সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

একুশের চেতনা-মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ও স্বাধীনতার প্রত্যাশা আজকে ভূলুণ্ঠিত

গতকাল সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : একুশের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীনতার প্রত্যাশা আজকে ভূলুণ্ঠিত বলে অভিযোগ বিএনপির। গতকাল সোমবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপির নেতারা এই অভিযোগ করেন। তারা বলেন, গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে সরকার একুশের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং স্বাধীনতার প্রত্যাশাকে ভুলন্ঠিত করছে। স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা এভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বেগম সেলিমা রহমান বক্তব্য রাখেন।
গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে সরকার একুশের চেতনাকে ভুলন্ঠিত করেছে অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে এদেশে ৫০ বছরের প্রাক্কালে আমরা বেদনার সাথে বলতে বাধ্য হই যে, একু্শরে চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আকাংখা, স্বাধীনতার প্রত্যাশা আজকে ভুলণ্ঠিত। কারা ভুলণ্ঠিত করেছে? আজকে যারা সরকারে তারা শুধু মাত্র গায়ের জোরে স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা এভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এই আওয়ামী লীগ দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ধবংস করে দিয়েছে এবং দলীয়করণ করে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধবংস করে দিয়ে আজকে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে পরিচালিত করছে। এই সরকার শুধু মাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য লোভে পড়ে আমাদের সকল অর্জনকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা দেখতে পাই, গণতন্ত্রহীনতা, বিচারহীনতা, দলীয়করণ-এমন অবস্থায় নিয়ে আমাদেরকে ফেলেছে যেখানে দেশে নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা-গুম-খুন, চাঁদাবাজী-টেন্ডারবাজী-ক্যাসিনোবাজী, দুর্নীতিসহ হেন অপকর্ম নাই যে বাংলাদেশে হচ্ছে না। বিরোধী দলকে এই সরকার দাবিয়ে রাখার জন্য সব কিছু করছে। বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখের উপরে মামলা, ৩৫ লক্ষের উপরে আসামী। গুম-খুন-বিচারবর্হিভূত হত্যার শিকার এই দলের নেতা-কর্মীরা। আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি বানোয়াট মামলায় তাকে আজকে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিন্ন আদালতে যে রায়ে তিনি খালাস হয়েছেন সেটাকে উচ্চ আদালতে নিয়ে সেই আদালতকে প্রভাবিত করে তাকে আবার সাজা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে আমাদেরকে কথা বলতে দেয়া হয় না। আজকে কী অবস্থা? দেশে গণতন্ত্র নাই, মানুষের অধিকার নাই,মানুষের প্রত্যাশা পুরণ হয় নাই। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে তো মানুষের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছিলো আমাদের বীর বাঙালীরা। আজকে যখন আমরা রাস্তায় কথা বলতে যাই, সামান্য প্রতিবাদ করতে যাই আপনাদের সহ্য হয় না। এজন্য যে, আপনারা (ক্ষমতাসীন দল) দূর্বল। বিএনপিকে দূর্বল ভাবার কোনো কারণ নাই। বিএনপি যদি দুর্বল হবে তাহলে ২৯ তারিখ রাত্রে আপনারা ভোট ডাকাতি করেছেন কেনো, বিএনপি যদি দুর্বল হবে রাস্তায় আমাদের বক্তৃতা পুলিশ দিয়ে মাঝপথে থামালেন কেনো? কারণ আপনারা বিএনপিকে ভয় পান, জনগণকে ভয় পান।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আন্দোলনের জন্যে জনগনকে ‘ইস্পাত কঠিন ঐক্য’ গড়ে তোলার আহবান জানান খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ সেই সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। যদি ভাষা আন্দোলন সঠিক হয়ে থাকে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সঠিক হয়ে থাকে, আমাদের স্বাধীনতা সঠিক হয়ে থাকে তাহলে এদেশে গণতন্ত্র আমাদেরকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে, এদেশের জনগনের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা যে ভাষার জন্য লড়াই করেছি, যে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি, বিজয় আমাদের সূচিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা এখনো অর্জিত হয়নি, সার্বভৌমত্ব এখন হুমকির মুখে। আমি বলতে চাই, সকলকে কাজে-কর্মে সক্রিয় হয়ে সামনে আসতে হবে। আপনারা যদি আসেন, আমরাও সামনে রেখে কিছু একটা করতে পারি। এই ফ্যাসিবাদী মাফিয়া সরকারকে আর বেশিদিন ক্ষমতায় রাখা যাবে না। তাহলে আমার আম-ছালা সবই যাবে, দেশও যাবে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও যাবে, আর ভাষাও যাবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ অর্জন যেমন আমাদের ভাষার অধিকার তেমনি শ্রেষ্ঠ অর্জন ছিলো আমাদের স্বাধীনতার প্রাপ্তি। যেই স্বাধীনতার আড়ালে ছিলো একটি চিন্তা- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাটা আমরা এখনো প্রতিষ্ঠিত করতে পারি নাই। গণতন্ত্র বিহীন রাষ্ট্রে বসবাস করা আর পরাধীন দেশের নাগরিকের সাথে খুব একটা আলাদা ভাবা যায় না। দেশটা স্বাধীন কাগজে-কলমে কিন্ত আমরা পরাধীন। মাঝে মাঝে মনে হয় যে, সাত সাগর পাড়ি দিয়ে মনে হয় আমরা সৈকতেই পড়ে আছি। আমরা অনেক জীবন, আমাদের অনেক সাথী রক্ত দিলো, অত্যাচারিত হলো কিন্তু আজো সেই গণতন্ত্রকে আমরা মুক্ত করতে পারলাম না।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবদুল মঈন খান বলেন, ভাষা আন্দোলন কারা কেের্ছন সেটা আমরা সবাই জানে। আজকে নতুন নতুন নাম শুনি, তারা নাকী একু্শে ভাষা আন্দোলনে বিরাট ভুমিকা পালন করেছিলেন। আমি তাদের নাম উল্লেখ করতে চাই না। শুধু এইটুকু বলব যে, জোর করে ইতিহাস লেখা যায় না। ভাষা আন্দোলনে যাদের অবদান সেই অবদানের তালিকায় নতুন করে নাম য্গো করার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। হাস্যকর হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মিথ্যা দ্বারা প্রভাবিত করে তাদেরকে মিথ্যা ইতিহাস শেখানোর প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে একটি জাতিকে প্রতারিত করা যায় না। এদেশের মানুষ অতীতে রুখে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতে রুখে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আপনারা শুনেছেন জোর করে নতুন ইতিহাস লেখা হচ্ছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি বলেছিলেন, আই রিভোল্ট এবং যিনি সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেছিলেন, তিনি যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন, জয়লাভ করে দেশে বিজয়ীর বেশে ফিরে এসেছিলেন।এদেশের মানুষ ভালোেেব্স তাকে বীর উত্তম উপাধি দিয়েছিলো। সেই উপাধি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কী হচ্ছে? ইতিহাসকে বদলে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি যেমন একটি উদাহরণ একদিকে। অন্য উদাহরণ আমি দিয়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ