ২৯. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সর্বশেষ করোনা। এ দিকে প্রতি বছর দেশে উৎপাদিত ২২ কোটি ঘনফুট চামড়ার প্রায় অর্ধেকই ব্যবহৃত হচ্ছে না রফতানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনে। চামড়ার আন্তর্জাতিক ক্রেতাজোট লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ-এলডব্লিউজির ছাড়পত্র না থাকাই এর মূল কারণ। ট্যানারি মালিকরা বলছেন, সাভারে নতুন শিল্পনগরীই পারত সব সঙ্কটের সমাধান করতে, যদিও তাদের দাবি ‘বিসিকের গাফিলতিতে সঙ্কট বেড়েছে’ আরো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চামড়ার টাকাকে ‘গরিবের হক’ বলা হলেও দেশের বাস্তবতা ভিন্ন। গরিব, এতিম ও মিসকিনদের পক্ষে কথা বলার লোক নেই। মন্ত্রী-সচিবরা কুরবানির আগে চামড়ার দাম ঠিক করবেন, কমিটি বানাবেন। আর ব্যবসায়ীরা তাদের মন-মর্জি মতো চামড়া কিনবেন। কুরবানির লাখ লাখ গরু-ছাগলের চামড়া নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। গত কয়েক বছরে আরো বিশৃঙ্খলা যোগ হয়েছে। ঋণ দেয়া, সেল গঠনসহ অনেক কিছু শোনা গেলেও গোলমাল আরো পেকেছে। দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়ার দাম তারা মাত্র ২০০ টাকায় নিতে চান। দুই লাখ টাকার গরুর চামড়া ৩০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়নি ঢাকায়। ‘চাহিদা না থাকা’র গল্প শোনানো হচ্ছে মানুষকে। 

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ চামড়ার সব মোকামে অবস্থা কমবেশি একই। তবে সিন্ডিকেটের ধরনে একটু ভিন্নতা ছিল। চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন নগরীর বাইরে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আড়তদারের কাছে কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে এসে আশানুরূপ সাড়া পাননি অনেকে। অভিযোগ উঠেছে, আড়তদাররা উপজেলা থেকে আসা চামড়াগুলো কিনতে প্রথমে অনীহা দেখান এবং পরে অস্বাভাবিক কম দামে কিনতে সম্মত হন। কিন্তু লোকসান দিয়ে বিক্রি না করে বিক্রেতারা সেগুলো ফেলে দিয়েই চলে যান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া সাধারণ কোনো শিল্প নয়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী শিল্প। তাই এ দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে সরকারের দায়িত্ব যত দ্রুত সম্ভব এ শিল্পের সমস্যার সমাধান করা।

এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, রফতানিমুখী ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের উন্নয়নে সরকার মালিকদের পাশে আছে। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সুবিধাগুলো নিশ্চিত করে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করে এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি চামড়া শিল্প নগরীতে শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের কর্মকর্তাদের মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ দেন। তিনি উন্নত কর্মপরিবেশে চামড়া শিল্পের দক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা করলে চামড়ার আমদানি নির্ভরতা কমবে বলে মত প্রকাশ করেন।

তবে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণকে দায়ী করেছেন উদ্যোক্তারা। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এ খাতের উন্নয়নে নির্দিষ্ট সংস্থাকে দেখভালের দায়িত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা বলেন, প্রায় এক যুগেও সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর যথাযথ প্রস্তুত না হওয়া, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং ধলেশ্বরী নদীতে বর্জ্য যাওয়ায় পরিবেশ দূষণ এবং এসব কারণে আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানের (এলডব্লিওজি) সনদ না পাওয়ার মত বিষয়টি তুলে ধরে ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। একইসাথে দ্বিতীয় প্রধান রফতানিখাত হিসেবে এ খাতের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দ্রুত ও যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে (চীনের একটি কোম্পানি) দায়ী করে সালমান এফ রহমান বলেন, তারা ঠিকমতো কাজ করেনি। এছাড়া প্রকল্পটি ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগেই আদালতের নির্দেশে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলো যেতে বাধ্য হওয়ায় সমস্যা হয়েছে বলে মত দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ