বৃহস্পতিবার ০৪ মার্চ ২০২১
Online Edition

খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে দেশ ও জনগণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না -নজরুল ইসলাম খান

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০দলীয় জোটের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়। দেশবাসী অশান্তি ও কষ্টে থাকলে তাদের কিছু আসে যায় না। দুর্নীতি, অবিচার ও অনাচারে নিমজ্জিত দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা ঘোষণা দিবসের ৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (জাফর)।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) উদ্যোগের স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা ঘোষণা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও এএসএম শামীমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, আলী আব্বাস খান, মজিবুর রহমান, মাওলানা রুহুল আমিন, হোসনে আরা আহমেদ, সেলিম মাস্টার, হান্নান আহমেদ খান বাবুল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সরকার ভালো মতই জানে খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে দেশ ও জনগণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। দেশের মানুষ আজ নিরাপদ নয়। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তখনই শান্তি পাব যেদিন এদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে, জানমালের নিরাপত্তা পাবে।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়া দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার থাকা অবস্থায় স্বাধীনতার আগেই সেখানে বাংলাদেশের প্রশাসন গড়ে তুলেছিলেন। সেই জিয়াউর রহমানকে অসম্মান করার অপচেষ্টা চলছে। এই অপচেষ্টা শুধু জিয়ার বিরুদ্ধে নয়, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। জামুকা কাউকে খেতাব দেয়া বা নেয়ার ক্ষমতা রাখে না। আর যে এ প্রস্তাবটি তুলেছেন তিনিই বঙ্গবন্ধু হত্যার পর উল্লাস করেছিলেন।
২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র বলেন, ১৯৭০ সালে যারা স্বাধীন পূর্ব বাংলার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাদের নাম ইতিহাসে নেই। সূর্যের চেয়ে বড় নক্ষত্র আছে। কিন্তু সূর্য কাছাকাছি দেখে তাকেই বড় মনে হয়। আজকে যারা মুক্তিযুদ্ধের ফেরি করে বেড়ান আপনারা কি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন? যখন মনে হয় যুদ্ধে আপনাদের দেখি নাই অথচ সকল কৃতিত্বের দাবিদার তখন মনে বড় কষ্ট লাগে।
ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাস এটা। সরকারি দল বলছে, ভাষা আন্দোলনের মূল নেতা নাকী শেখ মুজিবুর রহমান। কত বড় মিথ্যা কথা। আজকে উনি বেঁচে থাকলে বলতেন, এই বেটারা করছে কী? এতো বড় মিথ্যা কথা বলছো কেমন করে। আমি তো ফরিদপুরের জেলে। আমি কেমনে করে নেতা হব। গাজীউল হকের কথা কও, ভাসানীর কথা কও, তর্কবাগিসের কথা কও। গতকাল সোমবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি এই মন্তব্য করেন।
সরকারি উদ্যোগে করোনোর টিকা প্রদান ‘সরকারের শুভ বুদ্ধির পরিচয়’ মন্তব্য করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এতোদিনে তো আপনাদেরকে মুরগীর ভ্যাকসিন নিতে হতো। যদি আমি আওয়াজ না উঠাতাম। আমি বলেছিলাম যে, ভ্যাকসিন বিনা পয়সা সরকার জনগণকে দিতে হবে।যতদিন সরকারি ভ্যাকসিন থাকবে ততদিন প্রাইভেটে ভ্যাকসিন নেয়া যাবে না। প্রাইভেটে ভ্যাকসিনের বিষয়ে আপত্তি করেছিলাম সেটাতে সরকারের একটু শুভ বুদ্ধি হয়েছিলো। আমার মনে হয় সরকারের শুভ বুদ্ধি হওয়াতে...সেজন্য যতদিন সরকারি এটা থাকবে ততদিন বেসরকারিটা হবে না।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রাইভেটে ভ্যাকসিন দিলে চুরি হবে, সরকারি ভ্যাকসিন চুরি হবে। জনগনকে প্রতারনা করে ঠিক যা হয়েছিলো পাঁচ ডলার এনে তা ৪৫ ডলারে, চার হাজার টাকা। খোঁজ নিতে পারেন কতজন নাম লেখিয়েছে গুলশান ক্লাবে। তখন শর্ট পড়লে পানি পড়া দিতো কেরানীগঞ্জের বাইরে অথবা মুরগীর ভ্যাকসিন দিতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেয়ার দাবিতে ছাত্র সমাজের সাথে সকলকে একতাবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শ দেন তিনি।
তথ্য মন্ত্রী হাসান মাহমুদের সমালোচনা করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, উনারকে আবিস্কারের জন্য নোবেল প্রাইজ দেয়া যেতে পারে, মিথ্যা কথার জন্য দেয়া যেতে পারে। উনি বলেছেন, বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নাকী শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপন করেছিলেন। এখানেও বঙ্গবন্ধু লজ্জায় মাথা কোথায় ডুবাবেন জানি না  ‘ তখন পর্যন্ত তো, ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান তো এমপিই হন নাই। তাহলে কেমন করে সংসদে প্রস্তাব করলেন। সেটা তো করেছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত যাকে পাকিস্তানিরা হত্যা করেছে। তার কথা না বলে এভাবে তারা মিথ্যাচার করছে। এর বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবানও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ