বৃহস্পতিবার ০৪ মার্চ ২০২১
Online Edition

বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে ২৪ মে -শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় বন্ধের পর আগামী ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১৭ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে ভার্চুয়ালি এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মহামারিকালের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এ সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চাশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের ১৭ মার্চ করোনার প্রাদুর্ভাব রুখতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। করোনার প্রাদুর্ভাব কমে আসায় চলতি বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার দাবি আসতে থাকে। এ নিয়ে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ফটকের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। এরপর ঢাবি, রাবিসহ আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অনেক দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদেরও গত ১৭ মার্চ থেকে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া না হলেও দেশের সব পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ২৪ মে থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি-ক্লাস কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর আগে ১৭ মে থেকে সব আবাসিক হল খুলে দেয়া হবে।
দীপু মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি-ক্লাস চালুর আগ পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস চলমান থাকলেও কোন ধরনের পরীক্ষা নেয়া যাবে না। শ্রেণি-ক্লাস খোলার পর পরীক্ষা নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ শেষ করতে হবে। ক্যাম্পাস ও হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সংস্কার কাজ করারও পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের করোনার টিকাদান নিশ্চিত করা হবে। টিকা প্রদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি-ক্লাস শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে তাদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, হল খুলে দেয়ার আগের এই সময়টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং আবাসিক হলগুলোর অবকাঠামোগত যেসব সংস্কার, মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষার্থী এখন হলে অবস্থান করলে তাদের অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে বা দলবদ্ধভাবে শিক্ষার সাথে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কবিহীন কোনো ধরনের কোনো অনৈতিক, অপরাধমূলক বা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে, সেই ধরনের কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না। আর সরকারি যে আদেশ-নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলো যদি কেউ অমান্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব শৃঙ্খলাবিধি রয়েছে, কোথাও যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বা হলে বা কোথাও- তাহলে দেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে দীপু মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে হলের বাইরে রয়েছে, বিসিএস পরীক্ষার জন্য তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। যারা অপরাজনীতি করেন, তাদের সবসময় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার একটা প্রবণতা রয়েছে। বর্তমান সরকারের সাফল্যকে কোনোভাবে ম্লান করা যাচ্ছে না, তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা কেউ করছে কিনা- তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তবে আমাদের বিবেচনায় সবচেয়ে বড় হল এই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। করোনা সংক্রমণ মোকাবেলা ও কমিয়ে আনতে সরকারের সাফল্যকে আমরা নষ্ট করে দিতে পারি না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হল নেই, যে বিশ্ববিদ্যালয়ে হল থাকবে, সেখানে টিকা নিতে হবে। ভ্যাকসিন ছাড়া কাউকে হলে উঠতে দেয়া হবে না। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যগত কারণে ভ্যাকসিন না নেয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে, তাহলে সে ভ্যাকসিন নেবে না। এর বাইরে সবাইকে ভ্যাকসিন নিয়ে হলে উঠতে হবে। কোনোভাবেই যেন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
মন্ত্রী বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো সকল পাবলিক, প্রাইভেট ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। হল খোলার প্রস্তুতিমূলক কাজ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেরামতের কাজ, স্যানিটাইজ করা, হাত ধোয়ার সব ব্যবস্থা এই সময়ের মধ্যে করে ফেলতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
স্কুল-কলেজ কবে থেকে খুলছে- সেই প্রশ্নের উত্তরে দীপু মনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা আছে। তার মধ্যেই জাতীয় পরামর্শক কমিটির সাথে আলোচনা করে স্কুল-কলেজের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠান খোলা, হল খোলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা তারিখগুলো দেব। আর যারা ভর্তি পরীক্ষা দেবে, তারা বিশ্ববিদ্যালয় বা হলের বাসিন্দা না। কাজেই তাদের সাথে এটার সম্পর্ক নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ