সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পণ্য পরিবহন করতে নৌপথ ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে ----প্রধানমন্ত্রী 

 

 

স্টাফ রিপোর্টার: কেবল দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌপথ ব্যবহারে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমাদের নদীগুলোতে নাব্য ফিরিয়ে এনে এই নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌপথকে আরও উন্নত এবং আরও সচল করে দিচ্ছি, যেন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পণ্য পরিবহন খুব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করতে পারি। এই বিষয়টিতে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫৫তম ব্যাচের ক্যাডেটদের ‘মুজিববর্ষ গ্র্যাজুয়েশন প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একাডেমির চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে এই আয়োজনে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

৫৫তম ব্যাচের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেটদের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন পদক তুলে দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি প্রান্তে এসময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। আমাদের দেশ নদীমাতৃক। আমাদের রয়েছে বিশাল বিশাল নদী, আমাদের রয়েছে নৌবন্দর রয়েছে, সমুদ্রবন্দর রয়েছে। এমনিক আমরা গভীর সমুদ্রবন্দরও নির্মাণ করছি। সব দিক থেকেই নৌচলাচল বা নৌপথ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। তার ওপর আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। আমাদের দুর্ভাগ্য যে জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা আইন করলেও পঁচাত্তর পরবর্তী যারা ক্ষমতা এসেছিল, তারা এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তারা দেশটাকে চিনত না, জানতও না। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে উদ্যোগ নিয়ে বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া আমাদের বঙ্গোপসাগর, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চ্যানেল, গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। বিশ্বের অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য এখান থেকে চলে।

প্রতিযোগিতাময় বিশ্বের সঙ্গে চলতে হলে সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মেরিন একাডেমির ৫৫তম ব্যাচের ক্যাডেটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আজ প্রশিক্ষণ পেয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন, তারা সবাই যখনই যে দেশে কাজ করবেন, নিজেদের দেশ হোক আর বিদেশে হোক, সেই দেশের আইন, নিয়মকানুন বা সমুদ্র আইন সবকিছু মেনে চলতে হবে। শৃঙ্খলাবোধ ভেতরে থাকতে হবে। কর্মক্ষেত্রে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যেন দেশে বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণœ থাকে।

লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে এ কথা স্মরণে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ক্যাডেটরা নতুন জীবনে পদার্পণ করছে। সেখানে দেশে-বিদেশে দেশের মান রক্ষা করে চলতে হবে। অন্য দেশে গেলে সেখানকার সভ্যতা, কৃষ্টি, সংস্কৃতির সঙ্গে আদান-প্রদান করতে হবে। নিজ দায়িত্ব সততা, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে, যেন যাতে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়।

দেশে চলমান কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছি বলেই এবং দীর্ঘদিন সরকারে থাকার সুযোগ পেয়েছি বলেই প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়ন করার সুযোগ আমরা পেয়েছি। এই করোনাভাইরাসের সারাবিশ্ব স্থবির হয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে আমরা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। অনেক উন্নত দেশের আগে আমরা ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছি, ভ্যাকসিন প্রয়োগও চালু করে দিয়েছি। তবে ভ্যাকসিন নিলেও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। মাস্ক ব্যবহার করা, হাত পরিষ্কার রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা একান্তভাবে প্রয়োজন। নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। আপনার সুরক্ষা অন্যকেও সুরক্ষিত রাখবে।

সততা, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মেরিন গ্রাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ক্যাডেটরা আজ নতুন জীবনে পদার্পণ করবেন, সততা, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাতে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী পাসিং আউট ক্যাডেটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘সমুদ্রচারণ বিষয়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং, খুব কঠিন একটা দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্বটা পালন করার মত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তোমরা কর্মক্ষেত্রে যোগ দেবে।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা হাতেগড়া এ প্রতিষ্ঠানটি প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায় তার সরকার পেয়েছিল। কাজেই, তা উন্নত করবার জন্য ব্যাপক কর্মসূচিও তার সরকার বাস্তবায়ন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ মেরিন অ্যাকাডেমি’-সরকারি ৫টি ও বেসরকারি ৬টিসহ সমুদ্র-বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী, আমরা আরো চারটি মেরিন অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছি, যা এবছরেই চালু হচ্ছে।

তিনি বলেন, তার সরকার জাহাজ চলাচলে উচ্চতর শিক্ষার প্রবর্তনের জন্য ২০১৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠা করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষার বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আওতায়, তোমাদের বিদ্যমান তিন বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব মেরিটাইম সাইন্স পাস ডিগ্রি কোর্সকে, চার বছর মেয়াদি অনার্স কোর্সে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রবর্তন করা হয়েছে ‘মাস্টার অব মেরিটাইম সায়েন্স’ ডিগ্রী কোর্স।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে সর্বোচ্চ শিক্ষাটা গ্রহণ করা দরকার, সেভাবেই প্রশিক্ষিতও হবে হবে। তাই, সে সুযোগটা আমরা সৃষ্টি করে দিচ্ছি।’

বিগত ১০ বছরে এই অ্যাকাডেমির শিক্ষাদান ট্র্যাডিশনাল থেকে ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য মার্চেন্ট নেভি ট্রেনিং বোর্ডের স্বীকৃতিসহ অর্জিত হয়েছে নানাবিধ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

তিনি বলেন, অ্যাকাডেমির নটিক্যাল প্রশিক্ষণকে উন্নততর করার লক্ষ্যে, ২০১৯ সনে অ্যাকাডেমিতে স্থাপন করা হয়েছে ‘নেভিগেশন সিমুলেটর’। পাশাপাশি, এ বছরই উন্নততর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশিক্ষণের স্বার্থে চলমান রয়েছে ‘ইঞ্জিন কন্ট্রোল সিমুলেটর’ স্থাপনের প্রক্রিয়া। অর্থাৎ এই অ্যাকাডেমিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ আমরা দিতে যাচ্ছি যাতে আমাদের ক্যাডেটরা দেশে এবং বিদেশে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে।

পুনর্বিচারের উদ্যোগ নেবে বিএনপি 

নিরাপত্তাকে পঙ্গু করতেই পিলখানায় সুক্ষ্ম কৌশলে বেছে বেছে দক্ষ ও দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের একসাথে করে হত্যাকা- চালানো হয়। দুনিয়ার কোনও যুদ্ধে এক সাথে এতো সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার নজির নেই। ২৫ ফেব্রুয়ারির সেনা হত্যাযজ্ঞ ছিল আমাদের সেনাবাহিনীর শৌর্য, শক্তি ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার একটি ভিনদেশি মাস্টারপ্ল্যান। এই ঘটনায় দেশীয় তাবেদাররা মীর জাফরের ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিল।

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘তবে এটাই প্রথম নয়, সেনাবাহিনীকে ধ্বংসের ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ থেকেই। সেই সময় ক্যান্টনমেন্টে সুপরিকল্পিতভাবেই বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়া হয়েছিল। ৭৫ সালের ৬ নভেম্বর দিনে ও রাতে বেশ কিছু সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সেই সময় রুখে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। ৭ নভেম্বর, সিপাহী জনতা সম্মিলিত বিপ্লবের মাধ্যমে দেশকে উল্টো পথে নেয়ার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছিলো। মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান সেই বিপ্লবের মহানায়ক হিসেবে ইতিহাসের উজ্জ্বল আলোয় আপন স্থান করে নিয়েছেন। ৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত সেই অপশক্তি সেদিন ব্যর্থ হলেও পুনরায় চক্রান্তের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে তারা ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সফল হয়। এরপরই ২০০৯ সালের ২৫ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি ঘটে চক্রান্তকারীদের চূড়ান্ত পরিকল্পনার বহিঃপ্রকাশ। নিহত হন অসংখ্য সেনাসদস্য।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও জবাব মেলেনি এ হত্যাকা- সম্পর্কিত অনেক প্রশ্নের। গত ১২ বছর যাবত প্রতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি সেনা হত্যাযজ্ঞের দিনটি কিছু সাধারণ কর্মসূচির মাধ্যমে পার হয়ে যায়। এই হত্যাকা-ের যে তদন্তগুলো হয়েছিল, এর পূর্ণাঙ্গ কোনও তদন্ত এখনও জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে সেনাবাহিনী যে তদন্ত করেছিল, সেই তদন্ত এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে, স্বাভাবিকভাবে জাতির সামনে প্রশ্ন থেকেই গেছে এই ভয়াবহ রক্তাক্ত ঘটনার পেছনে মূল কারা ছিল, পরিকল্পনাকারী কারা ছিল, কারা লাভবান হয়েছে? এগুলো রহস্যজনকভাবেই উদঘাটন করা হয়নি। পূর্বপরিকল্পিত পিলখানা হত্যাকা-ের ঘটনায় অনেকের সাজা হয়েছে, আবার অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের অনেকের জড়িত থাকার কথা শোনা গেলেও সেগুলোকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখনও রহস্যের কুয়াশায় ঢাকা। বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে- এই মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞের ঘটনার পর্দার পেছনের কুচক্রীরা অধরাই থেকে গেছে।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকা-ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে বলেই জনগণ বিশ্বাস করে। ক্ষমতার নেশায় আচ্ছন্ন অপরাধপ্রবণ একটি দল আওয়ামী লীগ। এরা মসনদ আঁকড়ে রাখার জন্য প্রয়োজনে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে দ্বিধা করে না। এদের একমাত্র সাধনা ক্ষমতা লাভের আগে অথবা পরে কোনও সময়েই তারা ন্যায়নীতির নির্দেশ গ্রাহ্য করে না।

‘পিলখানার রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব খর্ব হয়ে এসেছে। উদ্দেশ্য-সচেতনভাবেই পিলখানার সেনা হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে। আঁটঘাট বেঁধেই ষড়যন্ত্রকারীরা এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে’- বলেও দাবি করেন রিজভী।

বিএনপির এই মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খুলনায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের সমাবেশের প্রস্তুতির প্রাক্কালে ব্যাপকভাবে খুলনা মহানগরীতে পুলিশি হামলা ও হয়রানি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে যুবদল নেতা সুমন, সিরাজুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, খায়রুজ্জামান টুকু, হারুন মোল্লা, বিএনপি নেতা শাহজাহান শেখ, জাহিদুল ইসলাম, তাঁতী দল নেতা মাসুম, ছাত্রদল নেতা শামীম আশরাফ, আসাদুজ্জামান আসাদ, বাবুলসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি পুলিশি হামলা ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলাধীন দশমিনায় স্থানীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো শেষে ফেরার পথে বানোয়াট অভিযোগে বিএনপি নেতা মো. আলীম তালুকদার এবং মো. ফখরুজ্জামান ওরফে বাদলসহ ২০/২৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে আহত করেছে। মহান ২১ ফেব্রুয়ারির পবিত্র দিনেও পুলিশ কর্তৃক বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে এই মামলা দায়ের ও হামলা চালানোর ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। এছাড়া কক্সবাজার জেলাধীন পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইকবাল হোছাইনকে রাজাখালী ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড সম্মেলন শেষ করে বাডিতে ফেরার পথে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। আমি এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ