শনিবার ১৯ জুন ২০২১
Online Edition

মুসতাফা আনসারি'র বই বাক্স ভরা মজার ছড়া

 সিদ্দিক আবু বকর : মুসতাফা আনসারি নামটি হয়তো প্রচার সহজলভ্যতার যুগে অনেকের কাছে তেমন পরিচিত নয়। কিন্তু বোদ্ধা ছড়াপ্রেমিদের কাছে তিনি শুধু পরিচিতই নন, শ্রদ্ধায় পঠিত একজন। ছড়া নির্মাণে কিংবা ছড়ার মুখ খুঁজে পেতে এই ছড়াকারকে মাথার চুল ছিঁড়তে হয় না। হয় না নিবের ডগায় ১২০ ডিগ্রি এঙ্গেলে চাপ দিতে। ছড়ায় তিনি সহজাত সাবলীল। তাঁর কলমে শব্দ নাচে, ছড়ায় নাচান সফেদ জমিন। কী নীতি কথার ছড়া! কী ছেলে ভুলানো ননসেন্স রাইম! অবলীলায় বুনে যান ছন্দ তালে শব্দজালে।

বাক্স ভরা মজার ছড়া লেখকের প্রথম বই। হয় তো এই বইটি হতে পারত বেশ ক'টি বইয়ের পরবর্তী  বই। তিনি যতন করেন খ্যাতির আড়াল। ভালোবাসেন নীরবে  নিবিড় নির্মাণ। ছড়ার নামে যেখানে চলে অন্ত্যমিল আর পদ্যের মিছিল, সেখানে তিনি ছড়ায় অটল। যেমন তিনি লিখেন-

*বন্ধু আমার ইঞ্জিনিয়ার বাড্ডা বাড়ি

 রোজ শনিবার ওর বাড়িতে আড্ডা মারি।

 গল্প শোনায়, ছোট্ট বেলায় আম কুড়াতে

 প্রায়ই যেতো খাল পেরিয়ে রামপুরাতে

 নর্দা কুড়িল নিকুঞ্জ আর উত্তরাতে

 সবাই মিলে যেতো ওরা ভূত তাড়াতে। [উত্তরাতে ভূত তাড়াতে]

 

*গাছের ডালে কাক ছিল

  কাকা বলে ডাকছিল। 

  ভাস্তে এসে আস্তে করে বললো কানে

  আমরা তোমায় কাকা ডাকি, কাক কী জানে? [কাকের কাকা]

 

*চিতল মাছের বন্ধু কিম

 আনলো কিনে ঘোড়ার ডিম

 ঘোড়ার ডিমে তা দিলে

 ময়না তোতার ছা মিলে। [ঘোড়ার ডিম]

 

*পেটুক নানার মস্ত ভুঁড়ি 

 মাথা বড় টাক

 নানী আহা সুন্দরী সেই

 বাঁশির মতো নাক! [বাবা মায়ের প্রতিচ্ছবি]

 

বইটিতে রয়েছে বেশ কিছু ননসেন্স রাইম। রয়েছে ছেলে ভুলানো মজার মজার ছড়া-

 

*বারী ভাই তোলে হাই, হাইও

 ওর কাছে সাবধানে যাইও

 গল্প ও কথার ছলে

 যারে পায় তারে বলে

 চিরতা ভিজিয়ে পানি রোজ খাইও। [লিমেরিক]

 

*ইমরুল একা নয় পাশে বসে কামরুল

 গপাগপ খাচ্ছে পাকা পাকা জামরুল

 পাঁচ কেজি জামরুল খাওয়া শেষ হলে

 ঘাস খাওয়া ছাগলের দেয় কানমলে!

 ছাগলটা জোরেসোরে ম্যাঁ ম্যাঁ কাদে

 ভয়ে ভয়ে কামরুল উঠে পড়ে ছাদে। [ইমরুল কামরুল]

 

*নিজঝুম নিশিরাতে চোর এলো বাড়িতে

 পড়ে যান দাদুভাই ভয়ে তাড়াতাড়িতে

 ধর ধর ছুটোছুটি চোর বেটা কই রে...

 খোঁজাখুঁজি চারদিকে ওই যায় ওই রে!

 আরে আরে এ কী দেখি, হারিকেন জ্বালিয়ে 

 মামা-চাচা জড়াজড়ি, চোর গেছে পালিয়ে! [চোর গেছে পালিয়ে]

 

*সস্তায় পাচ্ছি

 বিরানি কাচ্চি

 খাচ্ছি দাচ্ছি আনন্দে নাচছি

 খেয়ে-দেয়ে একা একা হেঁটে বাড়ি যাচ্ছি

 বাড়ি গিয়ে পেটে ব্যথা, মজা টের পাচ্ছি। [মজা টের পাচ্ছি]

 

*চীনা ঘোড়া, রাশান ঘোড়া

দেশী ঘোড়াও আছে

হরেক জাতের ঘোড়া আছে

তোরাব আলীর কাছে। [তোরাব আলীর ঘোড়া]

 

এছাড়াও সুখপাঠ্য এই বইটিতে আছে হরেক রকম মজার ছড়া-

 

*তেলে ভাজা বড়া খায়, পানে খায় জর্দা

 ঢাকা শহরেই বাড়ি, বাড্ডা কি নর্দা। [তেলে ভাজা বড়া খায়]

 

*কিক মারে দেলোয়ার গোল মুখে জটলা

 খুব জোরে তেড়ে আসে ফুলব্যাক পটলা

 পটলার ধাক্কায় পড়ে গেল আক্কাস!

 আক্কাস রেগে বলে, হুদা ক্যান ধাক্কাস্ত 

 বল ধরে শট নেয়, গোল করে আব্বাস

 গ্যালারিতে রব ওঠে, "শাব্বাশ শাব্বাশ"। [শাব্বাশ আব্বাস]

সবশেষে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বইটি পড়ে ছোট বড় সব ধরনের পাঠক বেসুমার আনন্দ পাবে। প্রচ্ছদ শিল্পী নিসা মেহজাবীনের প্রচ্ছদটি আরো ভালো হতে পারত। শেখ সাদীর করা ভিতরের ইলাস্ট্রেশন বইটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। চমৎকার এই ছড়ার বইটি প্রকাশ করেছে প্রকাশক নাফে নজরুলের সপ্তডিঙা। আমি বইটির প্রচার প্রসারসহ ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা কামনা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ