শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

কবিতা

 দ্রুতগামী ট্রেন

কাজী রফিকুল ইসলাম

 

পৃথিবীতে কে কাকে ভালোবেসেছিল-

এখনো পর্যন্ত কে কার সাথে প্রেম করে চলেছে

এসবের কিছুই জানি না-

কিছুই দেখতে পারি না আমি। কারণ, ডাক্তার বাবু

আগে থেকেই অজ্ঞান পর্ব বেঁধে দিয়েছেন আমার

চোখের তারায়। মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নের

মধ্যে দেখি চলচ্চিত্র উৎসব। নায়ক ভিলেনের মধ্যে

দুর্দান্ত ফাইটিং। নায়িকা অক্ষত। সমাজ অক্ষত।

রাষ্ট্র অক্ষত। কখনো অজ্ঞান পর্ব কাটলে দাঁড়িয়ে

থাকি রেলস্টেশনে। দ্রুতগামী ট্রেন আসবেই।

বকুল আসবে বলেছিলো স্টেশনে। সে আসেনি।

শীতের বকুল জানে না- কতোটা প্রগাঢ় লাল

বসন্তের কৃষ্ণচূড়া। আমি লাল রক্তজবা রেখে তবু

জামার পকেটে দাঁড়িয়ে আছি প্ল্যাটফর্মে। বকুল নেই।

থাকো বকুল

থাকো ২০২১ সাল

থাকো একবিংশ শতাব্দী

আমি যাবো দূর-দূরান্তে

স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি

দ্রুতগামী ট্রেন আসবেই।

এখন বসন্ত আমার দেশে। ফুল ফুটুক না ফুটুক

এমন সংশয় নেই। ফুল ফুটেছে গাছে গাছে। শুধু 

রেল স্টেশনে অপেক্ষমান আমি এক দূরের যাত্রা।

দ্রুতগামী ট্রেন আসবেই।

মৃত্যুর গন্ধ

মুহাম্মদ রেজাউল করিম

 

পিছন থেকে মৃত্যুর গন্ধ আসে

আমি তো সামনে যাই

সামনে চলাই নিয়ম

পিছনে তাকাবো না আর

পিছনের ঘ্রাণে থেমে যায় যারা তারা তো ভীরু

আমি আর থামবো না

সামনের পথেই এগিয়ে যাবো 

হে প্রভু

আমাকে শক্তি দাও সামনে চলার

সামনের পথে শহীদের ভিড়

ডাকে ভালোবাসা নিবিড়

কে তুমি পিছনে ডাকো

আমি তো যাবো না পিছনে

পিছনের পথে কাপুরুষের মৃত্যু

আমি তো সাহসী সৈনিক

আমার দৃষ্টি সামনের পথে॥

ঝরাকাব্য

তাসনীম মাহমুদ

 

বাইরে ঝরঝর  বৃষ্টি

এই বুঝি সুখী মানুষেরা

শান্তির ঘুমে বিভোর! কেউ কেউ 

জীবিকার খোঁজে কাকভেঁজা  

ছুটছে অবিরাম যাদের দুঃখ চিরকাল 

আমার না আছে ঘুম; না আছে জীবিকার তাড়া।

তবে কি জৈবিক চাহিদার ঊর্ধ্বে বাসরত 

কোনো এক কিম্ভূতকিমাকার আমি এক?

পশু-পাখি ফড়িংয়েরও ঘর থাকে; সংসার থাকে

 

 থাকে ঘরে ফেরার তাড়া, কাম-ক্ষুধা-তৃষ্ণা

আর আমার চলেছে নাকছাবি; উল্টো রথের পালা।

জবুথবু দেহের এক জোড়া দোয়েল

জামগাছটা ছেড়ে কোথায় যেন গেলো উড়ে!

বিকেলের পর সন্ধ্যা নামে; 

ঘরে ফিরতে হয় সেস’ব ওই সুন্দর পাখিরাও জানে। 

অথচ আমার হয় নি জানা, শ্রাবণ চোখে 

এতো জল কেমন করে লুকিয়ে থাকে। 

কেমন করে কোত্থেকে এমনতর জলেরা 

মৌসুমময় জড়ো হয় মেঘের হাটে।

 

নাকি জলেরাও আমার মতো!

দেখতে চাইলে দেখা যায় না; ধরতে চাইলে 

ধরা যায় না কেবল, টুপটাপ ঝরে যায় আনমনে।

বসন্ত 

সাজিয়া ইসলাম দিবা 

 

আপন রূপের পসরা সাজিয়ে  বসন্ত এলো,

 ধরার বুকে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হলো,

এলোমেলো বাসন্তী বাতাসে, 

ভরছে চারিদিক মিষ্টি আবেশে,

কুহু কুহু কোকিল ডাকছে, 

ঋতুরাজকে স্বাগতম জানাচ্ছে,

 

আজ শুধু কৃষ্ণচূড়া পলাশের মেলা, 

 শিমুল আর হলুদ গাদায় হারিয়ে যাবার বেলা, 

গাছে গাছে গজাচ্ছে নতুন পাতা,

প্রেমিক হৃদয়ে রঙিন স্বপ্ন গাঁথা, 

কবিরা লিখছে কবিতা গাইছে গান, 

এতো সুধা প্রাচুর্যে ভরে উঠেছে প্রাণ,

থেকো তুমি সদা আমাদের মাঝে,

তোমার সৌন্দর্য  নিয়ে সকাল সাঝে,

এসেছ আবার চিরতরুণ ঋতুবতী বসন্ত,

তোমার বন্দনায় মুখরিত জগত আজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ