সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

উন্নীত হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেড ও বেতন স্কেল

স্টাফ রিপোর্টার : কর্মচারীদের পদবি ও বেতন স্কেল পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে প্রশাসনে নতুন পদ সৃষ্টি, পদোন্নতি একইসঙ্গে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের প্রস্তাব সংক্রান্ত ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন করেছেন।
 অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিও  গেছে। এর মধ্য দিয়ে আপাতত প্রশাসনের ১৩ থেকে ১৫তম গ্রেডের কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন হচ্ছে। উন্নীত হচ্ছে তাদের বেতন স্কেলও। একই সঙ্গে প্রশাসনের ১১তম গ্রেডের কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, গত ২০ বছর যাবত এসব দাবি নিয়ে আন্দোলন করছিলেন মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। এর মধ্য দিয়ে তাদের আন্দোলনেরও ইতি টানা হলো। ইতোমধ্যেই সরকারি কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেসব বৈঠকে কর্মচারীদের এসব দাবি নিয়েই আলোচনা হয়েছে এবং ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বাজেটে সরকারের এ সংক্রান্ত দিক নির্দেশনা থাকবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের আটটি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নবম গ্রেডের আটটি শাখার কর্মকর্তা বা সেকশন অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ পদে নিযুক্ত কর্মচারীরা সরকারের দেওয়া নবম গ্রেডের বেতন-ভাতাসহ সব সুবিধা পান। বিশেষ ক্যাটাগরিতে (ক) ছয় জেলার প্রতি জেলায় তিনটি করে মোট ১৮টি শাখা কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি হচ্ছে। (খ) ক্যাটাগরির ২৬ জেলার প্রতি জেলায় দুটি করে ৫২টি, (গ) ক্যাটাগরির ছয় জেলার প্রতিটিতে একটি করে ছয়টি এবং ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় একটি করে মোট ৬৪টিসহ সর্বমোট ২১৮টি শাখা কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তার (এও) পদ সৃষ্টি হচ্ছে ৪৭০টি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে শিগগিরই। উল্লেখ্য, বর্তমানে মাঠ প্রশাসনের কার্যালয়গুলোয় প্রশাসনিক কর্মকর্তার (এও) পদ আছে মাত্র ৮৩টি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধান সহকারী (গ্রেড-১৪), ট্রেজারি হিসাবরক্ষক (গ্রেড-১৪), সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৪), পরিসংখ্যান সহকারী (গ্রেড-১৪) এবং উচ্চমান সহকারী (গ্রেড-১৫) পদগুলোর বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেডে উন্নীত হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত সিএ কাম উচ্চমান সহকারী (গ্রেড-১৩), সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩), প্রধান সহকারী (গ্রেড-১৪), সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৪) এবং উচ্চমান সহকারী (গ্রেড-১৫) পদগুলোর নাম পরিবর্তন করে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা করা হচ্ছে। এরা সবাই ১৩তম গ্রেডের বেতন স্কেলে বেতন-ভাতা পাবেন। এ ছাড়াও ১৩, ১৪ ও ১৫তম গ্রেডের কর্মচারী অর্থাৎ অফিস সহকারী কাম উচ্চমান সহকারী (গ্রেড-১৩), সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩), প্রধান সহকারী (গ্রেড-১৪), ট্রেজারি হিসাবরক্ষক (গ্রেড-১৪), সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৪), পরিসংখ্যান সহকারী (গ্রেড-১৪) এবং উচ্চমান সহকারী (গ্রেড-১৫) পদধারীদের পদও পরিবর্তন করে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ( গ্রেড-১৩) করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, মাঠ প্রশাসনে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা। মাঠ প্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সরকারের নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সমন্বয়সহ যাবতীয় কার্যক্রম চলে। এসব কার্যালয়ে কর্মরতরা উল্লিখিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পর ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সচিবালয় এবং সরকারের অনেক দফতরের কর্মচারীদের পদ পরিবর্তন, বেতন স্কেল উন্নীতকরণ ও পদোন্নতির বিধিমালা যুগোপযোগী করা হলেও মাঠ প্রশাসনের কার্যালয়গুলোর কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন, বেতন স্কেল উন্নীত করা হয়নি। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন, বেতন স্কেল উন্নীতকরণসহ নিয়োগবিধি সংশোধন বা নতুন করে প্রণয়ন করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়। একই বছরে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন গ্রেড অনুযায়ী পদের নাম পরিবর্তন এবং সচিবালয়ের কর্মচারীদের মতো পর্যায়ক্রমে পদোন্নতির জন্য নিয়োগবিধি তৈরির সিদ্ধান্ত হয় বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়োগবিধি পরিবর্তন করে ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন ও বেতন স্কেল উন্নীত না হলে আবারও আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসাস) নেতারা।
এ প্রসঙ্গে বাকাসাসের সভাপতি আকবর আলী জানিয়েছেন, আমাদের দাবি-দাওয়ার বিষয় সংক্রান্ত ফাইলের সারসংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। জনপ্রশাসন এগুলো নিয়ে কাজ করছে। তবে নিয়োগবিধি সংশোধন না করলে কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকরা কোনও সুবিধাই পাবে না। এদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার। আমরা প্রায় ২০ বছর ধরে আমাদের পদবি পরিবর্তন ও বেতন স্কেল উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছি। এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলি কদর জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টরা কাজ করছি। সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই কর্মচারীদের দাবি পূরণ হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ও অর্থ বিভাগের সম্মতি পাওয়া গেছে। মাঠ প্রশাসনে নতুন পদ সৃষ্টি ও বেতন স্কেল পরিবর্তনের কাজ চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ